Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বৃহস্পতিবার ভারতীয় এবং বাংলার ফুটবল ইতিহাসে আরও একটি চিরস্মরণীয় দিন হিসেবে নথিবদ্ধ হল (Mohun Bagan)। ৫০ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে একই মরশুমে কলকাতা লিগ এবং আইএফএ শিল্ড—দুটো শিরোপাই একসঙ্গে ঢুকলো সবুজ-মেরুন তাঁবুতে। ১৯৭৬ সালে কিংবদন্তি পিকে ব্যানার্জির হাত ধরে শেষবার এই জোড়া মুকুট এসেছিল ক্লাবে। এরপর মাঝে আধ শতক কেটে গেলেও নানা সময়ে লিগ বা শিল্ড এককভাবে এলেও একসঙ্গে আসেনি। কাকতালীয়ভাবে, ৫০ বছর পর ৫০তম বর্ষপূর্তিতে সেই অধরা সাফল্য এনে দিলেন গ্রিক কোচ প্যানাজিওটিস দিলমপেরিস। পিকে ব্যানার্জি থেকে প্যানাজিওটিস ডিলমপেরিস—দুই ঐতিহাসিকের নামই শুরু ‘P’ অক্ষর দিয়ে, যা কেবল একটি অদ্ভুত কাকতালীয় ব্যাপার নয়, ক্লাবের ইতিহাসে এক তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়।
ইতিহাসে নাম লেখালেন প্যানোস (Mohun Bagan)
চলতি মরশুমের সেপ্টেম্বরে ৩১তম বার কলকাতা লিগ জয় করার পর বৃহস্পতিবার হাইভোল্টেজ ডার্বি ফাইনালে ইস্টবেঙ্গলকে ১-০ গোলে হারিয়ে আইএফএ শিল্ড নিজেদের নামে করে মোহনবাগান। এই অবিস্মরণীয় সাফল্যের মূল কারিগর হিসেবে যার নাম উঠে এলো, সেই প্যানোসকে দায়িত্ব দেওয়ার সময় ফুটবল মহল বেশ দ্বিধাগ্রস্ত ছিল। ভারতীয় ফুটবলে আনকোরা গ্রিক কোচ প্যানোসের মূল পরিচয় ছিল পাঞ্জাব এফসি-র প্রাক্তন এবং একজন সফল ডেভেলপমেন্টাল কোচ হিসেবে। মোহনবাগানের মতো হেভিওয়েট ক্লাবে তাঁর মতো অপেক্ষাকৃত অনভিজ্ঞ কোচের যোগদান নিয়ে প্রাক্তন ফুটবলার থেকে শুরু করে বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলেছিলেন। কিন্তু সমস্ত আশঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়ে কিংবদন্তি পিকে ব্যানার্জির পাশে নিজের নাম খোদাই করে নিলেন তিনি।
পর্দার আড়াল থেকে রণনীতি (Mohun Bagan)
কলকাতা লিগের যাত্রায় রিজার্ভ দলের দায়িত্বে মূলত বাস্তব রায় বেঞ্চে থাকলেও, পুরো মরশুমের হেড কোচ হিসেবে প্যানোসের অবদান অনস্বীকার্য। পুরো ২০২৬-২৭ মরশুমে মূল দল ও জুনিওর দলের সমন্বয়ে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা ছিল। লিগের বিভিন্ন ম্যাচে মূল দলের প্লেয়ারদের খেলানোর সিদ্ধান্ত বাস্তব রায়ের সাথে আলোচনার মাধ্যমেই নেওয়া হতো। ট্রেনিং গ্রাউন্ডে সমান তৎপরতার পাশাপাশি প্রতিটি ম্যাচ গ্যালারিতে বসে পর্যবেক্ষণ করেছেন তিনি। দল পরিচালনার ক্ষেত্রে কৌশলগত চিন্তাভাবনায় তিনি প্রমাণ করেছেন যে কেবল নামী কোচ নয়, সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনাই ট্রফি জয়ের চাবিকাঠি।
আরও পড়ুন: Vozinha: কলকাতায় কেপ ভার্দের তারকা!? আইএসএল নিয়ে ইঙ্গিত দিলেন !
অগ্নিপরীক্ষায় লেটার মার্কস (Mohun Bagan)
মরসুমের শুরুটা প্যানোসের জন্য খুব মসৃণ ছিল না (Mohun Bagan)। ডুরান্ড কাপের ফাইনালে হতাশাজনক হারের পর তাঁর ওপর ছিল পাহাড়প্রমাণ চাপ। ক্লাব অলিন্দে খবর চাউর হয়েছিল যে, নতুন কোচের সন্ধানও প্রায় শুরু হয়ে গিয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে আইএফএ শিল্ডই ছিল প্যানোসের অস্তিত্ব রক্ষার শেষ অগ্নিপরীক্ষা। এখানে ট্রফি না এলে ইন্ডিয়ান সুপার লিগের (ISL) আগেই হয়তো তাঁকে বিদায় নিতে হতো। তবে সব চাপ কাটিয়ে ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়ে ক্লাবকে চ্যাম্পিয়ন করার মাধ্যমে তিনি কেবল নিজের গদিই বাঁচাননি, বরং সমালোচকদের যোগ্য জবাব দিয়ে মোহনবাগানের হৃদয়ে নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করলেন।



