Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: প্রকৃতির এক ভয়াবহ রূপ কখনও কখনও মানুষের জীবনে এমন পরিণতি ডেকে আনে, যার জন্য তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকে না (Pakistan)। সীমান্তবর্তী নদীগুলিতে বন্যার সময় সেই বাস্তবতাই আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে। সাম্প্রতিক ঘটনায় দেখা গেল, প্রবল জলস্রোতের টানে ভেসে গিয়ে অনিচ্ছাকৃতভাবেই পাকিস্তানের ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছিলেন কয়েকজন ভারতীয় নাগরিক। কোনও অপরাধ না করেও তাঁদের প্রায় তিন বছর কাটাতে হয়েছে পাকিস্তানের জেলে, ভয়াবহ ও অমানবিক পরিস্থিতির মধ্যে।

অনিচ্ছাকৃত সীমান্ত পারাপার (Pakistan)
প্রশাসনের সূত্রে জানা গিয়েছে, দেশে ফেরা ৭ জন ভারতীয় নাগরিকের বেশিরভাগই পাঞ্জাবের সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দা। তাঁদের মধ্যে চারজন ফিরোজপুরের, একজন করে লুধিয়ানা, জলন্ধর এবং উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা। প্রত্যেকের ঘটনাই প্রায় একই রকম বন্যার সময় নদীতে নেমে পড়া, পশু বা যানবাহন উদ্ধারের চেষ্টা, আর তার পরেই নিয়ন্ত্রণহীন স্রোতে ভেসে যাওয়া। এক যুবকের কথায় উঠে এসেছে সেই ভয়াল মুহূর্তের কথা। ২০২৩ সালে বন্যার জলে আটকে পড়া নিজের ট্রাক্টর উদ্ধার করতে নদীতে নেমেছিলেন তিনি। আচমকা স্রোতের তীব্রতায় ভেসে গিয়ে তিনি পৌঁছে যান পাকিস্তানে। তাঁর অভিযোগ, স্থানীয় গ্রামবাসীরা সাহায্য করার বদলে তাঁকে পাকিস্তান সেনার হাতে তুলে দেয়।
পাক সেনার হাতে আটক ও শাস্তি (Pakistan)
পাকিস্তানে পৌঁছনোর পরই শুরু হয় তাঁদের জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ অধ্যায়। সীমান্ত পার হওয়ার অভিযোগে ওই যুবককে এক বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একইভাবে আরও কয়েকজন ভারতীয় নাগরিককে বেআইনি অনুপ্রবেশকারী হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়। বন্দিদের অভিযোগ, গ্রেপ্তারের পর তাঁদের দিনের পর দিন ছোট ছোট খুপরি ঘরে আটকে রাখা হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদের নামে চলত নির্মম মারধর। পর্যাপ্ত খাবার, চিকিৎসা কিংবা মানবিক আচরণ কিছুই নাকি জুটত না। মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের স্মৃতি এখনও তাড়া করে বেড়াচ্ছে তাঁদের।

বন্দিজীবনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা (Pakistan)
প্রায় তিন বছর ধরে পাক জেলে বন্দি থাকার সময়টাকে তাঁরা ‘দুঃস্বপ্নের মতো’ বলে বর্ণনা করেছেন। অনেকেরই দাবি, কোনও নিয়মিত আইনি সহায়তা পাননি তাঁরা। দিনের পর দিন অনিশ্চয়তার মধ্যে কাটিয়েছেন কবে দেশে ফিরতে পারবেন, আদৌ ফিরতে পারবেন কি না, সেই প্রশ্নই তাড়া করত প্রতিটি মুহূর্তে। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল অত্যন্ত সীমিত। প্রিয়জনদের কী অবস্থা, তাঁরা বেঁচে আছেন কি না—এই ভাবনাই মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছিল বন্দিদের।
কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় মুক্তির পথ (Pakistan)
প্রতিবছরের মতো এ বছরও ১ জানুয়ারি ভারত ও পাকিস্তান একে অপরের কারাগারে বন্দি নাগরিকদের তালিকা আদান-প্রদান করে। সেই তালিকার ভিত্তিতেই অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বন্দি প্রত্যাবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। দীর্ঘ কূটনৈতিক আলোচনার পর অবশেষে পাকিস্তান সরকার এই ৭ জন ভারতীয় নাগরিককে মুক্তি দেয়। শনিবার পাঞ্জাবের আটারি সীমান্ত দিয়ে তাঁরা দেশে ফেরেন। সীমান্তে তাঁদের গ্রহণ করে ভারতীয় প্রশাসন।
দেশে ফেরা ও নতুন শুরু (Pakistan)
দেশে ফেরার পর প্রথমেই সকলের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হয়। দীর্ঘ বন্দিজীবনের প্রভাব তাঁদের শরীর ও মনে কতটা পড়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন চিকিৎসকেরা। প্রাথমিক পরীক্ষার পর তাঁদের নিজেদের পরিবারের কাছে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলনের মুহূর্ত ছিল আবেগে ভরা। চোখের জলে, দীর্ঘশ্বাসে আর কৃতজ্ঞতায় ভরে ওঠে সেই সময়। তবে পাক জেলে কাটানো ভয়াবহ দিনগুলোর স্মৃতি এখনও তাঁদের মনে গভীর ক্ষত হয়ে রয়ে গেছে।
আরও পড়ুন: Potato Benefits: আলু খাওয়া কি ভালো?
সীমান্তবাসীর বাস্তবতা ও প্রশ্ন
এই ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় অনিচ্ছাকৃত সীমান্ত পারাপার যেন আর কোনও নাগরিকের জীবনে এমন মর্মান্তিক পরিণতি না ডেকে আনে সেই দিকেই নজর চাইছে সাধারণ মানুষ।



