Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ফের জাতিবিদ্বেষ। ফের রক্ত ঝরল এক তরুণ প্রাণের। ভাই, বাবাদের নৃশংসতার জবাবে ২০ বছরের প্রেমিকের মৃতদেহকেই বিয়ে করল তার ফার্স্ট ইয়ারে পাঠরতা প্রেমিকা। মহারাষ্ট্রের নান্দেরের ঘটনা(Maharashtra)।
প্রেমিকের মৃতদেহকেই বিয়ে! (Maharashtra)
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নান্দেরের বাসিন্দা সক্ষম তাটেকে হত্যা করে তাঁর প্রেমিকা আঁচল মামিদ্বারের বাবা ও ভাইরা বলে অভিযোগ। এর পরের দিন প্রেমিকের মৃতদেহকেই বিয়ে করেন আঁচল। সোমবার দুই পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুললেন আঁচল। তাঁর অভিযোগ, সক্ষমকে পিটিয়ে খুন করার জন্য তাঁর ভাইদের নাকি ওই পুলিশকর্মীরাই উস্কানি দেন।
‘বিশ্বাসঘাতকতা করে পরিবার’ (Maharashtra)
আঁচল জানিয়েছেন, তাঁর পরিবার তাঁদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। তাঁর দাবি, প্রথমে তাঁদের সম্পর্ক মেনে নেয়নি পরিবার। মূল আপত্তি ছিল জাতের পার্থক্য। মমিদ্বাররা হলেন বিশেষ অনগ্রসর জাতি। অন্যদিকে সক্ষম তাটেরা ছিলেন ‘জয় ভিমওয়ালা’ অর্থাৎ, দলিত। পরে ধীরে ধীরে তাদের সম্পর্ক মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিল তাঁর পরিবার। সক্ষমের সঙ্গে স্বাভাবিক ভাবে মেলামেশা শুরু করেছিল তাঁর পরিবারের সদস্যরা। আঁচলের বাবা নাকি সক্ষমকে বলেছিলেন, আঁচলকে বিয়ে করতে গেলে তাঁকে ধর্ম বদলে হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করতে হবে। তাতে রাজিও হয়েছিল সক্ষম। আঁচল বলেছেন, ‘আমার ভাইয়েরা আমায় বলেছিল ওরাই আমাদের বিয়ের আয়োজন করবে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ওরা আমাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।’
‘ভাইকে উস্কানি দেয় ২ পুলিশকর্মী’ (Maharashtra)
স্থানীয় থানার দুই পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে তাঁর ভাইদের হত্যা করতে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে আঁচলের। খুনের দিন সকালে ছোট ভাই তাঁকে থানায় নিয়ে গিয়ে সক্ষমের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করতে বলে। আঁচল রাজি না হলে থানায় উপস্থিত ওই দুই পুলিশকর্মী তাঁর ভাইকে সক্ষমকে খুনের উস্কানি দেয় বলে অভিযোগ। জবাবে আঁচলের ভাই নাকি বলে, সন্ধ্যার মধ্যে ওকে মেরে তবেই তোমাদের মুখ দেখাব।
আরও পড়ুন: Khaleda: সঙ্কটজনক খালেদা : দেশবাসীর ‘দোয়া’ চায় দল বিএনপি
সক্ষমকে পিটিয়ে খুন (Maharashtra)
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সক্ষমকে বেধড়ক মারধর করে আঁচলের ভাই হিমেশ ও সাহিল এবং তাঁর বাবা গজানন মামিদ্বার। হিমেশের বিরুদ্ধে সক্ষমকে গুলি করার অভিযোগও উঠেছে। গুলি সক্ষমের পাঁজরে লাগে। হিমেশ একটি টালি দিয়ে সক্ষমের মাথায় আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। হিমেশ, সাহিল এবং জানন মামিদ্বার-সহ আরও তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে হত্যা, এসসি/এসটি (নৃশংসতা প্রতিরোধ) আইন এবং অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে।
দোষীদের ফাঁসি চান আঁচল (Maharashtra)
আঁচলের পরিবার তার জন্য বাড়ির দরজা বন্ধ করেছে। সক্ষমের পরিবারেই এখন থেকে তিনি থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন দোষীদের ফাঁসি চান। ন্যায়বিচার পাবেনই এই বিষয়ে নিশ্চিত আঁচল। হিংসা-জাতিবিদ্বেষের মধ্যেই আঁচলের এই অবস্থান সমাজে এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবেই স্থান করে নিয়েছে।



