Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সম্প্রতি এসআইআর (SIR) ইস্যুকে ঘিরে রাজ্যে উত্তেজনা বাড়ছে (Mamata Banerjee)। নাগরিকত্ব নিয়ে দুশ্চিন্তা, তথ্য যাচাই প্রক্রিয়ার তড়িঘড়ি, এবং তার জেরে ঘটছে মৃত্যুর ঘটনা এই সব মিলিয়ে রাজ্যের সাধারণ মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। ঠিক এই সময়েই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুরু করেছেন তাঁর ‘পাশে থাকা’ সফর। মানুষের উদ্বেগ মন থেকে দূর করতে, তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে, এবং প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়াতে তিনি জেলায় জেলায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। বনগাঁ, মালদহ, মুর্শিদাবাদ সফর শেষে এবার তাঁর গন্তব্য উত্তরবঙ্গের কোচবিহার।

মানুষের পাশে থাকার বার্তা (Mamata Banerjee)
সোমবার দুপুরে মুখ্যমন্ত্রী পৌঁছবেন কোচবিহারে। বিকেল চারটেয় শহরের রবীন্দ্রভবনে হবে প্রশাসনিক বৈঠক। এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য, জেলার বকেয়া উন্নয়নমূলক কাজ সম্পূর্ণ করা, বন্যা–ধসের ক্ষতির পুনর্মূল্যায়ন, বিপর্যয় মোকাবিলায় প্রশাসনিক প্রস্তুতির পর্যালোচনা, বিভিন্ন দফতরের কর্মক্ষমতা যাচাই, বন্যা–ধসের সময় কোচবিহার সফর তাঁর হয়নি। ফলে মানুষের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে কথা বলা, ক্ষতিগ্রস্তদের অবস্থা বোঝা এবং প্রশাসনকে দ্রুত কাজের নির্দেশ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছিল। নতুন সফরে সেটাই তিনি করবেন।
“আমি ভোট চাইতে আসিনি” (Mamata Banerjee)
এসআইআর ইস্যুই এখন রাজ্যের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। এই ইস্যুতেই রাজনীতির গতি পাল্টে গেছে। বিজেপির কৌশলের জবাবে মমতার অবস্থান খুব পরিষ্কার, “আমি ভোট চাইতে আসিনি। নির্বাচন হলে তখন কথা বলব। এখন এসেছি শুধু মানুষের পাশে দাঁড়াতে।” বনগাঁ, মালদহ, মুর্শিদাবাদ প্রত্যেক সভাতেই একই সুর। তিনি সতর্ক করছেন, তিন বছরের কাজ তিন মাসে করা সম্ভব নয়, তড়িঘড়ি তথ্য সংগ্রহই মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে, মানুষ যেন আতঙ্কে আত্মহত্যার মতো ভয়ংকর সিদ্ধান্ত না নেন, কেউ নাগরিকত্ব হারাবেন না, কাউকে পুশব্যাক করা হবে না, এই বার্তাই বিপুল ভিড় টেনে আনছে সভায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এসআইআর-কে কেন্দ্র করে বিজেপির তৈরি সমীকরণকে ভাঙতেই তৃণমূল নেত্রী সরাসরি জনসমক্ষে নেমেছেন।

রাজনৈতিক সম্মেলন (Mamata Banerjee)
মঙ্গলবার সকালে মমতা যাবেন মদনমোহন মন্দিরে পুজো দিতে। এটি তাঁর সফরের একটি আবেগঘন অংশ। ধর্মীয় আচার পালিত হওয়ার পর দুপুরে রাসমেলা মাঠে হবে তৃণমূলের বড় সভা। সেখানে তিনি আবারও তুলে ধরবেন তাঁর মূল বার্তা মানুষের নিরাপত্তা, আফসোস নয়; আশ্বাস, আতঙ্ক নয়।
উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে (Mamata Banerjee)
গত একমাসে উত্তরবঙ্গের বন্যাতঙ্ক, পাহাড়ি ধস এবং পুনর্গঠন নিয়ে তিনবার এই অঞ্চল সফর করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এবার কোচবিহার তাঁর নজরে এসেছে এসআইআর আতঙ্কের কারণে। কোচবিহার সীমান্তবর্তী জেলা, নাগরিকত্ব ইস্যুতে এই অঞ্চলের উদ্বেগ সবচেয়ে বেশি, প্রশাসনিক তৎপরতা এখানে জরুরি, রাজনৈতিক দিক থেকেও কোচবিহার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র, এক্ষেত্রে মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ মমতার পক্ষে রাজনৈতিকভাবে লাভজনকও হতে পারে।

ভোটের আগে সংগঠন গুছিয়ে নেওয়ার সূক্ষ্ম কৌশল
রাজ্যের রাজনৈতিক অন্দরে ইতিমধ্যেই জোর জল্পনা এসআইআরের কাজ শেষ হলেই নির্বাচন কমিশন ফেব্রুয়ারির শেষদিকে ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করতে পারে। তাই স্বাভাবিকভাবেই মুখ্যমন্ত্রী আগে থেকেই সংগঠনকে শক্ত করতে চাইছেন। এই সফরের মাধ্যমে তিনি তিনটি কাজ করছেন, মানুষকে আশ্বস্ত করা, দলীয় কর্মীদের উদ্বুদ্ধ করা, প্রশাসনিক কাজের গতিতে চাপ সৃষ্টি করা অতএব এটি নিছকই সামাজিক সহায়তার সফর নয়; একটি কৌশলগত রাজনৈতিক প্রস্তুতিও বটে।

আরও পড়ুন: Donald Trump Peace Prize: নোবেল না পেলেও ফিফার পুরস্কার! ট্রাম্প কি স্বপ্নপূরণের শর্টকাট নিলেন?
নদিয়ার কৃষ্ণনগর
উত্তরবঙ্গ থেকে ফিরে ১১ ডিসেম্বর মুখ্যমন্ত্রী যাবেন নদিয়ার কৃষ্ণনগরে। সেখানেও ‘পাশে থাকার’ বার্তাই মূল সুর হবে বলে রাজনৈতিক মহলের অনুমান। অর্থাৎ, কয়েক সপ্তাহ ধরে তিনি অঞ্চলভিত্তিকভাবে মানুষের মন ছুঁয়ে যাওয়ার এক বিস্তৃত প্রচারে নেমেছেন।



