Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: স্তন ক্যানসার মানেই শুধু (Male Breast Cancer) নারীর রোগ এই ধারণা বহুদিনের। কিন্তু চিকিৎসক ও ক্যানসার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। পুরুষদের শরীরেও স্তন টিস্যু থাকে, যদিও তা নারীদের মতো পূর্ণ বিকশিত হয় না। আর সেই কারণেই পুরুষদেরও স্তন ক্যানসারের আশঙ্কা থেকে যায়। তবে সচেতনতার অভাব, সামাজিক লজ্জা ও উপসর্গ সম্পর্কে অজ্ঞতা- এই রোগকে পুরুষদের মধ্যে অনেকাংশে আড়ালেই রাখে।
‘স্তন ক্যানসার সচেতনতার মাস’ (Male Breast Cancer)
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (Male Breast Cancer) প্রতি বছর অক্টোবর মাসকে ‘স্তন ক্যানসার সচেতনতার মাস’ হিসেবে পালন করে। মূলত এই মাসে বিশ্বজুড়ে পুরুষ ও নারী উভয়ের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা হয়। ‘দ্য ল্যানসেট’-এর একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে যত স্তন ক্যানসারের ঘটনা ঘটে, তার প্রায় ১ শতাংশই পুরুষদের মধ্যে। সংখ্যাটি তুলনামূলকভাবে কম হলেও, বিপদ লুকিয়ে থাকে রোগ ধরা পড়তে দেরি হওয়ায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ক্যানসারটি শনাক্ত হয় উন্নত পর্যায়ে, যখন চিকিৎসা অনেক জটিল হয়ে যায়।
জেনেটিক পরিবর্তন (Male Breast Cancer)
ভারতেও এই প্রবণতা (Male Breast Cancer) বাড়ছে। চিকিৎসকদের মতে, সাধারণত ৫০ থেকে ৬০ বছর বয়সী পুরুষরা এই রোগে বেশি আক্রান্ত হন। অ্যান্ড্রোমিডা ক্যানসার হাসপাতালের ব্রেস্ট ক্যানসার সেন্টারের প্রধান ডাঃ বৈশালী জামরের মতে, পুরুষদের স্তন ক্যানসারের অন্যতম কারণ হল জেনেটিক পরিবর্তন, বিশেষত BRCA জিন মিউটেশন, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, স্থূলতা এবং লিভারের সমস্যা।
সম্ভাব্য ক্যানসারের প্রাথমিক সংকেত
পুরুষদের স্তন ক্যানসার প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা বেশ কঠিন, কারণ এর উপসর্গগুলি প্রায়শই সাধারণ স্তন বৃদ্ধি বা গাইনেকোমাস্টিয়ার সঙ্গে মিশে যায়। তবে কিছু বিশেষ লক্ষণ নজরে রাখা জরুরি। যেমন -স্তনবৃন্তের কাছাকাছি বা ঠিক পেছনে শক্ত পিণ্ড তৈরি হওয়া, স্তনবৃন্ত থেকে রক্ত বা অস্বাভাবিক তরল নির্গমন, স্তনবৃন্ত হঠাৎ ভিতরে ঢুকে যাওয়া, স্তনের চামড়া কুঁচকে যাওয়া বা টোল পড়া, চামড়া মোটা ও লালচে হয়ে ওঠা এবং বগলের নিচে ফোলা পিণ্ড দেখা দেওয়া। এসবই সম্ভাব্য ক্যানসারের প্রাথমিক সংকেত।
আরও পড়ুন: Cyclone Mantha Effect: মন্থার প্রভাব অব্যাহত, উত্তরবঙ্গে লাল সতর্কতা জারি, দক্ষিণেও চলবে বৃষ্টি
এই ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত ম্যামোগ্রাম, আল্ট্রাসাউন্ড বা বায়োপসির মাধ্যমে পরীক্ষা করানো জরুরি। চিকিৎসকরা বলছেন, যাদের পরিবারে ব্রেস্ট ক্যানসার বা ওভারিয়ান ক্যানসারের ইতিহাস আছে, সেই পুরুষদের ৩৫ বছর বয়স থেকেই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো উচিত।


