Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: নেপালের তুষারঢাকা পাহাড়ে ফের বড়সড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। এভারেস্ট বেস ক্যাম্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ট্রেকিং রুটে অবস্থিত ডিংবোচে গ্রামে আগুনে সম্পূর্ণরূপে ভস্মীভূত হয়ে গেল একটি লজ (Nepal Fire)। সোলুখুম্বু জেলার ডিংবোচেতে অবস্থিত হোটেল গুডলাক বা গুড লাক লজ-এ এই ভয়াবহ আগুন লাগে বলে জানা গিয়েছে। নেপাল স্ট্যান্ডার্ড সময় অনুযায়ী আনুমানিক সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ আগুনের সূত্রপাত হয়।
অল্প সময়েই গ্রাস গোটা ভবন (Nepal Fire)
আগুন লাগার পর দ্রুত তা গোটা ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। প্রবল আগুনে লজটির কাঠামো কার্যত সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। পাহাড়ি এলাকায় দুর্গম অবস্থান এবং সীমিত অগ্নিনির্বাপণ পরিকাঠামোর কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে বলে জানা যায়। মুহূর্তের মধ্যে লজটি পরিণত হয় ধ্বংসস্তূপে।
অল্পের জন্য রক্ষা ট্রেকার ও কর্মীরা (Nepal Fire)
তবে এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। লজে থাকা সমস্ত অতিথি এবং কর্মীরা নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। ফলে বড়সড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হলেও প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। আগুন লাগার সময় লজে থাকা ট্রেকারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সর্বস্ব হারালেন বহু ট্রেকার (Nepal Fire)
আগুনে শুধু লজের ভবনই নয়, বহু ট্রেকারের ব্যক্তিগত সামগ্রীও পুড়ে গিয়েছে। পোশাক, ট্রেকিং সরঞ্জাম, ব্যাগ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্রের পাশাপাশি কারও কারও গুরুত্বপূর্ণ ভ্রমণ নথিও আগুনে নষ্ট হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। ফলে নিরাপদে বেরিয়ে আসতে পারলেও অনেক ট্রেকারের সামনে তৈরি হয়েছে নতুন সমস্যা।
৪,৪১০ মিটার উচ্চতায় গুরুত্বপূর্ণ ট্রেকিং গন্তব্য (Nepal Fire)
ডিংবোচে উত্তর-পূর্ব নেপালের খুম্বু অঞ্চলে প্রায় ৪,৪১০ মিটার বা ১৪,৪৭০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত একটি শেরপা গ্রাম। এভারেস্ট বেস ক্যাম্পের পথে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিরতি ও অভিযাত্রীদের বিশ্রামের জায়গা। প্রতিবছর দেশ-বিদেশের অসংখ্য পর্বতারোহী ও ট্রেকার এই পথ ব্যবহার করেন। সেই গুরুত্বপূর্ণ রুটের একটি পরিচিত লজ আগুনে সম্পূর্ণ ধ্বংস হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ ছড়িয়েছে।

আরও পড়ুন: Cyclone Arnab Effect: ৩১টি বাড়ি ধূলিসাৎ, বিদ্যুৎ বিপর্যয়! বিপর্যস্ত অন্ধ্রে মৃত ৩
আগুনের কারণ নিয়ে শুরু তদন্ত
ঠিক কী কারণে আগুনের সূত্রপাত, তা এখনও স্পষ্ট নয়। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আগুন লাগার ঘটনা দ্রুত বড় আকার নেওয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। আগুনের প্রকৃত কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। তবে আপাতত সবচেয়ে বড় স্বস্তি—ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির কোনও খবর নেই।



