Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দিল্লির ঐতিহাসিক লাল কেল্লার অদূরে ঘটে যাওয়া গাড়ি বিস্ফোরণ শুধু একটি বিচ্ছিন্ন নাশকতার ঘটনা নয়, বরং দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সামনে এক নতুন ও জটিল চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেছে (Delhi Blast Accused)। তদন্তে উঠে এসেছে, এই ঘটনার নেপথ্যে ছিল এক অত্যন্ত সুসংগঠিত ‘হোয়াইট কলার’ সন্ত্রাসবাদী মডিউল, যারা প্রযুক্তির অপব্যবহার করে নিরাপত্তা সংস্থাকে দীর্ঘদিন ফাঁকি দিয়ে এসেছে।

কারা এই চক্রের মাথা? (Delhi Blast Accused)
তদন্তকারী সংস্থার দাবি অনুযায়ী, ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন চিকিৎসক মুজাম্মিল গানাই, আদিল রাঠের মতো শিক্ষিত ও সমাজে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিরা। বাইরে থেকে স্বাভাবিক পেশাগত জীবনযাপন করলেও, গোপনে তাঁরা সীমান্তের ওপারে থাকা পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। এই কারণেই তদন্তকারীরা এই চক্রকে ‘হোয়াইট কলার টেরর মডিউল’ হিসেবে চিহ্নিত করছেন।
নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দেওয়ার কৌশল (Delhi Blast Accused)
এই মডিউলের কাজের ধরন ছিল অত্যন্ত চতুর ও পরিকল্পিত। তাঁরা ব্যবহার করতেন তথাকথিত ‘ডুয়াল ফোন’ প্রোটোকল। প্রথম ফোন: নিজের নামে রেজিস্টার করা সিম কার্ড, যা দিয়ে সাধারণ পারিবারিক, পেশাগত ও সামাজিক যোগাযোগ রাখা হতো। দ্বিতীয় ফোন: শুধুমাত্র হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম বা সিগন্যালের মতো এনক্রিপ্টেড অ্যাপ ব্যবহারের জন্য। এই দ্বিতীয় ফোনে ব্যবহৃত সিম কার্ডগুলি ছিল অন্য সাধারণ মানুষের নামে, যাদের অজান্তেই তাঁদের আধার কার্ড ব্যবহার করে সিম তোলা হয়েছিল। এর ফলে ফোন ট্র্যাক করলেও প্রকৃত ব্যবহারকারীর পরিচয় ধরা পড়ত না।

সিম ছাড়াও চলত হোয়াটসঅ্যাপ-টেলিগ্রাম! (Delhi Blast Accused)
তদন্তে উঠে এসেছে আরও ভয়াবহ তথ্য। ফোন থেকে সিম কার্ড খুলে ফেলার পরেও ইন্টারনেট সংযোগ থাকলে হোয়াটসঅ্যাপ বা টেলিগ্রামের মতো অ্যাপ ব্যবহার করা সম্ভব ছিল। এই প্রযুক্তিগত ফাঁককেই কাজে লাগাত সীমান্তের ওপারে থাকা হ্যান্ডলাররা।, সিম খুলে ফেলা ফোন ব্যবহার করে তারা, নজরদারি এড়িয়ে যোগাযোগ রাখত, বারবার নম্বর বদল করে ট্র্যাকিং অসম্ভব করে তুলত, চ্যাট ডিলিট ও অ্যাপ ক্লোনিংয়ের মাধ্যমে প্রমাণ লোপাট করত
ভারতের ভিতরে হামলার ছক (Delhi Blast Accused)
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হল, পাকিস্তানে বসে থাকা হ্যান্ডলাররা ইউটিউব ও এনক্রিপ্টেড ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে আইইডি তৈরির প্রশিক্ষণ দিত। কীভাবে বিস্ফোরক বানাতে হবে, কী পরিমাণ উপকরণ লাগবে, কোথায় বসাতে হবে সব কিছুই ডিজিটাল মাধ্যমে শেখানো হতো। এরপর ভারতের ভিতরেই বড়সড় হামলার ছক কষা হচ্ছিল বলে তদন্তকারীদের অনুমান।
সক্রিয় সিম ছাড়া চলবে না মেসেজিং অ্যাপ (Delhi Blast Accused)
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় টেলিযোগাযোগ বিভাগ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করেছে। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম, সিগন্যালের মতো মেসেজিং অ্যাপ চালানোর জন্য ফোনে সব সময় একটি সক্রিয় সিম কার্ড থাকা বাধ্যতামূলক, ফোন থেকে সিম কার্ড খুলে ফেলা হলে সংশ্লিষ্ট অ্যাপগুলি স্বয়ংক্রিয়ভাবে লগ আউট হয়ে যাবে, সিম ছাড়া ইন্টারনেট ব্যবহার করে এই অ্যাপ চালানো আর সম্ভব হবে না
আরও পড়ুন: Dilip Ghosh: অমিত শাহের বৈঠকের পরেই মুখ বন্ধ দিলীপ ঘোষের!
টেলিকম ও অ্যাপ সংস্থার উপর চাপ
DoT নির্দেশ দিয়েছে, দেশের সমস্ত টেলিকম অপারেটর এবং অ্যাপ পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাকে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে এই নিয়ম কার্যকর করতে হবে। প্রযুক্তিগত পরিবর্তন, সফটওয়্যার আপডেট এবং ব্যবহারকারীদের যাচাই সব মিলিয়ে বড়সড় সংস্কারের পথে হাঁটতে চলেছে টেলিকম ও ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থা।



