Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: আরএসএসের শতবর্ষ উপলক্ষে বাংলার মাটিতে এসে বৃহত্তর হিন্দু ঐক্যের ডাক দিলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সরসংঘচালক মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)। রবিবার কলকাতার সায়েন্স সিটিতে আয়োজিত ‘শতায়ু সংঘ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তাঁর বক্তব্য শুধু সংগঠনকেন্দ্রিক নয়, বরং তা ছিল ইতিহাস, সমাজ ও ভবিষ্যতের ভারতকে ঘিরে একটি বিস্তৃত ভাবনার প্রকাশ। বিশেষ করে বিজেপি ও আরএসএসের সম্পর্ক নিয়ে তাঁর স্পষ্ট ব্যাখ্যা এবং সংঘের তথাকথিত ‘রাজনৈতিক চরিত্র’ অস্বীকার করা বক্তব্য বঙ্গ রাজনীতির প্রেক্ষিতে আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে।

ভুল ব্যাখ্যার বিরুদ্ধে সরব (Mohan Bhagwat)
মোহন ভাগবতের বক্তব্যের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ছিল আরএসএসকে ঘিরে প্রচলিত ‘ভুল ব্যাখ্যা’। তাঁর কথায়, বহু মানুষ সংঘের নাম জানলেও সংঘের কাজ ও দর্শন সম্পর্কে অবগত নন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “সংঘ কোনও বিরোধের মনোভাব নিয়ে চলে না। সংঘের কোনও শত্রু নেই। হিন্দু সমাজের উন্নতি ও সংহতিই একমাত্র লক্ষ্য।” সংঘ বড় হলে অনেকের স্বার্থে আঘাত লাগতে পারে এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি ইঙ্গিত দেন, আরএসএসের বিস্তারকে কেন্দ্র করে যে বিরোধিতা তৈরি হয়, তা আদতে আদর্শগত নয়, বরং স্বার্থসংশ্লিষ্ট।

আরএসএস বনাম বিজেপি (Mohan Bhagwat)
বঙ্গ রাজনীতির প্রেক্ষিতে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অংশ ছিল বিজেপি ও আরএসএসকে এক করে দেখার প্রবণতার বিরোধিতা। মোহন ভাগবত বলেন, “আরএসএসে বিজেপির অনেক নেতা রয়েছেন ঠিকই, কিন্তু আরএসএস এবং বিজেপিকে গুলিয়ে ফেলা ভুল।” এই বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, বাংলার মতো রাজ্যে আরএসএসের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে রাজনৈতিক ছোঁয়া থেকে দূরে থাকার কৌশল নিচ্ছে সংঘ। আবার কারও মতে, এটি আদর্শগত অবস্থান স্পষ্ট করার চেষ্টা যেখানে সংঘ নিজেকে সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠন হিসেবেই তুলে ধরতে চাইছে, রাজনৈতিক দলের সহায়ক শক্তি হিসেবে নয়।
ভুলে যাওয়া শিকড়ে ফেরার আহ্বান (Mohan Bhagwat)
হিন্দু সমাজের ঐক্যের প্রশ্নে সরসংঘপ্রধানের বক্তব্য ছিল ঐতিহাসিক ব্যাখ্যায় ভরপুর। তাঁর মতে, ভারতীয় সমাজ ঐক্যবদ্ধ না থাকার ফলেই বারবার বিদেশি শক্তির হাতে দেশ পরাধীন হয়েছে। শক, হুন, পাঠান, মোগল থেকে ইংরেজ—সবাই সেই দুর্বলতার সুযোগ নিয়েছে। মোহন ভাগবতের দাবি, আটবার ভারত বিদেশিদের দখলে গিয়েছে, আর সেই ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নিলে ভবিষ্যতেও বিপদের আশঙ্কা থেকে যাবে। এই প্রেক্ষিতেই তাঁর বার্তা ভুলে যাওয়া শিকড়ে ফিরতে হবে, সমাজকে আবার সংহত করতে হবে।
বাঙালি আইকনদের স্মরণে সংঘপ্রধান (Mohan Bhagwat)
বঙ্গে এসে মোহন ভাগবতের বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব পেল বাঙালি মনীষীদের প্রসঙ্গ। স্বামী বিবেকানন্দ, রাজা রামমোহন রায় ও নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর নাম উল্লেখ করে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, হিন্দু সমাজের সংস্কার ও জাতীয় চেতনার ভিত বাংলাতেই বহু আগে তৈরি হয়েছিল। বিশেষভাবে রামমোহন রায়ের প্রশংসা করে তিনি বলেন, “রামমোহন রায় আজীবন সমাজ সংস্কারের জন্য লড়াই করে গিয়েছেন। তাঁর সময় থেকেই সমাজ সংস্কারের কাজ শুরু হয়। সেই ধারাই বহন করতে চায় আরএসএস।” এই বক্তব্যের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রামমোহন-বিষয়ক মূল্যায়নের সুরও স্পষ্ট, যা সংঘ ও বর্তমান শাসকদলের ভাবনার একটি মিলিত বিন্দু তুলে ধরে।

আরও পড়ুন: Calcutta High Court: কলকাতা হাইকোর্টে আপাতত স্বস্তিতে হুমায়ুন কবির
বাংলায় ঐক্যের তাৎপর্য
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক হিংসা ও অস্থিরতার আবহে বাংলার মাটিতে সংঘপ্রধানের ঐক্যের বার্তা নতুন মাত্রা পাচ্ছে। সীমান্তবর্তী রাজ্য হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই বক্তব্য নিছক তাত্ত্বিক নয়, বরং বাস্তব রাজনৈতিক তাৎপর্য বহন করে। হিন্দু সমাজের সংহতির ডাক তাই শুধু আদর্শগত আহ্বান নয়, বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতার প্রশ্নের সঙ্গেও জড়িয়ে যাচ্ছে।



