Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: তেলেঙ্গানার ওয়ারাঙ্গাল জেলার খানাপুর মণ্ডলের অশোক নগরে ৮০০ বছরের পুরনো কাকতীয় যুগের এক শিবমন্দির ভাঙাকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। অভিযোগ, সরকারি ‘ইন্টিগ্রেটেড স্কুল’ তৈরির জন্য বুলডোজার চালিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে ঐতিহাসিক এই মন্দির(Telengana Temple)। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিহাসবিদ, প্রত্নতত্ত্ব বিশেষজ্ঞ এবং সাংস্কৃতিক মহলে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
স্কুলের জন্য মন্দির ধ্বংস (Telengana Temple)
ইতিহাসবিদদের মতে, মন্দিরটি ১৩শ শতকে কাকতীয় রাজা গণপতি দেবার আমলে নির্মিত হয়। এখানে ১২৩১ খ্রিস্টাব্দের একটি বিরল তেলুগু শিলালিপি ছিল, যেখানে রাজাকে “মহারাজ” ও “রাজাধিরাজুলু” বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই শিলালিপির ঐতিহাসিক গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি বলে দাবি বিশেষজ্ঞদের। মন্দিরটি ‘কোটা কাট্টা’ নামের প্রাচীন মাটির দুর্গ এলাকার মধ্যেই অবস্থিত ছিল।
একাধিক মামলা রুজু
ঘটনার পর তেলেঙ্গানা অধিকারকর্মী আইনজীবী রামা রাও ইমানেনি জাতীয় স্মারক কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। এরপর কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রক ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ মামলা রুজু করে। অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রত্নতত্ত্ব ও এন্ডাওমেন্টস দফতরের অনুমতি ছাড়াই নির্মাণকাজ চালানো হয়েছে এবং রাজ্য সরকার এখনও বাধ্যতামূলক হেরিটেজ কনজারভেশন কমিটি গঠন করেনি।
ইচ্ছাকৃতভাবে মন্দির ভাঙা হয়নি (Telengana Temple)
যদিও ওয়ারাঙ্গাল জেলা প্রশাসন দাবি করেছে, সেখানে কেবল “জীর্ণপ্রায় পুরনো কাঠামোর অবশিষ্টাংশ” পাওয়া গিয়েছিল এবং ইচ্ছাকৃতভাবে কোনও মন্দির ভাঙা হয়নি। প্রশাসনের বক্তব্য, এটি সরকারি সংরক্ষিত স্মারকের তালিকায় ছিল না।
আরও পড়ুন: Google Case: যুক্তরাজ্যে গুগলের বিরুদ্ধে নয়া মামলা, ক্ষতিপূরণ দাবি ৩ বিলিয়ন পাউন্ড
মন্দিরটি পুনর্নির্মাণের আশ্বাস (Telengana Temple)
তবে জনরোষ বাড়তেই জেলা কালেক্টর ড. সত্যা শারদা ও স্থানীয় বিধায়ক ডোন্থি মাধব রেড্ডি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তাঁরা আশ্বাস দিয়েছেন, ইতিহাসবিদ, স্থপতি ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের পরামর্শে একই জায়গায় মন্দিরটি পুনর্নির্মাণ করা হবে এবং ভবিষ্যতে এটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংরক্ষিত ঐতিহ্যস্থল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।



