Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মুম্বইয়ের চেম্বুর–ভাশি নাকা এলাকায় অবস্থিত একটি ছোট কালীমন্দিরকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে (Virgin Mary)। দেবী কালীর রূপ, আচরণ, আচার ও প্রতীকগত অর্থ হিন্দু ধর্মে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। সেই দেবীর মূর্তিকে কেন্দ্র করে এমন এক সাজসজ্জা নজরে আসে, যা ভক্তদের স্তম্ভিত করে দিয়েই নয়, বরং ধর্মীয় অনুভূতিকে চরমভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে। এই ঘটনার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা, প্রতিবাদ এবং প্রশ্নের ঝড় উঠেছে।

কী দেখা গেল মন্দিরে? (Virgin Mary)
মূর্তির গর্ভগৃহে প্রবেশ করে ভক্তরা দেখেন, দেবী কালীর প্রচলিত কালো বর্ণের পরিবর্তে সাদা রঙ, মাথার উপর ক্রশ চিহ্নযুক্ত মুকুট, পরনে উজ্জ্বল হলুদ পোশাক, কোলে একটি শিশু, এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, দেবীর পায়ের কাছে থাকা উচিত ভোলানাথের উপস্থিতি নেই। এই অনামা, অচেনা রূপটি হুবহু খ্রিস্টান ধর্মীয় প্রতীকের সঙ্গে মিলে গিয়েছে, বিশেষত ‘ভার্জিন মেরি’র সঙ্গে। ফলে দর্শনার্থীরা হতবাক হয়ে যান; অনেকেই সঙ্গে সঙ্গে ভিডিও করে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল (Virgin Mary)
ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়তেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। কেউ এটিকে অপরিকল্পিত ভুল বলে মনে করেন, কেউ বলেন এটি স্পষ্টতই ধর্মান্তরণের চেষ্টা বা মিশনারি ষড়যন্ত্র। এক ভক্তের ভিডিও বক্তব্য বিশেষভাবে ভাইরাল হয় যেখানে তিনি অভিযোগ করেন, “দেখুন খ্রিস্টান মিশনারিরা এখানে কী করেছে… দেবীকে ক্রস পরিয়ে দিয়েছে!” এই বক্তব্য অনেকের মনে ক্ষোভ ও সন্দেহ আরও গভীর করে তোলে।
স্বপ্নাদেশ নাকি অজুহাত? (Virgin Mary)
মন্দিরের পুরোহিত রমেশকে স্থানীয়রা জিজ্ঞাসাবাদের সম্মুখীন করেন। রমেশ জানান, দেবী কালী স্বয়ং তাঁর স্বপ্নে এসে তাঁকে এই রূপে মূর্তিকে সাজাতে নির্দেশ দিয়েছেন। তবে তাঁর এ বক্তব্যকে অধিকাংশই বিশ্বাস করতে পারেননি। বরং স্থানীয়দের একটি অংশ সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, কেউ অর্থের বিনিময়ে পুরোহিতকে দিয়ে এই কাজ করিয়েছে।

‘ধর্মবিদ্বেষের স্পষ্ট চিহ্ন’ (Virgin Mary)
এলাকার বহু হিন্দু সংগঠন এই ঘটনাকে ধর্মীয় অপবিত্রতা, দেবদ্রোহ এবং ইচ্ছাকৃত উস্কানি বলে দাবি করেছে।
তাঁদের যুক্তি, দেবী কালীকে মাতা মেরির রূপে সাজানো, ক্রশ ব্যবহার সাধনাশ্রিত প্রতীক পরিবর্তন, এসব কোনওভাবেই সাধারণ ভুল হতে পারে না। অনেকে মনে করছেন, কোনও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গোষ্ঠী এই সাজসজ্জা ঘটিয়েছে যাতে ধর্মীয় গোলযোগ বা বিভেদ সৃষ্টি হয়।
FIR থেকে জিজ্ঞাসাবাদ (Virgin Mary)
প্রচুর অভিযোগ পেয়ে আরসিএফ থানায় একটি অপরাধমূলক FIR দায়ের করা হয়। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নেয় এবং পুরোহিত রমেশকে হেফাজতে নেয়। তদন্তে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে কয়েকটি বিষয়ে, কোনও বহিরাগত ব্যক্তি এই কাজে যুক্ত কি না, পুরোহিতের কোনও আর্থিক লেনদেন হয়েছে কি না, মন্দিরের CCTV-তে সন্দেহজনক কিছু ধরা পড়েছে কি না, এটি কোনও সংগঠিত ধর্মীয় চক্রান্তের অংশ কি না।

আরও পড়ুন: Midnapore News: সপ্তাহের প্রথম দিনেই আগুন! কীভাবে অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন রোগীরা?
পবিত্রতার পুনর্বহাল দাবি
মন্দির কমিটি ও স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি তুলেছেন যে, মূর্তির পূর্বস্থ রূপ দ্রুত ফিরিয়ে আনা হোক, মন্দিরে নিয়মিত আচার অনুষ্ঠান পুনরায় শুরু করা হোক, এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। স্থানীয়দের মতে, দেবী কালীর এই বিকৃত রূপ ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত করেছে এবং মন্দিরের পবিত্র পরিবেশকে কলুষিত করেছে।



