Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল : চিনে অনুষ্ঠিত সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও)-এর সাম্প্রতিক সম্মেলনে এক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু সামনে এসেছে (Pakistan On Pahalgam)। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পাশাপাশি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও এই সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন। সম্মেলন শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয় জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে সংঘটিত জঙ্গি হামলার প্রসঙ্গ।
যৌথ বিবৃতির বিষয়বস্তু (Pakistan On Pahalgam)
২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারান ২৬ জন(Pakistan On Pahalgam)। ভারত শুরু থেকেই অভিযোগ তোলে, পাকিস্তানের মদতেই এই হামলা ঘটেছে এবং হামলাকারীরা পাকিস্তানি নাগরিক। এসসিও-র যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, “সদস্য রাষ্ট্রগুলি ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার তীব্র নিন্দা করছে। নিহত ও আহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হচ্ছে। অপরাধী, আয়োজক ও মদতদাতাদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে।”
তবে এই বিবৃতিতে পাকিস্তানের নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। উল্লেখযোগ্য বিষয়, পাকিস্তানও এই বিবৃতিতে সম্মতি জানিয়েছে এবং পাক প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষর তাতে ছিল।
পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া (Pakistan On Pahalgam)
শুক্রবার ইসলামাবাদে সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে পাকিস্তানের(Pakistan On Pahalgam) বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র জানান,
“এসসিও-র যৌথ বিবৃতিতে যে ভাষা প্রয়োগ করা হয়েছে, তাতে আমাদের সম্মতি রয়েছে। আমাদের দীর্ঘদিনের অবস্থানের সঙ্গে বিবৃতির বক্তব্য সঙ্গতিপূর্ণ।”
একইসঙ্গে ভারতকে উদ্দেশ করে পাকিস্তান বার্তা দেয় যে, নয়াদিল্লির উচিত নিজেদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করা এবং শান্তির পথে এগোনো।

আরও পড়ুন : SSC Exam : রবিবার এসএসসির নবম-দশমে নিয়োগের পরীক্ষা! মানতে হবে একগুচ্ছ নিয়ম, জানালেন চেয়ারম্যান
ভারতের অবস্থান (Pakistan On Pahalgam)
ভারত বারবারই পাকিস্তানকে এই হামলার জন্য দায়ী করেছে(Pakistan On Pahalgam)। প্রধানমন্ত্রী মোদিও (Narendra Modi) সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সরাসরি নাম না নিলেও জঙ্গিদের মদতদাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দেন।
হামলার পরপরই ভারত পাকিস্তানের সঙ্গে একাধিক সম্পর্ক ছিন্ন করে—
- সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি স্থগিত
- বাণিজ্যিক যোগাযোগ বন্ধ
- আকাশপথ ব্যবহার নিষিদ্ধ
পরবর্তীতে ৬ মে ভারতীয় সেনার অভিযান পাকিস্তানে ঢুকে একাধিক জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস করে দেয়। চার দিন ধরে টানা সংঘাত চলে দুই দেশের মধ্যে। অবশেষে ১০ মে উভয় দেশ সংঘর্ষবিরতিতে সম্মত হয়।
আরও পড়ুন : Chandranath Sinha : আদালতে আত্মসমর্পণ চন্দ্রনাথ সিনহার, পেলেন শর্তসাপেক্ষে অন্তর্বর্তী জামিন
বর্তমান প্রেক্ষাপট
যদিও যৌথ বিবৃতিতে পাকিস্তানের নাম ওঠেনি, তবে ভারতীয় কূটনৈতিক মহল মনে করছে এটি পাকিস্তানের উপর পরোক্ষ চাপ(Pakistan On Pahalgam)। অপরদিকে ইসলামাবাদ নিজেদের নির্দোষ দাবি করে নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি তুলেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসসিও-তে পাকিস্তানের সম্মতিসূচক স্বাক্ষর ভবিষ্যতে কূটনৈতিক আলোচনার নতুন দ্বার খুলে দিতে পারে। তবে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক এখনও তলানিতে এবং বিশ্বাসের সংকট কাটাতে উভয় পক্ষকেই বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে।


