Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বাংলা টেলিভিশনের পর্দায় প্রতি মুহূর্তে নানান ধরণের গল্প উঠে আসে কেউ প্রেমের (Professor Vidya Banerjee), কেউ বা রহস্যের, আবার কেউ সামাজিক সমস্যার প্রতিবাদে। এই সব গল্পের ভিড়ে স্টার জলসার নতুন ধারাবাহিক ‘প্রোফেসর বিদ্যা ব্যানার্জি’ নিঃসন্দেহে এক ব্যতিক্রমী সংযোজন। কারণ এই কাহিনির কেন্দ্রে রয়েছে এক নারী, যিনি নিজস্ব নীতির প্রতি অবিচল এবং শিক্ষার মর্যাদা রক্ষায় আপসহীন। তাঁর নাম বিদ্যা ব্যানার্জি, এবং এই চরিত্রে অভিনয় করছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী স্বস্তিকা দত্ত।
প্রোফেসর বিদ্যার সত্তা (Professor Vidya Banerjee)
প্রোফেসর বিদ্যা কোনো সাধারণ শিক্ষিকা নন। তাঁর মধ্যে রয়েছে এমন এক দৃঢ়তা, যা অন্যায়কে সামনে পেলেই তীব্র প্রতিবাদে রূপ নেয়। দূষণ, অসভ্যতা, অশিক্ষা কোনও কিছুকেই তিনি মেনে নেন না। তার কঠোরতা যেমন ছাত্রছাত্রীদের শাসনে দরকারি, তেমনই অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে তাঁর অবস্থান তাঁকে শিক্ষাঙ্গনে এক আলাদা মর্যাদা দিয়েছে। এই কারণেই অনেকেই তাঁকে দেখে শ্রদ্ধায় মুগ্ধ হন; আবার অনেকে ভয়ও পান তাঁর অকপট সত্যবাক্যে। তবে এই ন্যায়পরায়ণতার জন্য তাঁকে প্রায়শই বিরোধিতার মুখে পড়তে হয়, বিশেষ করে কলেজের ট্রাস্টি বোর্ডের কাছ থেকে।

ট্রাস্টি বোর্ডের চাপ ও নতুন সংকট (Professor Vidya Banerjee)
বিদ্যার দৃঢ় অবস্থান কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে যেন এক অস্বস্তির কারণ। ট্রাস্টি বোর্ডের ধারণা, অতিরিক্ত কঠোরতা ও প্রতিবাদের মনোভাব প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি নষ্ট করতে পারে। ফলে বিদ্যাকে কলেজ থেকে অপসারণের পরিকল্পনা করা হয়। ঘটনার মোড় ঘুরে যায় যখন ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য (অভিনয়ে সুপ্রিয় দত্ত) হঠাৎ কলেজে এসে বিদ্যাকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। এ ঘটনার পর ছাত্রছাত্রীরা বিদ্যার পাশে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদে মুখর হয়ে ওঠে। তারা আন্দোলন শুরু করে কলেজ প্রাঙ্গণে। বিদ্যাকে হারাতে রাজি নয় কেউই। কিন্তু প্রতিবাদ থামাতে কিছু বহিরাগত লোক এসে ছাত্রছাত্রীদের উপর অত্যাচার শুরু করে। উত্তেজনার মাঝেই পুলিশ ক্যাম্পাসে পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দিতে চেষ্টা করে। এই সংকটের মধ্যেই বিদ্যার সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন ট্রাস্টির ওই সদস্য। এই দ্বন্দ্ব কোন দিকে এগোবে, সেটাই এখন দর্শকের আগ্রহের কেন্দ্র।
বিদ্যা–অর্ণবের রসায়ন (Professor Vidya Banerjee)
ধারাবাহিক শুধু সংঘাত বা প্রতিবাদ নয়, মানবিক সম্পর্কের বিন্যাসেও সমৃদ্ধ। বিদ্যার বিপরীতে রয়েছেন অর্ণব বন্দ্যোপাধ্যায়।
এমন এক চরিত্র, যিনি প্রথমে বিদ্যার কঠোরতায় অস্বস্তি বোধ করলেও ধীরে ধীরে তাঁর মূল্যবোধ ও ন্যায়নিষ্ঠতার প্রতি আকৃষ্ট হতে থাকেন। প্রথমবার পর্দায় অর্ণব ও স্বস্তিকার জুটি এই নতুন রসায়ন দর্শকের কাছে কতটা গ্রহণযোগ্য হবে, তা আগামী দিনেই স্পষ্ট হবে।
ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘রাজরূপ’ (Professor Vidya Banerjee)
ধারাবাহিকের আরেক বিশেষ চরিত্র রাজরূপ, যাঁকে অভিনয় করছেন জনপ্রিয় অভিনেতা ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায়। বাস্তবেই এটি ভাস্বরের ক্যারিয়ারের ১২৬তম ধারাবাহিক। তিনি জানিয়েছেন, নাটকের মধ্যে তাঁর চরিত্র অত্যন্ত ইতিবাচক। তিনি ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ও সুপ্রিয় দত্তের ছোট ভাই। একইসঙ্গে তিনি নায়ক অর্ণবের কাকার ভূমিকায়। রাজরূপ কিছুটা নায়ককে পরামর্শদাতা, এমনকি প্রেমের বিষয়ে ‘লাভ গুরু’-র মতো সাহায্য করেন। তবুও চরিত্রটিতে কৌতুকের চেয়ে পরিপক্বতার উপস্থিতিই বেশি, যা গল্পকে আরও বাস্তবসম্মত করে তুলেছে।
আরও পড়ুন: MEPSC: প্রি-স্কুল ট্রেনিং-এ ভারতীয় শিক্ষাব্যবস্থার সংযোজন, মৌ স্বাক্ষরিত হল MEPSC ও BRC-র মধ্যে
ন্যায়বোধ ও সম্পর্কের বুনন
‘প্রোফেসর বিদ্যা ব্যানার্জি’ ধারাবাহিক যে কেবলমাত্র কলেজ প্রেক্ষাপটে কিছু ঘটনার সমষ্টি, তা নয়। এর গভীরে রয়েছে, শিক্ষার নৈতিকতা, নারীর আত্মমর্যাদা, ক্ষমতার দম্ভ, এবং ছাত্রছাত্রীদের সম্মিলিত প্রতিবাদের শক্তি। আজকের সমাজে শিক্ষাঙ্গনের সংকট, ক্ষমতার অপব্যবহার, এবং নারীশক্তির ভূমিকা এসব বিষয়কে সুন্দরভাবে প্রতিফলিত করছে এই ধারাবাহিক। বিদ্যার চরিত্রটি তাই শুধু একজন শিক্ষিকার গল্প নয়; এটিই প্রতিবাদের ভাষা, ন্যায়ের প্রতি অনমনীয় প্রতিশ্রুতির প্রতীক।



