Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মাদার্স ডে আজ বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় উদ্যাপন। ফুল, উপহার, রেস্তোরাঁ আর সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্টে ভরে ওঠে দিনটি। কিন্তু এই দিবসের শুরুটা ছিল একেবারেই আলাদা(Mothers Day)।
মাদার্স ডে ওয়ার্ক ক্লাব (Mothers Day)
আধুনিক মাদার্স ডের পেছনে সবচেয়ে পরিচিত নাম আনা জারভিস। তবে এই গল্পের আসল সূচনা তাঁর মা অ্যান রিভস জারভিসকে ঘিরে। উনিশ শতকের আমেরিকায় তিনি “মাদার্স ডে ওয়ার্ক ক্লাব” গড়ে তুলেছিলেন, যেখানে নারীরা স্বাস্থ্য সচেতনতা, পরিচ্ছন্নতা ও অসুস্থ পরিবারের যত্ন নিয়ে কাজ করতেন। শিশু মৃত্যুর ভয়াবহ বাস্তবতা তাঁর নিজের জীবনকেও ছুঁয়ে গিয়েছিল নিজের কয়েকজন সন্তানকে ছোট বয়সেই হারান তিনি।
মানুষকে একত্র করার চেষ্টা
আমেরিকার গৃহযুদ্ধের সময় ও পরে অ্যান জারভিস বিভক্ত সমাজের মানুষদের একত্র করার চেষ্টা করেন। আহত সৈনিকদের সাহায্য থেকে শুরু করে পুনর্মিলনী সভা আয়োজন সবকিছুতেই ছিল মানবতার বার্তা। একই সময়ে লেখিকা ও সমাজকর্মী জুলিয়া ওয়ার্ড হাও “মাদার্স ডে ফর পিস”-এর ধারণা দেন। তাঁর মতে, যুদ্ধের বিরুদ্ধে মায়েদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া উচিত।
বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজন
১৯০৮ সালে মায়ের স্মরণে আনা জারভিস একটি বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজন করেন। সাদা কার্নেশন ফুল পাঠিয়ে তিনি মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। ধীরে ধীরে আন্দোলন জনপ্রিয় হয় এবং ১৯১৪ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন মে মাসের দ্বিতীয় রবিবারকে আনুষ্ঠানিকভাবে মাদার্স ডে ঘোষণা করেন।
সময়ের সঙ্গে বদলেছে দিবসটির অর্থ (Mothers Day)
সময় বদলেছে, বদলেছে দিবসটির অর্থও। এখন শুধু জৈবিক মায়েরা নন, দিদা, অভিভাবক, দত্তক মা, বড় বোন বা নানা ধরনের পরিবারিক সম্পর্ককেও এই দিনে সম্মান জানানো হয়।
আরও পড়ুন: Telengana Temple: সরকারি স্কুলের বলি: তেলেঙ্গানায় বুলডোজার চালিয়ে ধ্বংস ৮০০ বছরের পুরনো মন্দির
যত্ন, ভালোবাসা আর মানবতার গল্প (Mothers Day)
তবে আনা জারভিস শেষ জীবনে এই দিবসের বাণিজ্যিক রূপ দেখে ক্ষুব্ধ ছিলেন। তাঁর মতে, প্রস্তুত করা শুভেচ্ছা কার্ড আর ব্যবসায়িক প্রচার প্রকৃত অনুভূতিকে মুছে দিচ্ছে। যতই বাণিজ্য বাড়ুক, মাদার্স ডের শিকড়ে আজও রয়ে গেছে যত্ন, ভালোবাসা আর মানবতার গল্প।



