Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বাজারে হানা দিয়েছে আরও এক ভাইরাস (Nipah Virus)। নাম নিপা ভাইরাস। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে নির্দিষ্ট কোনও চিকিৎসা নেই। ধীরে ধীরে বিকল হয়ে যায় মাথা, রোগী চলে যায় কোমায়। বন্ধ হয়ে যায় শ্বাসযন্ত্র, এরপর মৃত্যু। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে আর রক্ষা নেই। নিপা ভাইরাস নিয়ে আতঙ্ক নতুন নয়, তবে প্রতিবারই এই সংক্রমণ সামনে এলে উদ্বেগ আরও গভীর হয়। কারণ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে মৃত্যুহার অত্যন্ত বেশি-প্রায় ৪০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হল, এখনও পর্যন্ত নিপা ভাইরাসের কোনও নির্দিষ্ট ভ্যাকসিন বা নিশ্চিত চিকিৎসা পদ্ধতি নেই। ফলে সচেতনতা ও প্রতিরোধই একমাত্র ভরসা।
চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া অত্যন্ত জরুরি (Nipah Virus)
চিকিৎসকদের মতে, নিপা ভাইরাসে (Nipah Virus) আক্রান্ত হলে শুরুতে সাধারণ জ্বর, মাথাব্যথা, গা-হাত-পা ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। অনেক সময় বমি, দুর্বলতা ও শ্বাসকষ্টও শুরু হয়। পরিস্থিতি গুরুতর হলে মস্তিষ্কে সংক্রমণ (এনসেফালাইটিস) দেখা দেয়, যার ফলে খিঁচুনি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা কোমায় চলে যাওয়ার মতো অবস্থা তৈরি হতে পারে। এই কারণেই উপসর্গ বুঝতে পারলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া অত্যন্ত জরুরি।
বহু ভুল ধারণা (Nipah Virus)
নিপা ভাইরাস কীভাবে ছড়ায়, তা নিয়েও বহু ভুল (Nipah Virus) ধারণা রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, শুয়োরের মাংস খাওয়ার মাধ্যমেই মূলত এই ভাইরাস ছড়ায়। কিন্তু চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা স্পষ্টভাবে জানাচ্ছেন, বিষয়টি এতটা সরল নয়। নিপা ভাইরাস সাধারণত সংক্রামিত প্রাণীর সঙ্গে সরাসরি সংস্পর্শে এলে ছড়ায়। বাদুড় হল এই ভাইরাসের প্রাকৃতিক বাহক। তাদের লালা, প্রস্রাব বা মলের মাধ্যমে ফল, ফলের রস কিংবা পরিবেশ দূষিত হয়।

কিসের থেকে সংক্রমণ?
এই দূষিত ফল বা কাঁচা ফলের রস-বিশেষ করে কাঁচা তালের রস-খেলে মানুষ সংক্রমিত হতে পারে। বাদুড়ের কামড় বা তাদের দ্বারা আংশিক খাওয়া ফল থেকেও সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। শুয়োররা সাধারণত দূষিত ফল বা ফলের রস খেয়ে সংক্রমিত হয়। এরপর সেই সংক্রমিত শুয়োরের খুব কাছাকাছি থাকা মানুষ, বা তাদের রক্ত, লালা কিংবা প্রস্রাবের সংস্পর্শে এলে ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করতে পারে। অর্থাৎ, সরাসরি শুয়োরের মাংস নয়, বরং সংক্রমিত প্রাণী ও দূষিত খাবার থেকেই মূল ঝুঁকি তৈরি হয়। তবে সংক্রমিত শুয়োরের মাংস যদি বাদুড়ের মলমূত্র দ্বারা দূষিত হয়, সেক্ষেত্রে পরোক্ষভাবে সংক্রমণের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
আরও পড়ুন: Notam Issue: প্রজাতন্ত্র দিবসের আগে কড়া বিধিনিষেধ, ৬ দিন বন্ধ থাকবে দিল্লি এয়ারস্পেস
নিপা ভাইরাস থেকে বাঁচতে হলে কিছু সতর্কতা মেনে চলা অত্যন্ত প্রয়োজন। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, শুয়োর পালন বা শুয়োরের সংস্পর্শ যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে। সব ধরনের ফল ভালোভাবে ধুয়ে খাওয়া বাধ্যতামূলক। কাঁচা ফলের রস বা রাস্তার খোলা খাবার এড়িয়ে চলাই নিরাপদ। সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি এমন এলাকায় গেলে N-95 মাস্ক ব্যবহার করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং অসুস্থ প্রাণীর সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকাই নিপা ভাইরাস প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।


