Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বছর শেষ হতে এখনও বাকি প্রায় চল্লিশ দিন (Natural Disaster)। কিন্তু তার আগেই চরম আবহাওয়ার করাল থাবায় বলি হয়েছেন অন্তত ৪০৬৪ জন ভারতীয় নাগরিক। পরিবেশ ও জলবায়ু নিয়ে কাজ করা সংস্থা সেন্টার ফর সায়েন্স অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট (CSE)–এর সদ্য প্রকাশিত রিপোর্টে উঠে এসেছে এমনই মর্মান্তিক তথ্যচিত্র। ২০২৪ সালের তুলনায় এ বছর চরম আবহাওয়াজনিত মৃত্যু ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাস্তব পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ।

ক্ষতির অশেষ ফিরিস্তি (Natural Disaster)
অক্টোবরে ভয়াবহ বৃষ্টিপাতে গোটা উত্তরবঙ্গ কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। পাহাড়ি এলাকায় ধস, নদী প্লাবন, রাস্তা–রেল–যোগাযোগ ভেঙে পড়া সব মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ এখনও সম্পূর্ণ নিরূপণ করা যায়নি। প্রশাসনের প্রাথমিক অনুমান, ১২০০ থেকে ১৪০০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ওই বিপর্যয়ে। তবে উত্তরবঙ্গই নয় দেশের প্রায় প্রতিটি রাজ্যই এ বছর চরম আবহাওয়ার তাণ্ডব দেখেছে।
মহারাষ্ট্রে ৮৪ লক্ষ হেক্টর ফসল নষ্ট (Natural Disaster)
CSE–র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কৃষিক্ষেত্রে সর্বাধিক ক্ষতি হয়েছে মহারাষ্ট্রে। অনাবৃষ্টি ও অতিবৃষ্টিতে ৮৪ লক্ষ হেক্টর কৃষিজমির ফসল সম্পূর্ণ বা আংশিক নষ্ট। মার্চ থেকেই তীব্র তাপপ্রবাহে জর্জরিত ছিল রাজ্যের বহু এলাকা। পরে অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতে বারবার প্লাবিত হয় বিভিন্ন অঞ্চল। কৃষিবিজ্ঞানীরা বলছেন, “একদিকে তীব্র তাপ, অন্যদিকে অতিবৃষ্টি—ফসল এই দ্বৈত আঘাত সহ্য করতে পারেনি।”
ভয়াবহ পরিসংখ্যান (Natural Disaster)
দেশজুড়ে চরম আবহাওয়াজনিত মৃত্যুর হিসাবে এ বছর শীর্ষে মধ্যপ্রদেশ, মৃত্যুর সংখ্যা অন্তত ২৫০০। অধিকাংশ মৃত্যু হয়েছে বজ্রপাত, আকস্মিক বন্যা ও অপ্রত্যাশিত ঝড়ের কারণে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্য ভারতের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য ও জলবায়ুগত পরিবর্তনের যৌথ প্রভাবে রাজ্যটি ক্রমশ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
ভয়ঙ্কর বৃদ্ধির ইঙ্গিত (Natural Disaster)
চরম আবহাওয়ার তুলনামূলক পরিসংখ্যান আরও গভীর উদ্বেগের জন্ম দিচ্ছে, ২০২৪ সালে মৃত্যু: প্রায় ৩০০০ জন, ২০২৫ সালে মৃত্যু: ৪০৬৪ জন, ২০২৪ সালে ফসল নষ্ট: ৩২ লক্ষ হেক্টর, ২০২৫ সালে ফসল নষ্ট: ৯৪ লক্ষ হেক্টর, অর্থাৎ ফসল নষ্ট তিনগুণেরও বেশি, আর মৃত্যু ৪০ শতাংশ বেড়েছে।
কী বোঝাচ্ছে এই সংখ্যা? (Natural Disaster)
১ জানুয়ারি থেকে ৩১ অক্টোবর মোট ২৭৩ দিনের রিপোর্ট বিশ্লেষণ করে গবেষকরা জানিয়েছেন, ২৭০ দিনই, অর্থাৎ ৯৯% দিন, দেশের কোথাও না কোথাও চরম আবহাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শুধু বর্ষার চার মাসেই মৃত্যু ২৪১৪ জন। বজ্রপাত ও ঝড়ে মৃত্যু ১৪৫৬ জন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংখ্যা ইঙ্গিত দিচ্ছে, “ভারতে চরম আবহাওয়া এখন আর ব্যতিক্রম নয়, বরং দৈনন্দিন বাস্তবতা।”
ডেটা সংগ্রহ ও বাস্তবতার ব্যবধান
রিপোর্টটি তৈরি হয়েছে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার, রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের, আবহাওয়া সংস্থার সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে। তবে আবহবিদদের মতে, “এই হিসেবেও বাস্তব ক্ষতির পুরো চিত্র ধরা নেই। প্রকৃত পরিস্থিতি আরও নির্মম।” কারণ অনেক মৃত্যু বা ক্ষতি প্রশাসনিক রেকর্ডে ওঠে না। বহু গ্রামাঞ্চলে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সময়মতো পৌঁছায় না। কৃষিনাশের হিসেব প্রায়শই আংশিক থাকে।
আরও পড়ুন: MEPSC: প্রি-স্কুল ট্রেনিং-এ ভারতীয় শিক্ষাব্যবস্থার সংযোজন, মৌ স্বাক্ষরিত হল MEPSC ও BRC-র মধ্যে
কোন দিকে যাচ্ছে দেশ?
জলবায়ুবিজ্ঞানীরা বলছেন, ২০২৫ সালের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করছে, গ্লোবাল ওয়ার্মিং এবং আঞ্চলিক জলবায়ু–বদল ভারতের ক্ষেত্রে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। চরম তাপপ্রবাহ, আকস্মিক বৃষ্টি, অস্বাভাবিক বন্যা, বজ্রপাত এসব এখন নিয়মিত হয়ে উঠছে। কৃষি, জনস্বাস্থ্য ও অবকাঠামোসবই চরম ঝুঁকির মুখে।



