Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সাহিত্যপ্রেম ও সংস্কৃতিচর্চা ছিল তাঁর ব্যক্তিত্বের অন্যতম পরিচিত দিক (Papiya Adhikari)। রাজনীতির ব্যস্ততার মধ্যেও সাহিত্য, কবিতা, নাটক ও সংস্কৃতির প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহের কথা বারবার উঠে এসেছে। সেই প্রসঙ্গ টেনেই এবার বুদ্ধদেবকে খোঁচা দিলেন বিজেপি বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, সাহিত্য জগতের মানুষকে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এমনকি নন্দনে দীর্ঘ সময় কাটানোর প্রসঙ্গ তুলে তিনি প্রশ্ন তোলেন, সেই সময়ে প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলাতেন কে?

‘বিমান দা?’—মশকরায় পাপিয়ার খোঁচা (Papiya Adhikari)
কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের লোগো উদ্বোধন অনুষ্ঠান ঘিরে রবিবার কলকাতায় ছিল তারকা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতি। অনুষ্ঠান শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য প্রসঙ্গে পাপিয়া বলেন, তাঁর জ্ঞান ও পড়াশোনা সকলেরই জানা। বছরের নির্দিষ্ট সময়ে তিনি দীর্ঘক্ষণ নন্দনে থাকতেন বলেও মন্তব্য করেন বিধায়ক। এরপরই মশকরার সুরে প্রশ্ন ছোড়েন, সেই সময় দায়িত্ব সামলাতেন কে—‘বিমান দা?’
মোদীকে নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই বদলে গেল সুর (Papiya Adhikari)
এরপর সাংবাদিকরা পাল্টা প্রশ্ন করেন, সাহিত্য জগতের মানুষ মুখ্যমন্ত্রী হওয়া নিয়ে যদি প্রশ্ন থাকে, তাহলে নরেন্দ্র মোদীর চা বিক্রির অতীত নিয়েও কি একই প্রশ্ন ওঠা উচিত নয়? এই প্রশ্নেই কার্যত সম্পূর্ণ ভিন্ন সুরে জবাব দেন পাপিয়া। তিনি বলেন, মোদী সাধারণ মানুষ নন, তিনি ‘দেবতা’, ‘ঠাকুর’।
‘ওনার ভাব সমাধি হয়েছিল’—বিতর্কিত মন্তব্য (Papiya Adhikari)
মোদীর আধ্যাত্মিকতা প্রসঙ্গে পাপিয়া বলেন, তিনি বরফের মধ্যে ধ্যান করেছেন এবং অনেকেই যেখানে মনে করেছিলেন তিনি পারবেন না, সেখানে তিনি তা করে দেখিয়েছেন। এমনকি তাঁর ‘ভাব সমাধি’ হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন বিজেপি বিধায়ক। তাঁর কথায়, “সবার হয় না।” মোদীকে নিয়ে আর কিছু না বলার জন্য সংবাদমাধ্যমকেও অনুরোধ করেন তিনি।
আরও পড়ুন: Government Job: রাজনৈতিক হিংসায় নিহতদের পরিবারের পাশে রাজ্য, মিলবে গ্রুপ-ডি চাকরি
রাজনীতির মঞ্চে ফের সাহিত্য বনাম নেতৃত্বের বিতর্ক
পাপিয়ার এই মন্তব্যের পর স্বাভাবিকভাবেই নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—একজন রাজনীতিকের সাহিত্যচর্চা কি তাঁর প্রশাসনিক দক্ষতার মাপকাঠি হতে পারে? একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে ‘দেবতা’ বা ‘ঠাকুর’ হিসেবে বর্ণনা করার মন্তব্য নিয়েও তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সাহিত্যপ্রেমকে কটাক্ষ এবং মোদীর আধ্যাত্মিকতার প্রশংসা—দুই বক্তব্য পাশাপাশি আসায় রাজনৈতিক মহলে চর্চার নতুন খোরাক তৈরি হয়েছে।



