Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: আরব দুনিয়ায় ক্রমবর্ধমান যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি এখন কার্যত অতি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পরিণত হয়েছে (LPG Supply)। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের এক বড় অংশ, বিশেষ করে তেল ও গ্যাস পরিবহণ এই পথের উপর নির্ভরশীল হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে বিশ্বজুড়ে। একাধিক তেলের ট্যাঙ্কার ও এলপিজি বাহক জাহাজ জলপথে অনিশ্চয়তার কারণে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না, ফলে সরবরাহ শৃঙ্খলেও ধাক্কা লেগেছে।

আংশিক স্বস্তি, তবুও কাটেনি সঙ্কট (LPG Supply)
যদিও সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এবং কয়েকটি তেল ও এলপিজি ট্যাঙ্কার নিরাপদে ভারতে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে, তবুও সামগ্রিক সঙ্কট এখনও কাটেনি। বরং নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকে থাকা আরও কয়েকটি ভারতীয় জাহাজকে ঘিরে।
নজরে দুই গুরুত্বপূর্ণ জাহাজ (LPG Supply)
আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক ট্র্যাকিং সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির উপকূল সংলগ্ন এলাকায় নোঙর করা ভারতীয় পতাকাবাহী দুই এলপিজি ট্যাঙ্কার ‘পাইন গ্যাস’ এবং ‘জগ বসন্ত’, খুব শীঘ্রই হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। মেরিন ট্রাফিকের ডেটা অনুযায়ী, জাহাজ দুটি ইতিমধ্যেই তাদের গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করার সংকেত পাঠিয়েছে। ব্যবসায়িক মহলের অনুমান, খুব শীঘ্রই তারা যাত্রা শুরু করতে পারে।
জানা গিয়েছে, ‘জগ বসন্ত’ ট্যাঙ্কারটি ভাড়া নিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা Bharat Petroleum Corporation Limited, অন্যদিকে ‘পাইন গ্যাস’ পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে Indian Oil Corporation। এই দুটি জাহাজেই প্রায় ৪৫ থেকে ৪৬ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি বহন করা হচ্ছে বলে অনুমান করা হচ্ছে, যা দেশের জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সরকারের কড়া নজর ও কূটনৈতিক তৎপরতা (LPG Supply)
এই পরিস্থিতিতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। কেন্দ্রীয় নৌপরিবহন মন্ত্রকের বিশেষ সচিব রাজেশ কুমার সিনহা জানিয়েছেন, জাহাজগুলির চলাচল সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট তথ্য এখনও হাতে না এলেও বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। একইসঙ্গে বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থানরত ভারতের মোট ২২টি জাহাজের নিরাপদ ও বাধাহীন চলাচল নিশ্চিত করাই সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার।
এই প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইতিমধ্যেই একাধিক দেশের রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করেছেন। কূটনৈতিক স্তরে জোর তৎপরতা চালানো হচ্ছে যাতে ভারতীয় জাহাজগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় এবং কোনও রকম সামরিক সংঘর্ষের মধ্যে তারা না পড়ে।
ইরান–মার্কিন উত্তেজনায় নতুন সমীকরণ (LPG Supply)
এদিকে, আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রেক্ষাপট আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ইরানের তরফে জানানো হয়েছে, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের ট্যাঙ্কারগুলির উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগছি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, “হরমুজ খোলা রয়েছে, কিন্তু যারা আমাদের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিচ্ছে, তাদের জন্য এই পথ বন্ধ।”
সাম্প্রতিক হামলা-পাল্টা হামলায় উত্তেজনা চরমে (LPG Supply)
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইউনাইটেড স্টেটস ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের উপর বড়সড় সামরিক হামলা চালায়। এই হামলার জেরে ইরানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। পাল্টা প্রতিশোধ হিসেবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত একাধিক মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালায়। এই আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণের জেরে গোটা অঞ্চলে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে।
এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল, জ্বালানির বাজার এবং বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্য পরিবহণ ব্যবস্থার উপর। তেল ও গ্যাসের আন্তর্জাতিক দাম দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে, যার প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতেও পড়তে শুরু করেছে।
২২টি ভারতীয় জাহাজ আটকে (LPG Supply)
বর্তমানে উপসাগরীয় অঞ্চলে মোট ২২টি ভারতীয় জাহাজ আটকে রয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে এলপিজি ট্যাঙ্কারগুলির গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি, কারণ এগুলির উপর নির্ভর করছে দেশের একটি বড় অংশের জ্বালানি চাহিদা। ইতিমধ্যেই ‘শিবালিক’ ও ‘নন্দাদেবী’ নামের দুটি জাহাজ নিরাপদে হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে গুজরাতে পৌঁছেছে, যা কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে।
তবে এখনও ‘পাইন গ্যাস’, ‘জগ বসন্ত’, ‘বিডব্লিউ এল্ম’, ‘বিডব্লিউ লয়্যালটি’, ‘গ্রিন সাংভি’, ‘জগ বিক্রম’ এবং ‘গ্রিন আশা’ সহ একাধিক জাহাজ ওই অঞ্চলে অবস্থান করছে। এর মধ্যে অন্তত চারটি ভিএলজিসি অর্থাৎ Very Large Gas Carrier, যা বিপুল পরিমাণ এলপিজি বহনে সক্ষম। বাকি জাহাজগুলি মাঝারি আকারের গ্যাস ক্যারিয়ার।
আরও পড়ুন: Weather Kolkata: ঈদের দিন, রাতভর বৃষ্টি সঙ্গে দমকা হাওয়া, আজও কালবৈশাখীর সম্ভাবনা
জ্বালানি নিরাপত্তায় বড় ধাক্কার আশঙ্কা
সব মিলিয়ে এই ট্যাঙ্কারগুলি প্রায় ৩.৩৪ লক্ষ মেট্রিক টন এলপিজি বহন করছে, যা ভারতের মাসিক চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশের সমান। তুলনায়, সম্প্রতি ভারতে পৌঁছনো ‘শিবালিক’ ও ‘নন্দাদেবী’ জাহাজ দুটি প্রায় ৪৬ হাজার মেট্রিক টন করে এলপিজি বহন করেছিল।
ফলে স্পষ্ট, হরমুজ প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতি শুধুমাত্র একটি আঞ্চলিক সংঘাত নয়, বরং তা সরাসরি ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার উপর প্রভাব ফেলতে পারে। এখন গোটা নজর ‘পাইন গ্যাস’ ও ‘জগ বসন্ত’-এর গতিপ্রকৃতির দিকে—তারা কবে এবং কতটা নিরাপদে এই ঝুঁকিপূর্ণ জলপথ অতিক্রম করতে পারে, সেটাই দেখার।



