Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দুর্গাপুজো মানেই নতুন পোশাক, মণ্ডপে (Mahamaya Mystery) মণ্ডপে ঠাকুর দেখা আর উৎসবের আনন্দে মেতে ওঠা। তবে প্রতিমা দর্শনের সময় এমন কিছু বিষয় চোখে পড়ে, যার অর্থ অনেকেরই অজানা। মা দুর্গার মুখের দিকে ভালো করে তাকালে নাকের কাছে, কপালের ঠিক নীচে একটি কালচে চিহ্ন দেখতে পাওয়া যায়। বিশেষ করে ডাকের সাজে তৈরি প্রতিমায় এই চিহ্নটি নজরে আসে। অনেকের ধারণা, এটি মাকড়সা বা উর্ণনাভের প্রতীক। কিন্তু দেবীর মুখে এমন চিহ্ন রাখার তাৎপর্য কী?
ধর্মীয় ব্যাখ্যা (Mahamaya Mystery)
প্রচলিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা ও লোকবিশ্বাস (Mahamaya Mystery) অনুসারে, এই চিহ্নের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দেবী দুর্গার মহামায়া রূপের ধারণা। মহালয়রা ভোরে আমরা সকলেই শুনি, “মহামায়া সনাতনী, শক্তিরূপা, গুণময়ী।
তিনি এক, তবু প্রকাশ বিভিন্ন-” হিন্দু দর্শনে মহামায়া হলেন সেই আদ্যাশক্তি, যাঁর মাধ্যমে জগৎ ও জীবনের নানা রূপ প্রকাশিত হয়। মানুষের জীবনও যেন এক অদৃশ্য মায়ার জালে আবদ্ধ। সেই জাল থেকে বেরিয়ে সত্যকে উপলব্ধি করাই আধ্যাত্মিক সাধনার অন্যতম লক্ষ্য।
মায়া তাঁরই শক্তির অধীন
এখানেই মাকড়সার প্রতীকের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। মাকড়সা নিজেই নিজের জাল তৈরি করে এবং সেই জাল বিস্তার করে। কিন্তু জাল তৈরি করলেও সে তার মধ্যে সম্পূর্ণভাবে আবদ্ধ হয়ে পড়ে না। একইভাবে, ধর্মীয় ব্যাখ্যায় দেবী মহামায়া এই জগতের মায়া সৃষ্টি করলেও তিনি নিজে সেই মায়ার দ্বারা আবদ্ধ নন। বরং সমস্ত মায়া তাঁরই শক্তির অধীন। এই বিশ্বাস অনুযায়ী, মাকড়সার চিহ্ন দেবীর সেই অসীম ক্ষমতারই প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।
আরও পড়ুন: Mahasasthi Horoscope: ষষ্ঠীতে বড় সুখবর, জেনে নিন আজকের ভাগ্যফল
দুর্গাপুজোকে ঘিরে বাংলার নানা প্রাচীন লোকাচারেও মাকড়সাকে নিয়ে বিশেষ বিশ্বাস প্রচলিত রয়েছে। অনেক বাড়ির বয়স্ক মানুষের মুখে শোনা যায়, পুজোর সময় বাড়িতে মাকড়সা দেখা গেলে তাকে অশুভ মনে করে তাড়িয়ে দেওয়া উচিত নয়। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, দেবী দুর্গা কোনও প্রতীকী রূপে বাড়িতে এসেছেন বলেই এমন ধারণা তৈরি হয়েছে।


