Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার জেরে ফের আন্তর্জাতিক নজরে এল লশকর-এ-ত্যায়বা (LET)-র ছায়া সংগঠন ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ (Pahalgam Attack)। রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী নিষেধাজ্ঞা কমিটি (1267 Sanctions Committee) সম্প্রতি প্রকাশিত এক রিপোর্টে TRF-এর জঙ্গি কার্যকলাপ এবং লশকরের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কের প্রমাণ তুলে ধরেছে। এরপর থেকেই প্রশ্ন উঠছে— টিআরএফ-কে রাষ্ট্রপুঞ্জ কি নিষিদ্ধ সংগঠনের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করবে?
দ্বৈত বার্তা (Pahalgam Attack)
রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে জঙ্গিহানায় ২৬ জন পর্যটক নিহত হন (Pahalgam Attack)। হামলার পরপরই TRF দায় স্বীকার করে, এমনকি দু’বার তারা হামলার দায় স্বীকার করে বিবৃতি দেয়। তবে ২৬ এপ্রিল TRF একটি নতুন বিবৃতি প্রকাশ করে জানায়, তারা এই হামলার সঙ্গে যুক্ত নয়। এমন দ্বৈত বক্তব্যের পিছনে রাজনৈতিক চাপে দায় অস্বীকারের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা।
রিপোর্টে রাষ্ট্রপুঞ্জের পর্যবেক্ষণ ও মতবিভেদ(Pahalgam Attack)
রাষ্ট্রপুঞ্জের নিষেধাজ্ঞা কমিটির এক পর্যবেক্ষক বলেন, “লশকরের প্রত্যক্ষ সমর্থন ছাড়া এই হামলা সম্ভব ছিল না।” অন্য এক সদস্য দেশ TRF ও লশকরের সম্পর্কের কথা স্বীকার করে রিপোর্টে উল্লেখ করেছে, “TRF কার্যত লশকরের ছায়া সংগঠন।” যদিও একটি সদস্য দেশ লশকরের যুক্ত থাকার বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছে।

আরও পড়ুন: US Tariff On India : ভারতের উপর চড়া আমদানি শুল্কের ইঙ্গিত ট্রাম্পের, অনিশ্চিত বাণিজ্যচুক্তি
টিআরএফ-এর উত্থান ও কার্যকলাপ (Pahalgam Attack)
TRF-এর জন্ম হয় ২০১৯ সালে, সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপের পর। নয়াদিল্লির দাবি, লশকরের মুখ বদল করেই TRF-কে সামনে আনা হয় যাতে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়ানো যায়(Pahalgam Attack)। ভারতের দাবি, TRF-এর মূল লক্ষ্য কাশ্মীর উপত্যকায় শান্তি-স্থিতাবস্থা ব্যাহত করা এবং স্থানীয় তরুণদের উগ্রপন্থায় প্ররোচিত করা। এই সংগঠনের বিরুদ্ধে অস্ত্র পাচার, জঙ্গি নিয়োগ, হামলা পরিকল্পনার একাধিক প্রমাণ রয়েছে বলে কেন্দ্রের দাবি।

ভারতের জমা দেওয়া প্রমাণ ও পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া (Pahalgam Attack)
পহেলগাঁও কাণ্ডের পর ভারত(INDIAN ARMY) রাষ্ট্রপুঞ্জের কাছে TRF-এর বিরুদ্ধে বিস্তারিত তথ্য ও প্রমাণ জমা দেয়। রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদ এই বিষয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করে। ওই বৈঠকে পাকিস্তানের অবস্থান জানতে চাওয়া হয়। জবাবে পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী ইশাক দার দাবি করেন, “লশকর-এ-ত্যায়বা বহু বছর আগেই নির্মূল হয়েছে। TRF-এর সঙ্গে লশকরের কোনও সম্পর্ক নেই।”
বিদেশি জঙ্গি সংগঠনের তকমা ইতিমধ্যেই (Pahalgam Attack)
উল্লেখ্য, TRF-কে এর আগেই বিদেশি সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে একাধিক দেশ। এবার রাষ্ট্রপুঞ্জ যদি TRF-কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে, তবে লশকর-সহ অন্যান্য সংগঠনের জন্য আন্তর্জাতিক পরিসরে কৌশল পালটে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়বে।
TRF-এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্ট প্রকাশ পাওয়ার পর থেকে আন্তর্জাতিক মহলে চাপ বেড়েছে পাকিস্তানের উপরেও। রাষ্ট্রপুঞ্জের নিষেধাজ্ঞা কমিটি এই সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করলে কূটনৈতিকভাবে তা ভারতের বড় জয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এখন বিশ্বজুড়ে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের নজর রাষ্ট্রপুঞ্জের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।


