Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা (Mamata Banerjee) (এসআইআর) ঘিরে ফের কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিএলএ দের মিটিংএ জন্মের শংসাপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, বাস্তব জীবনের সঙ্গে এই নিয়মের কোনও মিল নেই। বহু মানুষের কাছেই জন্মের শংসাপত্র নেই, কারণ আগের প্রজন্মের অধিকাংশই হাসপাতালে নয়, বাড়িতে জন্মেছিলেন। এই বাস্তবতাকে উপেক্ষা করেই নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে কেন্দ্র সাধারণ মানুষকে চাপে ফেলছে বলে অভিযোগ তৃণমূলনেত্রীর।
জন্মের শংসাপত্র (Mamata Banerjee)
সোমবার কলকাতার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে (Mamata Banerjee) বিএলএ (বুথ লেভেল এজেন্ট)দের সঙ্গে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, সাধারণ মানুষের পক্ষে এই ধরনের নথি জোগাড় করা কার্যত অসম্ভব। তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, তাঁর নিজের মা-বাবারও জন্মের শংসাপত্র নেই, কারণ তাঁদের জন্ম হয়েছিল বাড়িতে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকেও নিশানা করেন তিনি। মমতার কটাক্ষ, তাঁদের মা-বাবার কাছেও আদৌ জন্মের শংসাপত্র আছে কি না, সেই প্রশ্ন তোলা উচিত।

রাজনৈতিক কটাক্ষের সুর (Mamata Banerjee)
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, কেন্দ্র চাইলে খুব সহজেই নকল বা ডুপ্লিকেট (Mamata Banerjee) শংসাপত্র তৈরি করা যায়, কিন্তু তাঁর দল সেই পথে হাঁটবে না। রাজনৈতিক কটাক্ষের সুরে তিনি বলেন, নকল কাগজ বানাতে এক মুহূর্ত লাগে, কিন্তু তৃণমূল সেই কাজ করবে না। এসআইআর প্রক্রিয়ায় যে নথিগুলি চাওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে মমতা আগেও একাধিকবার আপত্তি জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, ২৫-৩০ বছর আগে দেশে হাসপাতালভিত্তিক প্রসবের সংখ্যা অনেক কম ছিল। ফলে সেই সময় জন্মানো লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে কোনও সরকারি জন্মনথি নেই। এমন অবস্থায় হঠাৎ করে এই ধরনের কাগজ চাওয়া হলে গরিব, প্রান্তিক এবং পরিযায়ী মানুষেরাই সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়বেন।

আরও পড়ুন: Humayun Kabir: শুধু দল নয়, প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হুমায়ুনের…
প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী
ভোটাধিকার সংক্রান্ত ইতিহাসের কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্মরণ করান, এক সময় ভোট দেওয়ার বয়স ছিল ২১ বছর, পরে রাজীব গান্ধীর আমলে তা ১৮ করা হয়। এত বছর আগে জন্মানো মানুষদের বাবা-মায়ের নথি আজ কোথা থেকে পাওয়া সম্ভব, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।
বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ উগরে দেন মমতা। তাঁর বক্তব্য, সময়ের সঙ্গে মানুষের ঠিকানা বদলায়, বিয়ের পর মেয়েরা অন্য জায়গায় চলে যান, অনেকেই পদবি পরিবর্তন করেন। এই স্বাভাবিক পরিবর্তনগুলিকে অজুহাত করে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁর। বানানগত সামান্য ভুল বা ইংরেজি না বোঝার কারণেও সাধারণ মানুষকে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।


