Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল : পাকিস্তানের দিক থেকে ফের ড্রোন অনুপ্রবেশের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়াল জম্মু ও কাশ্মীরে (Pakistan Drone)। রবিবার সন্ধ্যায় সাম্বা, রাজৌরি ও পুঞ্চ এই তিনটি সীমান্তবর্তী জেলায় আন্তর্জাতিক সীমান্ত এবং নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর একাধিক ফরোয়ার্ড এলাকায় সন্দেহজনক ড্রোনের গতিবিধি লক্ষ্য করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। আধিকারিকদের মতে, অন্তত পাঁচটি ড্রোন ভারতীয় আকাশসীমায় প্রবেশ করেছিল। কয়েক মিনিট সংবেদনশীল এলাকার উপর ঘোরাফেরা করার পর সেগুলি ফের পাকিস্তানের দিকে ফিরে যায়।
একাধিক সেক্টরে ড্রোনের উপস্থিতি (Pakistan Drone)
এই ঘটনার পরপরই সেনাবাহিনী, জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থাগুলিকে নিয়ে যৌথ তল্লাশি অভিযান শুরু হয়। সম্ভাব্য ড্রপ জোন হিসেবে চিহ্নিত এলাকাগুলিতে গভীর রাত পর্যন্ত চিরুনি তল্লাশি চালানো হয়। নিরাপত্তা সংস্থাগুলির আশঙ্কা, ড্রোনগুলির মাধ্যমে অস্ত্র, বিস্ফোরক অথবা মাদক পাচারের চেষ্টা করা হয়েছিল।
সন্দেহজনক উড়ন্ত বস্তুর গতিবিধি (Pakistan Drone)
জানা গিয়েছে, রবিবার সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিট নাগাদ রাজৌরি জেলার নওশেরা সেক্টরের গণিয়া–কালসিয়ান গ্রামের উপর প্রথম ড্রোনটির উপস্থিতি টের পান সেনা জওয়ানরা। সঙ্গে সঙ্গে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে মাঝারি ও হালকা মেশিনগান দিয়ে গুলি চালানো হয়। প্রায় একই সময়ে রাজৌরি জেলার তেরিয়াথ এলাকার খাব্বার গ্রামের আকাশে আরেকটি ড্রোন দেখতে পাওয়া যায়। ঝলমলে আলো সহ ওই উড়ন্ত বস্তুটি কালাকোটের ধর্মশালা গ্রাম দিক থেকে ভার্খের দিকে এগোতে দেখা যায়।
ড্রোনে অস্ত্র-পাচারের আশঙ্কা (Pakistan Drone)
অন্যদিকে, সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিট নাগাদ সাম্বা জেলার রামগড় সেক্টরের চক বাবরাল গ্রামের উপর কয়েক মিনিট ধরে ঝলকানি আলো সহ একটি ড্রোনের মতো বস্তু ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। একইদিন সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিট নাগাদ পুঞ্চ জেলার মানকোট সেক্টরে নিয়ন্ত্রণ রেখার কাছে তাইন দিক থেকে টোপারের দিকে একই ধরনের আরেকটি উড়ন্ত বস্তু চলতে দেখা যায় বলে জানিয়েছেন আধিকারিকরা।
অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনার সঙ্গে যোগসূত্র? (Pakistan Drone)
প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগেই সাম্বা জেলার আন্তর্জাতিক সীমান্ত এলাকায় অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাতে ঘাগওয়ালের পালুরা গ্রামে নিরাপত্তা বাহিনী পাকিস্তান থেকে ড্রোনের মাধ্যমে ফেলে দেওয়া অস্ত্রের একটি চালান উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে ছিল দুটি পিস্তল, তিনটি ম্যাগাজিন, ১৬ রাউন্ড গুলি এবং একটি গ্রেনেড। তদন্তকারীদের মতে, এই অস্ত্রগুলি সীমান্ত পেরিয়ে জঙ্গি নেটওয়ার্কে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল।
প্রযুক্তির সাহায্যে নজরদারি (Pakistan Drone)
ড্রোন তৎপরতার ঘটনার পর গোটা সীমান্ত এলাকায় উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সেনাবাহিনী ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী তাদের নজরদারি আরও জোরদার করেছে। রাতের অন্ধকারে কোনও বিস্ফোরক, অস্ত্র অথবা মাদক ভারতীয় ভূখণ্ডে ফেলা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে থার্মাল সেন্সর, নাইট ভিশন ডিভাইস এবং ড্রোন-বিরোধী ব্যবস্থাও ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন :Baghajatin Station: বাঘাযতীন স্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে আগুন
সাধারণ মানুষকেও সতর্ক থাকার নির্দেশ
নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, সমস্ত পদক্ষেপ ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর’ মেনেই নেওয়া হচ্ছে। সীমান্তবর্তী গ্রামগুলির বাসিন্দাদেরও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে এবং সন্দেহজনক কোনও বস্তু বা গতিবিধি নজরে এলে সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনকে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে অপারেশন সিঁদুর চলাকালীন পাকিস্তানি সেনা ও জঙ্গি সংগঠনগুলির তরফে ড্রোন ব্যবহার করে ভারতের সামরিক ও অসামরিক এলাকায় হামলার চেষ্টা চালানো হয়েছিল। সেই স্মৃতি এখনও টাটকা। রবিবারের এই ঘটনায় ফের একবার জম্মু ও কাশ্মীরে ড্রোন হামলা ও পাচার নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।



