Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বাংলাদেশের ময়মনসিংহে হিন্দু যুবক দীপু দাসকে নৃশংস ভাবে পিটিয়ে খুন করার ঘটনা শুধু সে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় হয়ে থাকেনি (Protest Bangladesh)। এই হত্যাকাণ্ড ঘিরে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ভারতে। তারই প্রতিফলন দেখা গেল কলকাতা, দিল্লি-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শুরু হওয়া প্রতিবাদ আন্দোলনে।

বাংলাদেশ উপদূতাবাস অভিযান (Protest Bangladesh)
মঙ্গলবার বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, বজরং দল, এবিভিপি ও হিন্দু জাগরণ মঞ্চ-সহ একাধিক সংগঠন কলকাতার বেকবাগানে অবস্থিত বাংলাদেশের উপদূতাবাসের উদ্দেশে অভিযানের ডাক দেয়। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী দীপু দাস হত্যার প্রতিবাদ জানিয়ে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার কথা ছিল বিক্ষোভকারীদের। তবে পরিস্থিতি দ্রুতই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে উপদূতাবাসের দিকে এগোনোর চেষ্টা করেন এবং সেই সময় অগ্নিসংযোগ ও পুলিশের উপর হামলার ঘটনাও ঘটে।
আলিপুর আদালতের রায় (Protest Bangladesh)
এই অশান্তির ঘটনায় মোট ১৯ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বুধবার আলিপুর আদালতে ধৃতদের পেশ করা হলে সাত জন মহিলা বিক্ষোভকারীর জামিন মঞ্জুর হয়। সরকারপক্ষের আইনজীবী এই সাত জনের জামিনে আপত্তি তোলেননি। তবে একই সঙ্গে গ্রেফতার হওয়া ১২ জন পুরুষ বিক্ষোভকারীর ক্ষেত্রে ভিন্ন অবস্থান নেয় সরকারপক্ষ। তাঁদের ‘ফুল টার্ম’ পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানিয়ে সরকারপক্ষের আইনজীবী বলেন, “এই ভাবে বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনে হামলা অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। মবের রাজনৈতিক চরিত্র জানতে তদন্ত প্রয়োজন।” আদালত শেষ পর্যন্ত ১২ জন পুরুষ বিক্ষোভকারীকে দু’দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।

ব্যারিকেড ভাঙা ও আহত পুলিশকর্মী (Protest Bangladesh)
পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে আগুন জ্বালান এবং পুলিশের উপর হামলা চালান। এতে বেশ কয়েক জন পুলিশকর্মী আহত হন। তাঁদের মধ্যে দু’জন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি। এই কারণেই তদন্তের স্বার্থে পুলিশি হেফাজতের প্রয়োজন বলে দাবি করে সরকারপক্ষ।
অভিযুক্তপক্ষের পাল্টা অভিযোগ (Protest Bangladesh)
অন্য দিকে অভিযুক্তদের আইনজীবী সম্পূর্ণ ভিন্ন ছবি তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, এটি একটি ঘোষিত ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ছিল। স্মারকলিপি জমা দেওয়ার উদ্দেশ্যেই বিক্ষোভ চলছিল। তিনি অভিযোগ করেন, “ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা ও ব্যারিকেড থাকা সত্ত্বেও পুলিশ হঠাৎ লাঠিচার্জ করে। যাঁরা ডেপুটেশন দিতে গিয়েছিলেন, তাঁদের সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি।” পুলিশের দাবিকেও প্রশ্নের মুখে ফেলে তিনি জানতে চান, সিজার লিস্ট অনুযায়ী কোনও ভাঙচুর হওয়া গাড়ি বা পুলিশের ইউনিফর্ম আদৌ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে কি না।

বিজেপি নেতৃত্বের উপস্থিতি (Protest Bangladesh)
লাঠিচার্জের অভিযোগের পর বেকবাগান এলাকা কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। একাধিক বিক্ষোভকারী আহত হন বলে অভিযোগ। অনেককে টেনেহিঁচড়ে প্রিজ়ন ভ্যানে তোলা হয়। এমনকি কয়েক জন বিক্ষোভকারী প্রিজ়ন ভ্যানের ছাদের উপর উঠে পড়েন বলেও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি। এই উত্তেজনার মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছন উত্তর কলকাতা জেলা বিজেপির সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষ-সহ বিজেপি নেতৃত্ব। তাঁদের বক্তব্য, পুলিশের লাঠিচার্জের প্রতিবাদ জানাতেই তাঁরা সেখানে যান এবং হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলির পাশে দাঁড়ান।
কড়া নিরাপত্তা হাইকমিশনে (Protest Bangladesh)
কলকাতার পাশাপাশি দিল্লিতেও ভিএইচপি ও বজরং দলের প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে বাংলাদেশ হাইকমিশনের দিকে এগোনোর চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়।দিল্লিতে হাইকমিশন চত্বর ঘিরে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয় এবং বারবার জমায়েত ছত্রভঙ্গ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: Thailand Cambodia Border: থাইল্যান্ড–কম্বোডিয়া সংঘাতে ভারতের উদ্বেগ
জম্মুতে কংগ্রেসের কর্মসূচি
দীপু দাস হত্যার প্রতিবাদ বুধবারও থেমে থাকেনি। দিল্লি-সহ দেশের নানা প্রান্তে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। জম্মুতে কংগ্রেসের তরফেও প্রতিবাদ সমাবেশ আয়োজন করা হয়, যা ইঙ্গিত দেয় এই ইস্যু রাজনৈতিক দলগুলির ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠছে।



