Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: হিমাচল প্রদেশে চলতি মরসুমের সবচেয়ে ভারী (Manali Snowfall) তুষারপাত শুরু হতেই পর্যটন নগরী মানালিতে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ পরিস্থিতি। চারপাশে সাদা বরফে মোড়া পাহাড় আর উপত্যকা যেন রূপকথার ছবি তুলে ধরলেও, সেই মনোরম দৃশ্যের আড়ালেই চলছে পর্যটকদের দুঃস্বপ্ন। তুষারপাতের জেরে মানালি যাওয়ার প্রধান জাতীয় সড়কসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে শতাধিক গাড়ি দীর্ঘ যানজটে আটকে রয়েছে। বহু পর্যটক গত ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে রাস্তাতেই আটকে রয়েছেন।
ছুটিই এখন আতঙ্ক (Manali Snowfall)
দিল্লি, গুরগাঁও, চণ্ডীগড়-সহ উত্তর ভারতের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার (Manali Snowfall) হাজার পর্যটক বড়দিন ও নতুন বছরের মরসুমে পাহাড়ে ছুটি কাটাতে মানালিতে এসেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ ভারী তুষারপাত এবং পর্যাপ্ত আগাম প্রস্তুতির অভাবে সেই ছুটিই এখন আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। প্রবল ঠান্ডা, তুষারঝড় আর বন্ধ রাস্তার কারণে মানালিতে ঢোকা কিংবা বেরোনো—দুটোই প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে। হোটেলগুলি প্রায় সবই পূর্ণ থাকায় বহু পর্যটককে পরিবার ও ছোট শিশুদের নিয়ে খোলা আকাশের নীচে রাত কাটাতে হচ্ছে। কেউ কেউ গাড়ির ভেতরেই রাত কাটাচ্ছেন, যেখানে পর্যাপ্ত গরমের ব্যবস্থাও নেই। হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের অবস্থা অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে জানিয়েছেন পর্যটকরা।

ন্যূনতম পরিষেবার ঘাটতি প্রকট (Manali Snowfall)
রাস্তায় আটকে পড়া পর্যটকদের অভিযোগ, ন্যূনতম পরিষেবার (Manali Snowfall) ঘাটতি প্রকট। বহু জায়গায় শৌচাগার, পানীয় জল কিংবা খাবারের কোনও ব্যবস্থাই নেই। এক পর্যটক জানান, “আমরা সারারাত গাড়ির মধ্যেই কাটিয়েছি। আমাদের সঙ্গে ছোট শিশু রয়েছে। তীব্র ঠান্ডায় খুব কষ্ট হচ্ছে। প্রশাসনের আরও ভালো প্রস্তুতি থাকা উচিত ছিল।” আরেক পর্যটক বলেন, “২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে গাড়িতে আটকে রয়েছি। বিস্কুট আর চিপস ছাড়া কিছুই খেতে পারিনি। চোখের পাতা এক করতে পারিনি।”
খাবার ও আশ্রয়ের অভাব
খাবার ও আশ্রয়ের অভাবে অনেক পর্যটক বাধ্য হয়ে গাড়ি ফেলে রেখে পায়ে হেঁটে মানালির দিকে রওনা দিচ্ছেন। কেউ কেউ ১০ থেকে ২০ কিলোমিটার পর্যন্ত রাস্তা মালপত্র কাঁধে নিয়ে হেঁটে চলেছেন। তুষারে ঢাকা পাহাড়ি পথে এই হাঁটা অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে জানাচ্ছেন স্থানীয়রা। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে পুরো হিমাচল প্রদেশ জুড়ে তুষারপাতের কারণে মোট ৮৩৫টি রাস্তা বন্ধ হয়ে রয়েছে। মানালি যাওয়ার জাতীয় সড়কের প্রায় ১০ কিলোমিটার অংশ সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ।

অনেক জায়গায় প্রায় দু’ফুট পর্যন্ত বরফ জমে থাকায় গাড়ি চালানো কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে। শুধু মানালি ঢোকাই নয়, মানালি থেকে বেরোনোর পথেও চরম দুর্ভোগ। প্যাটলিকুহল এলাকায় বিশাল যানজটে আটকে পড়েছেন বহু পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও প্রশাসনের অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। তুষার সরানোর কাজ শুরু হলেও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সেই কাজ খুব ধীরগতিতে চলছে। প্রশাসনের দাবি, আবহাওয়া স্বাভাবিক হলেই দ্রুত রাস্তা পরিষ্কারের কাজ জোরদার করা হবে। এদিকে আবহাওয়া দপ্তর কুলু, কিন্নর, চম্বা এবং লাহুল-স্পিতি জেলায় অরেঞ্জ অ্যালার্ট জারি করেছে। আগামী সোমবার ও মঙ্গলবার আরও ভারী তুষারপাত ও বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে। ফলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: Child Custody Laws: ডিভোর্সের পর আইনত বাচ্চা কার?
এই অবস্থায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যটকদের আপাতত পাহাড়ে না যাওয়ার এবং খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বেরোনোর কড়া পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যারা ইতিমধ্যেই মানালিতে রয়েছেন, তাঁদের নিরাপদ স্থানে থাকার এবং প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার আবেদন জানানো হয়েছে।


