Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: নভেম্বরের মাঝামাঝি এলেই রাতের (Leonid Meteor Shower) আকাশ যেন নতুন করে রূপকথা সাজিয়ে তোলে। এ বছরও তার ব্যতিক্রম নয়। বছরের অন্যতম আকর্ষণীয় উল্কাবৃষ্টি-লিওনিড মেটিওর শাওয়ার-ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। সপ্তাহান্তে এর সৌন্দর্য চরমে পৌঁছবে। বিজ্ঞানীদের মতে, আকাশের দিকে তাকালেই মিনিটে কয়েকটি করে আলোর রেখা ছুটে যেতে দেখা যাবে। যারা জ্যোতির্বিদ্যার প্রেমী নন, তারাও এ দৃশ্যের মোহে পড়বেন নিঃসন্দেহে।
কখন দেখা যাবে সবচেয়ে সুন্দর উল্কাপাত? (Leonid Meteor Shower)
বিজ্ঞানীদের পূর্বাভাস বলছে, ১৬ নভেম্বর রবিবার রাত থেকে ১৭ নভেম্বর (Leonid Meteor Shower) ভোর পর্যন্ত আকাশে চোখ রাখলেই সবচেয়ে স্পষ্ট উল্কাপাত ধরা পড়বে। ঘণ্টায় প্রায় ১৫ থেকে ২০টি উল্কা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে জ্বলে উঠতে পারে। ভোরের দিকে চাঁদ ওঠার সময় খুবই ক্ষীণ থাকবে, ফলে আলোর বাধাও তেমন থাকবে না। তাই রাতজাগা মানুষদের জন্য থাকবে স্বপ্নময় দৃশ্য দেখার সুযোগ।

কেন ঘটে এই উল্কাবৃষ্টি? (Leonid Meteor Shower)
লিওনিড উল্কাপাতের উৎস বহু পুরোনো (Leonid Meteor Shower)। ৫৫পি/টেম্পল-টাটল নামে একটি ধূমকেতু যখন সূর্যের কাছে আসে, তখন তার কক্ষপথে বরফ ও ধূলিকণার দীর্ঘ লেজ তৈরি করে। পৃথিবী প্রতিবছর নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে সেই লেজের কাছে এসে পড়ে। তখনই ছোট-বড় অগণিত কণা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ঢুকে পুড়ে যায়, আর আমরা দেখতে পাই উল্কার আলোকরেখা। ধূমকেতুটি প্রায় তিন দশক অন্তর সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে, তাই তার ফেলে যাওয়া লেজের ঘনত্বও সময়ে সময়ে বাড়ে বা কমে। এ বছর তুলনামূলকভাবে লেজ ঘন হওয়ায় দৃশ্য আরও স্পষ্ট হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

কোথায় তাকালে সবচেয়ে ভালো দেখা যাবে?
লিওনিডের নাম এসেছে নক্ষত্রমণ্ডল ‘লিও’ অর্থাৎ সিংহরাশি থেকে। আকাশে তাকালে মনে হবে উল্কাগুলি যেন সিংহের মাথা দিক থেকেই ছুটে আসছে। রবিবার রাতে সিংহরাশি আনুমানিক সাড়ে ১১টা নাগাদ দিগন্তের উপর উঠবে এবং রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও ওপরে উঠবে। ফলে রাত যত গড়াবে, দৃশ্যও তত উজ্জ্বল হবে। বাংলার যেকোনও জায়গা থেকে পরিষ্কার আকাশ পেলেই এটি দেখা সম্ভব।

আরও পড়ুন: Chirag Paswan: জোটে ফিরেই ভোটে বাজিমাত চিরাগের!
আসলে কি সত্যিই সিংহরাশি থেকে উল্কা বেরোয়?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি দৃষ্টিভ্রম। পৃথিবী তার কক্ষপথে ঘুরতে ঘুরতে এমন এক বিশেষ অংশে পৌঁছায় যেখানে সিংহরাশির দিকেই পৃথিবীর সামনের অংশ থাকে। তাই মনে হয় উল্কাগুলি ওই নক্ষত্রমণ্ডল থেকেই নির্গত হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে এগুলি ধূমকেতুর ছড়ানো ধূলিকণা, যে কেবল সেই দিক থেকেই পৃথিবীর দিকে আঘাত করে।

আরও উল্কাবৃষ্টি আসছে
ডিসেম্বরের মাঝামাঝি আবার দেখা যাবে জেমিনিড উল্কাপাত। তবে সেই কণাগুলি তুলনায় ছোট হওয়ায় আলোর রেখা দ্রুত মিলিয়ে যায়। কিন্তু লিওনিডের উজ্জ্বল ও দীর্ঘ আলোকরেখাই বেশি নজরকাড়া। তাই রবিবার রাতই এ বছরের সেরা মহাজাগতিক প্রদর্শনী হতে চলেছে। রাতজাগা একটু কঠিন হলেও-মহাজাগতিক সৌন্দর্যের জন্য তা নিশ্চয়ই সার্থক হবে।


