Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: নেপালে আন্দোলনের জেরে প্রাণ হারালেন (Nepal Violence) প্রথম এক ভারতীয়। ঘুরতে গিয়ে বিপত্তি। পশুপতি নাথ মন্দির দর্শন করবে বলেই এসেছিলেন নেপালে। কিন্তু হোটেলে থাকলেও জেন জি আন্দোলনের জেরে প্রাণ হারালেন তিনি।
কে তিনি? কী তার পরিচয়? (Nepal Violence)
গত ৭ সেপ্টেম্বর স্বামীর সঙ্গে ভ্রমণ সূত্রেই নেপালে এসেছিলেন রাজেষদেবী (Nepal Violence) গোলা। এক সপ্তাহ ধরে এভারেস্টের শহর ঘুরে দেখার পরিকল্পনা ছিল তাদের। কিন্তু সুখের দিন কাটিয়ে দেশে ফেরার আগেই ঘটে বিপত্তি। এই দম্পতি হলেন উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদের বাসিন্দা।
ঘটনার সূত্রপাত (Nepal Violence)
ঘটনার সূত্রপাত গত ৯ সেপ্টেম্বর (Nepal Violence) রাতে। কাঠমান্ডু শহরের বিভিন্ন সরকারি ভবন, হোটেল ও রেস্তোরাঁতে চরম অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে। দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাস্তায় নেমে আসে বিক্ষোভকারীরা। রাষ্ট্রপতি ভবন-সহ একাধিক সরকারি প্রতিষ্ঠানে চালানো হয় হামলা। আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় হোটেলেও। যে হোটেলে ছিলেন রামবীর ও রাজেশদেবী, সেখানেও প্রবল ভাঙচুর চালায় বিক্ষোভকারীরা।
হোটেলের ভিতরে ঢুকে পড়ে উত্তেজিত জনতা
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, পশুপতিনাথ মন্দির দর্শনে গিয়েছিলেন ওই দম্পতি। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় তাঁরা হোটেলে ফিরে এসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। তখনই হঠাৎ হোটেলের ভিতরে ঢুকে পড়ে উত্তেজিত জনতা। শুরু হয় ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ। আতঙ্কে হোটেলের অতিথিরা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটতে থাকেন।
ঘটনাস্থলেই মৃত্যু
হোটেলের চতুর্থ তলায় ছিলেন রামবীর ও রাজেশদেবী। চারপাশে আগুন ছড়িয়ে পড়তে দেখে তাঁরা বিছানার চাদর, শাড়ি ইত্যাদি জুড়ে একটি অস্থায়ী দড়ি তৈরি করেন নামার জন্য। প্রথমে নামতে থাকেন রাজেশদেবী। কিন্তু দোতলা পর্যন্ত নামার পরই তাঁর হাত ফস্কে যায়। ভারসাম্য হারিয়ে নিচে পড়ে গিয়ে গুরুতর চোট পান তিনি। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। পরে রামবীরও নিচে নামেন এবং স্ত্রীকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।
পালানোর চেষ্টা করতে গিয়েই দুর্ঘটনা
স্থানীয় সেনাবাহিনীর একটি জিপ দ্রুত এসে তাঁদের উদ্ধার করে। রামবীরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁর শারীরিক অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে গাজ়িয়াবাদের পরিবারটিতে। তাঁদের পুত্র বিশাল জানিয়েছেন, “বাবা-মা পশুপতিনাথ দর্শন করে ফিরে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ হোটেলে হামলা হয়। আগুন ছড়িয়ে পড়ে, তাঁরা আটকে পড়েন। পালানোর চেষ্টা করতে গিয়েই দুর্ঘটনা ঘটে।”
আরও পড়ুন: Sushila Karki: নেপালের দায়িত্ব নিতে রাজি সুশীলা, শপথ নেবেন আজই?
গাজ়িয়াবাদের অতিরিক্ত জেলাশাসক সৌরভ ভট্ট জানিয়েছেন, বিষয়টি জানার পর ভারতীয় দূতাবাসের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ শুরু হয়েছে। মৃতদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াও দ্রুত এগোচ্ছে। এই প্রথমবার নেপালের এই সহিংস আন্দোলনে কোনো ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যু হল। ঘটনা ঘিরে উদ্বেগে ভারতীয় পর্যটকমহল। নেপাল প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।


