Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সোমবার সকাল। সপ্তাহের প্রথম দিনটিতে স্বাভাবিক কাজের ছন্দেই চলছিল কেরানীটোলা এলাকার ওই নার্সিংহোম (Midnapore News)। হঠাৎই চারদিক স্তম্ভিত করে ছড়িয়ে পড়ল কালো ধোঁয়া। সকাল প্রায় ১০টা নাগাদ নার্সিংহোমের চারতলার ছাদে আগুন দেখা যায়। ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে উঠতেই আতঙ্কে ছুটোছুটি শুরু করেন রোগীরা, সঙ্গে থাকা পরিবারের সদস্যরাও দ্রুত নিচে নেমে আসতে থাকেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ছাদের ওপর বিভিন্ন জিনিসপত্র জমিয়ে রাখা ছিল, সেখান থেকেই কোনওভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন দেখা মাত্রই পথচারীদের চিৎকারে এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা।

দমকল আসার আগেই (Midnapore News)
ঘটনার শুরুতেই নার্সিংহোম চত্বরে স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী এবং হাসপাতালের কর্মীরা একজোট হয়ে এগিয়ে আসেন। কেউ পাম্প চালিয়ে জল মারেন, আবার কেউ বালতি করে জল এনে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। তাদের সক্রিয় তৎপরতার ফলে দমকল পৌঁছনোর আগেই আগুন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসে। কিছুক্ষণের মধ্যেই দমকলের একটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। দমকল কর্মীরা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন এবং আগুন পুরোপুরি নিভে গেছে কি না তা নিশ্চিত করেন।
আগুনে ক্ষয়ক্ষতি, যদিও প্রাণহানি নেই (Midnapore News)
আগুনে নার্সিংহোমের ছাদে রাখা কিছু আসবাব ও জিনিসপত্র পুড়ে যায়। হাসপাতালের কিছু যন্ত্রপাতিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে সবচেয়ে বড় স্বস্তির বিষয় এই ঘটনায় কোনও হতাহতের খবর নেই। সকাল সাড়ে ১০টার মধ্যে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে বলে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ জানান।
আগুন লাগার কারণ নিয়ে তদন্ত (Midnapore News)
দমকল বিভাগ জানিয়েছে, আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। শর্ট সার্কিট নাকি অন্য কোনও ত্রুটি তা জানতে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। নার্সিংহোমের নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট ছিল কি না, ছাদে দাহ্য পদার্থ রাখা হয়েছিল কি না এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: Nepal Protest: দেশেই আছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী, অপেক্ষা শুধু নির্বাচনের…
রোগীদের মধ্যে চরম ভয়
ঘটনার সময় হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে দুশ্চিন্তা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এক রোগীর আত্মীয় মলিনচন্দ্র মাহাত বলেন, “ঘটনায় আমরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। আরও বড় বিপদ হতে পারত।” অনেকের বক্তব্য, হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থায় গাফিলতি থাকা চলতে পারে না। নিয়মিত পরিকাঠামো পরীক্ষা এবং সুরক্ষা ব্যবস্থার অভাব বেড়ে চলা দুর্ঘটনার কারণ বলে মনে করছেন তাঁরা।



