Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: গত ২৫ বছরে রাজনৈতিক হিংসার বলি হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে বিশেষ উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার (Government Job)। ২০০১ সালের ১ জানুয়ারি বা তার পর থেকে নির্বাচনের সময় কিংবা নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক হিংসায় যাঁদের মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের পরিবারের একজন সদস্যকে সরকারি চাকরি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই মর্মে নবান্নের তরফে প্রকাশ করা হয়েছে বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তি। সরকারের এই উদ্যোগকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে আলোচনা।
কারা পাবেন চাকরির সুযোগ? (Government Job)
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মৃত ব্যক্তির পরিবারের একজন নির্ভরশীল সদস্য এই বিশেষ প্রকল্পের আওতায় চাকরির জন্য আবেদন করতে পারবেন। মৃত ব্যক্তির স্বামী বা স্ত্রী যেমন আবেদন করতে পারবেন, তেমনই ছেলে-মেয়েরাও এই সুযোগ পাবেন। এমনকি মৃত্যুর আগে আইনত দত্তক নেওয়া সন্তানদেরও আবেদনের অধিকার থাকবে। অর্থাৎ, রাজনৈতিক হিংসায় পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে যাঁরা আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন, তাঁদের মধ্যেই একজনকে এই প্রকল্পের আওতায় আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
কোন পদে হবে নিয়োগ? (Government Job)
রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তর, অধিদপ্তর, কালেক্টরেট এবং অন্যান্য সরকারি অফিসে গ্রুপ-ডি পদে নিয়োগ দেওয়া হবে। তবে চাকরি পাওয়ার আগে আবেদনকারীকে পুলিশ ভেরিফিকেশন এবং মেডিক্যাল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। আবেদনকারীর যোগ্যতা ও পরিবারের পরিস্থিতি যাচাই করবে নির্দিষ্ট স্ক্রিনিং কমিটি।
আবেদনের সঙ্গে কী কী নথি প্রয়োজন? (Government Job)
এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে নির্ধারিত ফর্ম পূরণ করে তা জেলাশাসকের কাছে জমা দিতে হবে। আবেদনের সঙ্গে মৃত ব্যক্তির মৃত্যুর শংসাপত্র, আবেদনকারীর সঙ্গে মৃত ব্যক্তির সম্পর্কের প্রমাণ, সংশ্লিষ্ট ঘটনার এফআইআর এবং আদালতে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে তৈরি চার্জশিট জমা দিতে হবে। অর্থাৎ, রাজনৈতিক হিংসার ঘটনার সরকারি ও আইনি নথিপত্র যাচাইয়ের পরেই আবেদনের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
সিদ্ধান্তে আপত্তি থাকলে মিলবে আপিলের সুযোগ
জেলা স্তরের স্ক্রিনিং কমিটি আবেদন যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেবে। তবে সেই সিদ্ধান্তে কোনও আবেদনকারী সন্তুষ্ট না হলে তাঁর জন্যও রাখা হয়েছে আপিলের সুযোগ। জেলা স্তরের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে নির্ধারিত ফর্ম-বি পূরণ করে রাজ্য স্তরের কমিটির কাছে আবেদন জানানো যাবে।
আরও পড়ুন: North Bengal: ভুটানের বিপর্যয়ের প্রভাব সংকোশে, মরা মাছ ঘিরে আতঙ্ক
চাকরির পরেও রয়েছে বিশেষ দায়িত্ব
শুধু চাকরি পেলেই দায়িত্ব শেষ হচ্ছে না। বিজ্ঞপ্তিতে চাকরিপ্রাপকের জন্য নির্দিষ্ট শর্তও রাখা হয়েছে। প্রতি বছর ৩১ জানুয়ারির মধ্যে তাঁকে ফর্ম-সি জমা দিতে হবে। সেখানে মৃত ব্যক্তির পরিবারের অন্যান্য নির্ভরশীল সদস্যদের ভরণপোষণের দায়িত্ব নেওয়ার অঙ্গীকার করতে হবে। অর্থাৎ, নিহতের পরিবারের একজন সদস্যকে চাকরি দেওয়ার পাশাপাশি সেই পরিবারের অন্যান্য নির্ভরশীলদের প্রতিও দায়িত্বশীল রাখার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের এই বিশেষ প্রকল্পে।



