Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: হুগলি, অমল চক্রবর্তী: হুগলির বলাগড় বিধানসভা থেকে বিজেপির প্রার্থী (BJP Sumana Sarkar) করা হয়েছিল সুমনা সরকারকে। প্রতিদ্বন্দ্বী হুগলি জেলা সভাধিপতি রঞ্জন ধারাকে প্রায় ৪৩ হাজার ভোটে হারিয়ে বলাগড়ের বিধায়ক হন সুমনা সরকার। এবার রাজ্যের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেলেন সুমনা সরকার।
লোকভবন থেকে শপথ গ্রহণ করে সোজা চলে আসেন ত্রিবেণীর শ্বশুর বাড়িতে। সেখানে ফুল মিষ্টি দিয়ে তাঁকে সম্বর্ধনা জানাতে হাজির হন প্রতিবেশী থেকে আত্মীয় স্বজনরা।
মেয়েবেলা ও বেড়ে ওঠা (BJP Sumana Sarkar)
বাবা বীরেন সরকার ছিলেন ১৯৭১ সাল থেকে ১৯৭৭ সাল (BJP Sumana Sarkar) পর্যন্ত কংগ্রেসের বিধায়ক। মা গীতা সরকার মারা গেছেন। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ব বিদ্যালয় থেকে গানে এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এম.এ করেন। বাড়ি সোমরা মধ্যপাড়ায়। সুমনার শ্বশুর বাড়ি শিবপুর হাজরা পাড়া। বর্তমানে সেখানে থাকেন শাশুড়ি নিভা সরকার, স্বামী বিদ্যুৎ সরকার, ছেলে শুভায়ু সরকার। স্বামী ব্যবসায়ী এবং ছেলে ক্লাস নাইনে পড়ে।
মন্ত্রীত্ব পেয়ে আপ্লুত বিধায়ক (BJP Sumana Sarkar)
বাবাকে দেখেই অনুপ্রাণিত হয়ে রাজনীতিতে প্রবেশ। তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক দলীয় দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৩ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সদস্যা ছিলেন হুগলি জেলা পরিষদের। পরে ২০১৮ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত হুগলি জেলা পরিষদের সহ সভাধিপতি হন।
২০২১ সালে নরেন্দ্র মোদির আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে (BJP Sumana Sarkar) মুকুল রায়ের হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দেন সুমনা সরকার। ২০২৬ সালে বিজেপির বিধায়ক এবং মন্ত্রীত্ব পান সুমনা। মন্ত্রীত্ব পেয়ে আপ্লুত সুমনা সরকার। অন্যদিকে খুশি পরিবার পরিজন থেকে প্রতিবেশীরাও।

সুমনা বলেন, “বহু লড়াইয়ের পর ৪৩ হাজারের কাছাকাছি ভোটে জিতেছি। আশুতোষ মুখোপাধ্যায়, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মাটিতে মাটির মেয়ে হিসেবে আমাকে প্রার্থী করেছে দল। বলাগড়ের মানুষ দুহাত তুলে আশীর্বাদ করেছে। আমি ভাবতে পারেনি আমাকে মন্ত্রিত্ব দেওয়া হবে। গতকাল রাতেই আমার কাছে ফোন আসে। এই খুশির আনন্দে আমি চোখে জল ধরে রাখতে পারেনি। নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ সমস্ত নেতৃত্বকে আমি প্রণাম কৃতজ্ঞতা জানাই। দল যে আমার উপর ভরসা রেখেছে সেটাই আমার কাছে বিরাট ব্যাপার।”
বাবার পথেই মেয়ে
তিনি আরইও বলেন, “বাবা বলাগড়ের বিধায়ক ছিলেন সেই জায়গাটাও আমার খুব কাজে লেগেছে। লোকভবন থেকে শপথ নেওয়ার সঙ্গে বলাগড়ের মানুষের জন্য শপথ নিয়েছি। সকলকে সঙ্গে নিয়েই কাজ করার জন্য আমি অঙ্গীকারবদ্ধ। ইতিমধ্যেই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পৈত্রিক ভিটে নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তার বংশধরদের সঙ্গেও কথাবার্তা হয়েছে। অমিত শাহ এর প্রতিশ্রুতি মতোই আমরা কাজ করব। বলাগড়ের ভাঙ্গন প্রবণ প্রায় ৪৫ কিলোমিটার এলাকা ইতিমধ্যেই সরকারি তরফে আলোচনা হয়েছে। বর্ষার পর নভেম্বর ডিসেম্বরের পর থেকে কাজ শুরু হবে। বলাগড়ে তৈরি হচ্ছে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় পোর্ট। ৯০০ একর জমিতে বন্দর তৈরি হলে বহু মানুষের কর্মসংস্থান হবে এখানে। রাস্তাঘাট ও ব্যবসার পরিবেশ তৈরি হবে বলাগড়ে। আমরা চেষ্টা করব যত তাড়াতাড়ি কাজ শুরু করার। পানীয় জলের সমস্যা থেকে বলাগড়ের নৌকা, ফুলের ক্লাসটার সবকিছুই ব্যাপারে চিন্তা ভাবনা করা হবে। এই এলাকার সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে জমি দখলের একাধিক অভিযোগ উঠে আসে। আগের দল জমি নিয়েও দুর্নীতি করে গেছে।”
আরও পড়ুন: Dev: নতুন সরকার আসায় আশাবাদী দেব!
সুমনা সরকারের শাশুড়ি নিভা সরকার বলেন, “আমি কখনোই ওকে সংসারে আটকায়নি। আমি সব সময় চেয়েছি ও কিছু একটা হোক। আজকে মন্ত্রী হওয়াতে আমরা খুশি।”


