Last Updated on [modified_date_only] by Sumana Bera
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পশ্চিমবঙ্গের এক প্রত্যন্ত গ্রাম মহিষবাথান (Mahishbathan)। যেখান থেকে কাঠের ছেনি আর রঙের তুলিতে গড়ে উঠছে আন্তর্জাতিক শিল্পের এক নিদর্শন। একসময়ের লোকশিল্প আজ পেয়েছে GI ট্যাগ, আর সেই মুখোশ এখন পাড়ি দিচ্ছে প্যারিস, লন্ডনের মঞ্চে। পুজোর মুখে তুঙ্গে চাহিদা, দিনরাত এক করে কাজ করছেন ব্যস্ত শিল্পীরা।
দীপাবলী ঘিরে যখন গোটা বাংলাজুড়ে উৎসবের প্রস্তুতি, তখন দক্ষিণ দিনাজপুরের মহিষবাথান গ্রামে এক অন্যরকম ব্যস্ততা। কাঠ বা বাঁশের মোটা অংশের উপর নিপুণ হাতে চলছে শিল্পীর খুদে হাতিয়ার। ধীরে ধীরে তাতেই ফুটে উঠবে কোনও দেবদেবী কিংবা কাল্পনিক কোনও মুখ। এই মুখোশ তৈরি করেই দীর্ঘদিন ধরে জীবিকা নির্বাহ করছেন মহিষবাথান (Mahishbathan) গ্রামের শিল্পীরা। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বহন করে চলেছে এক ঐতিহ্য। এই ছোট্ট গ্রাম আজ পরিচিত ‘মুখোশের গ্রাম’ নামে। স্বীকৃতি পেয়েছে দেশ-বিদেশে। বিশেষত এই শিল্প GI ট্যাগ পাওয়ার পর থেকে আরও কদর বেড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে।
কালীপুজোর মরশুমে চাহিদা বেশি (Mahishbathan)
বর্তমানে মহিষবাথানে (Mahishbathan) প্রায় ৪০০–৫০০ জন মানুষ এই মুখোশ শিল্পের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত রয়েছেন। মুখোশের দাম শুরু হচ্ছে কয়েক হাজার টাকা থেকে, তবে বিশেষ নকশা ও শিল্পমান অনুসারে কিছু মুখোশের দাম পৌঁছে যাচ্ছে ২০ থেকে ৩০ এমনকি ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত। কালীপুজোর মরশুমে সবচেয়ে বেশি চাহিদা থাকে এই শিল্পের। সবচেয়ে বেশি অর্ডার আসে কালীঠাকুরের মুখোশের জন্য। শিল্পীরা জানাচ্ছেন, ফ্রান্সের প্যারিস, ব্রিটেনের লন্ডন-সহ বিশ্বের বহু শহরে এই মুখোশ রপ্তানি হচ্ছে।

আরও পড়ুন:Kali Puja: কালীপুজোর প্রস্তুতিতে ব্যস্ত কুমোরটুলি, টানা বৃষ্টিতে চিন্তায় মৃৎশিল্পীরা
শুধু তাই নয়, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যোগে কলকাতার আসন্ন ‘মিলনমেলা’য় এই মুখোশের প্রদর্শনী ও বিক্রির বিশেষ ব্যবস্থা থাকছে। সেখানেও দেশ–বিদেশের ব্যবসায়ীরা উপস্থিত থাকেন, ফলে চাহিদা আরও বাড়বে বলেই আশা শিল্পীদের।


