Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারত–রাশিয়া কূটনীতিতে এবার আসছে নতুন (Putin India Visit) অধ্যায়। আগামী ৪ এবং ৫ ডিসেম্বর দু’দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে আসছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। দিল্লিতে আয়োজিত রাশিয়া–ইন্ডিয়া ফোরাম ২০২৫-এ যোগ দেবেন তিনি।প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্য নিয়ে হবে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা। বিশেষ করে S-400 কেনা নিয়ে বড় সিদ্ধান্তের সম্ভাবনাও রয়েছে।
সফরের মূল আকর্ষণ (Putin India Visit)
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন গতি আসতে চলেছে ডিসেম্বরেই (Putin India Visit)। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামী ৪ ও ৫ ডিসেম্বর দুই দিনের জন্য ভারত সফরে আসছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। আন্তর্জাতিক কূটনীতির মোড় ঘোরানো মুহূর্তে পুতিনের এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সফরের মূল আকর্ষণ-দিল্লিতে আয়োজিত ‘রাশিয়া–ইন্ডিয়া ফোরাম ২০২৫’, যেখানে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব মুখোমুখি হবেন এবং বহুমুখী সহযোগিতা নিয়ে ধারাবাহিক বৈঠক হবে।

কৌশলগত প্রতিরক্ষা অংশীদার (Putin India Visit)
ভারত দীর্ঘদিন ধরেই রাশিয়ার অন্যতম কৌশলগত প্রতিরক্ষা (Putin India Visit) অংশীদার। আধুনিক যুদ্ধব্যবস্থায় নিজেদের আরও শক্তিশালী করে তুলতে যে প্রকল্পগুলি চলছে, তার বেশ কয়েকটিই রাশিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত। বিশেষ করে S-400 এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম। ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা শক্তিকে বহু গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে S-400। ইতিমধ্যেই কয়েকটি ইউনিট হাতে এসেছে, আরও কিছু ইউনিটের ডেলিভারি বাকি। এই সফরে বাকি থাকা ইউনিটের দ্রুত সরবরাহ, অতিরিক্ত ব্যাটারি কেনা, এবং ভবিষ্যতে যৌথ উৎপাদনের সম্ভাবনা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হতে পারে।
ভারত–রাশিয়া যৌথ উদ্যোগ
ভারত–রাশিয়া যৌথ উদ্যোগে তৈরি ব্রহ্মোসকে আরও আধুনিক ও সুদূরপাল্লার করতে আপগ্রেড সংক্রান্ত চুক্তি হতে পারে। নৌসেনা ও স্থলসেনার জন্য আলাদা সংস্করণ নিয়েও কথা এগোতে পারে।রাশিয়ার পক্ষ থেকে ভারতীয় মাটিতে আরও রক্ষণাবেক্ষণ হাব গড়ে তোলার প্রস্তাব আসতে পারে—বিশেষ করে যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার এবং সাবমেরিন প্রযুক্তির ক্ষেত্রে।বাণিজ্যেও বাড়ছে নজর — জ্বালানি থেকে কৃষি, প্রযুক্তি—সব ক্ষেত্রেই বড় সম্ভাবনা।

ভারত–রাশিয়া বাণিজ্যের গ্রাফ
ভারত–রাশিয়া বাণিজ্যের গ্রাফ গত দুই বছরে নজিরবিহীনভাবে বেড়েছে। এবার লক্ষ্য—এই বৃদ্ধিকে স্থায়ী ও স্থিতিশীল করা।দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য আরও দ্রুত ও স্বচ্ছ করতে রুপি–রুবল বিনিময় ব্যবস্থাকে সহজ করার চেষ্টা চলবে।রাশিয়া ভারতকে দীর্ঘমেয়াদি অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস সরবরাহ করতে আগ্রহী। পরমাণু শক্তি প্রকল্পেও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও বাড়তে পারে।
পুতিনের সফর
রাশিয়ার বড় বড় সংস্থাগুলি ভারতের রেল, বন্দর, ফার্মাসিউটিক্যাল ও প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। ভারতের পক্ষ থেকেও রাশিয়ায় কৃষি ও খনিজ ক্ষেত্রে যৌথ প্রকল্পের প্রস্তাব থাকতে পারে। বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে ভারত স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতিকে শক্ত হাতে ধরে রেখেছে। পশ্চিমা দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেও মস্কোর সঙ্গে কৌশলগত দূরত্ব কমানো নয়, বরং আরও সুস্পষ্ট করা—এই বার্তাই দিতে পারে পুতিনের সফর।
আরও পড়ুন: Waqf Amendment Act: সুপ্রিম কোর্টের অবস্থানের পর বদল মনোভাব, রাজ্যে কার্যকর ওয়াকফ সংশোধনী আইন
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পুতিনের এই সফর শুধু কূটনৈতিক সৌজন্য নয়, বরং আগামী দশকের কৌশলগত সমীকরণ নির্ধারণের এক বড় পদক্ষেপ।দুই দেশের দীর্ঘ দশকের বন্ধুত্ব, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, বাণিজ্য এবং কৌশলগত বিশ্বাসের ভিত্তিতে এই সফর ভারত–রাশিয়া সম্পর্কে নতুন দিশা দেখাতে পারে। বিশেষ করে, প্রতিরক্ষা চুক্তির সম্ভাব্য অগ্রগতি ভারতের নিরাপত্তা নীতি ও ভবিষ্যৎ সামরিক পরিকল্পনাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।


