Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল : ২০২৫ সালের মে মাসে চার দিনের ভারত-পাকিস্তান সংঘাত শুধু সীমান্তে গোলাগুলির লড়াই ছিল না(Delulu 101)। ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন হামলার পাশাপাশি ইসলামাবাদ চালিয়েছিল তথ্যযুদ্ধও। ভারতীয় সেনা শুধু সামরিক আক্রমণ প্রতিহত করেনি, পাকিস্তানের প্রচারযন্ত্রের কাহিনিও ভেঙে দিয়েছে। কিন্তু কয়েক মাস পেরোতেই ইসলামাবাদ সেই ‘মিনি-ওয়ার’ এর বিকৃত সংস্করণ বসিয়েছে তাদের স্কুলের পাঠ্যবইয়ে। নতুন প্রজন্মকে বোঝানো হচ্ছে—ভারত যুদ্ধ শুরু করেছিল, পাকিস্তান পাল্টা ভারতীয় বিমানঘাঁটি ধ্বংস করেছে, আর শেষ পর্যন্ত তারা নাকি ‘যুদ্ধে জয়ী’।
মিথ্যা ১: ভারত নাকি যুদ্ধ শুরু করেছিল (Delulu 101)
পাঠ্যবইয়ের দাবি
৬ মে ২০২৫ সালে ভারত মিথ্যা অভিযোগ তোলে যে, কাশ্মীরের পাহালগামে হামলার পিছনে পাকিস্তান রয়েছে। এর পরদিন ভারত পাকিস্তানের উপর হামলা চালায়(Delulu 101)।
আসলে কী হয়েছিল
পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গিরা পাহালগামে ২৬ জন সাধারণ মানুষকে হত্যা করে(Delulu 101)। তার জবাবে ৭ মে ভারত শুরু করে অপারেশন সিনদুর। লস্কর-ই-তইবা, জইশ-ই-মোহাম্মদ ও হিজবুল মুজাহিদিনের ন’টি ঘাঁটি টার্গেট করা হয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক স্পষ্ট জানায়, বেসামরিক স্থাপনা বাদ দিয়েই হামলা চালানো হয়েছে। পাকিস্তানের দাবি করা বেসামরিক হতাহতের প্রমাণ আজও মেলেনি।
মিথ্যা ২: পাকিস্তান শুধু সেনা ঘাঁটি টার্গেট করেছিল(Delulu 101)
পাঠ্যবইয়ের দাবি
পাক সেনারা নাকি কেবলমাত্র ভারতীয় সেনা পোস্ট ধ্বংস করেছিল।
আসলে কী হয়েছিল
ভারত আগে থেকেই সতর্ক করেছিল—পাকিস্তান পাল্টা আঘাত করলে লড়াই আরও বাড়বে(Delulu 101)। তবুও ইসলামাবাদ ২৬টির বেশি জায়গায় ড্রোন হামলা চালায়—অমৃতসর, জম্মু, শ্রীনগরসহ বহু বেসামরিক এলাকায়। এর জবাবে ভারত ধ্বংস করে দেয় লাহোরের HQ-9 এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম এবং আঘাত হানে সিয়ালকট ও ইসলামাবাদের গভীরে।
মিথ্যা ৩: ভারতীয় বিমানঘাঁটি ধ্বংস
পাঠ্যবইয়ের দাবি
১০ মে ২০২৫ পাকিস্তান নাকি অপারেশন বুনিয়ান-উম-মারসুস চালিয়ে ২৬টি কৌশলগত জায়গা ধ্বংস করে, যার মধ্যে ভারতীয় বিমানঘাঁটিও ছিল।
আসলে কী হয়েছিল
পাকিস্তান যখন ভারতীয় বিমানঘাঁটিকে নিশানা করে, ভারত পাল্টা আঘাত হানে মুরিদ, নূর খান, রফিকি, সারগোধা, চাকলালা ও রহিম ইয়ার খান ঘাঁটিতে(Delulu 101)। পাশাপাশি আঘাত আসে রাওয়ালপিন্ডিতেও। স্যাটেলাইট ছবি ও ভিডিও দিয়ে ভারত প্রমাণ দেখায়। OSINT ডেটাও সেই তথ্যকে সমর্থন করে। রহিম ইয়ার খান ঘাঁটি আজও বন্ধ থাকা তার প্রমাণ। অন্যদিকে পাকিস্তানের বেশিরভাগ আক্রমণ ব্যর্থ হয় ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষায়। এমনকি আদমপুর বিমানঘাঁটিতে intact S-400 সিস্টেমের পাশে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর ছবি পাকিস্তানের দাবি একেবারেই ভেঙে দেয়।

আরও পড়ুন : Trump On Paracetamol : ট্রাম্পের মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক! প্যারাসিটামল কি সত্যিই অটিজমের কারণ?
মিথ্যা ৪: ভারত নাকি শান্তির জন্য অনুরোধ করেছিল(Delulu 101)
পাঠ্যবইয়ের দাবি
ভারত নাকি বড় ক্ষতির মুখে শান্তির ভিক্ষা চেয়েছিল। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধে পাকিস্তান নাকি যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়।
আসলে কী হয়েছিল
১০ মে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ফোনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) সঙ্গে কথা বলেন(Delulu 101)। মোদি সাফ জানিয়ে দেন—মধ্যস্থতা নয়, পাকিস্তান থামবে না হলে ভারত আরও কড়া আঘাত হানবে। পরে মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও এস জয়শঙ্করকে জানান, পাকিস্তান যুদ্ধবিরতিতে রাজি। ভারত-পাক ডিরেক্টর জেনারেল অফ মিলিটারি অপারেশন্স (DGMO)-এর মধ্যেই চুক্তি হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুলবশত দাবি করেন, আমেরিকাই শান্তি এনেছে।
মিথ্যা ৫: সেনাপ্রধানকে ফিল্ড মার্শাল উপাধি(Delulu 101)
পাঠ্যবইয়ের দাবি
যুদ্ধে অসাধারণ সাফল্যের জন্য সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে ফিল্ড মার্শাল পদে উন্নীত করা হয়েছে।
আসলে কী হয়েছিল
এই পদোন্নতি ছিল রাজনৈতিক প্রতীকী সিদ্ধান্ত(Delulu 101)। প্রকৃত সাফল্যের স্বীকৃতি নয়, বরং ‘বিজয়’ প্রচারের কৌশল। পাকিস্তানে সেনাবাহিনীর দাপট অটুট রাখতেই এই মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।
বড় ছবি: ইতিহাস নয়, প্রচার
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান তার স্কুলের পাঠ্যক্রমে এই বিকৃত কাহিনি ঢুকিয়ে নতুন প্রজন্মকে প্রচারণার ইতিহাস শেখাচ্ছে। প্রকৃত সত্য একেবারেই আলাদা—ভারত পাকিস্তানের মাটিতে জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছে, একাধিক বিমানঘাঁটি ধ্বংস করেছে এবং পাক সেনার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তবু ইসলামাবাদ পরাজয়কে জয় হিসেবে সাজিয়ে তুলছে, অতীত যুদ্ধগুলির মতোই।


