Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারতের মত দেশে পরিবার অনেক সময় সন্তানের সবচেয়ে বড় শক্তি, আবার কখনও গভীর মানসিক আঘাতের কারণও হতে পারে। তাই কোনও সন্তান যখন মা-বাবাকে তার সমকামিতার কথা বলে, তখন সেই মুহূর্তটি তার জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে ওঠে(Pride Month 2026)।
‘প্রথম প্রতিক্রিয়াই গুরুত্বপূর্ণ’ (Pride Month 2026)
প্রাইড মান্থ ২০২৬ উপলক্ষে ফরিদাবাদের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. গায়ত্রী ভাটিয়া জানিয়েছেন, সন্তান যখন নিজের পরিচয় প্রকাশ করে, তখন বাবা-মায়ের প্রথম প্রতিক্রিয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
কেন এত কঠিন ‘কামিং আউট’?
ভারতে LGBTQ ব্যক্তিদের জন্য বিষয়টি এখনও সহজ নয়। পারিবারিক প্রত্যাশা, বিয়ে, সামাজিক চাপ এবং যৌনতা নিয়ে নীরবতা অনেক তরুণ-তরুণীকে ভয়ের মধ্যে রাখে। ২০১৮ সালে সমকামিতা অপরাধমুক্ত হলেও অনেকের মনে প্রশ্ন থেকে যায় “পরিবার কি আমাকে আগের মতোই ভালোবাসবে?”
প্রথম প্রতিক্রিয়া কেন গুরুত্বপূর্ণ?
ডা. ভাটিয়ার মতে, অনেক বাবা-মা প্রথমে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করেন, “তুমি কি নিশ্চিত?”, “এটা কি সাময়িক?” বা “লোকজন কী বলবে?”। এসব প্রশ্ন খারাপ উদ্দেশ্যে না হলেও সন্তানের মনে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার অনুভূতি তৈরি করতে পারে।
তিনি বলেন, সন্তানেরা নিখুঁত উত্তর আশা করে না। তারা চায় নিরাপত্তা ও ভালোবাসার আশ্বাস। পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি তাদের আত্মবিশ্বাস ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাবা-মা কী করবেন? (Pride Month 2026)
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, সন্তানকে মনোযোগ দিয়ে শুনুন, বাধা দেবেন না এবং বিচার না করে তার অভিজ্ঞতা বোঝার চেষ্টা করুন। বলতে পারেন, “আমি তোমার পাশে আছি” বা “তোমার অনুভূতি আমাকে বুঝতে সাহায্য করো।”
আরও পড়ুন: Bengaluru Agit: গভর্নরের কনভয়ে থামল ট্রাফিক, গর্ভবতী স্ত্রীর জন্য বিক্ষোভ স্বামীর
কী বলা উচিত নয়? (Pride Month 2026)
“এটা একটা পর্যায়”, “বন্ধুদের প্রভাব”, “সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে” বা “পরিবারের মান-সম্মান” নিয়ে মন্তব্য করা এড়িয়ে চলা উচিত। এসব কথা পরবর্তী পর্যায়ে মানসিক ক্ষত তৈরি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘কামিং আউট’ কোনো ভিন্নতার ঘোষণা নয়; এটি সন্তানদের পক্ষ থেকে সত্যিকারেই নিজের পরিচয় দেওয়ার একটি সাহসী পদক্ষেপ। সেই মুহূর্তে ভালোবাসা ও গ্রহণযোগ্যতাই সবচেয়ে বড় উপহার।



