Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারতীয় চিত্রসাংবাদিকতার আকাশে এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের পতন ঘটল (Raghu Rai)। প্রখ্যাত আলোকচিত্রী রঘু রাই-এর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ গোটা দেশ। শনিবার ৮৩ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যু শুধু একটি ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, বরং ভারতীয় শিল্প ও সাংবাদিকতার ইতিহাসে এক গভীর শূন্যতার সৃষ্টি করল।

দীর্ঘ লড়াইয়ের পর নীরবতা (Raghu Rai)
জীবনের শেষ কয়েক বছর কঠিন রোগভোগের মধ্য দিয়েই কাটাতে হয়েছে তাঁকে। প্রস্টেট ক্যানসার দিয়ে শুরু, তারপর ধীরে ধীরে তা শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে। চিকিৎসায় মাঝেমধ্যে আশার আলো দেখা গেলেও শেষপর্যন্ত তা নিভে যায়। বয়সজনিত নানা সমস্যাও তাঁর শারীরিক অবস্থাকে আরও জটিল করে তোলে। এই দীর্ঘ লড়াইয়ের পর অবশেষে থেমে যায় তাঁর জীবনসংগ্রাম।
শেষ যাত্রা ও শ্রদ্ধাঞ্জলি (Raghu Rai)
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দিল্লির লোধি রোড শ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। শিল্পী, সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ—সমস্ত মহল থেকেই তাঁর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে। তাঁর প্রয়াণে যেন এক নিঃশব্দ শোকের ছায়া নেমে এসেছে দেশের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে।
সম্মানের মুকুটে উজ্জ্বল নাম (Raghu Rai)
রঘু রাইয়ের অবদানকে স্বীকৃতি জানাতে ১৯৭২ সালে তাঁকে প্রদান করা হয় পদ্মশ্রী—ভারতের চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান। তাঁর ক্যামেরা শুধু ছবি তোলেনি, বরং সময়ের দলিল তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক স্তরেও তাঁর কাজ বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে এবং বিশ্বের নামী পত্রিকা ও ম্যাগাজিনে তাঁর ছবি স্থান পেয়েছে।

ইতিহাসের নির্মম ও বাস্তব মুখ (Raghu Rai)
রঘু রাইয়ের ক্যামেরা ছিল সত্যের সাক্ষী। ১৯৮৪ সালের ভয়াবহ ভোপাল গ্যাস বিপর্যয়-এর বিভীষিকাময় দৃশ্য তিনি বিশ্বের সামনে তুলে ধরেন। তাঁর তোলা ছবিগুলো আজও সেই সময়ের যন্ত্রণা ও মানবিক বিপর্যয়ের এক অমোচনীয় দলিল হয়ে রয়েছে।
বিখ্যাতদের চোখে ধরা এক শিল্পী (Raghu Rai)
তিনি শুধু ঘটনাই নয়, মানুষকেও নতুনভাবে তুলে ধরেছিলেন। তাঁর ক্যামেরায় ধরা পড়েছে— ইন্দিরা গান্ধী, বাল ঠাকরে, সত্যজিৎ রায়, মাদার টেরেসা, এবং দালাই লামা-র মতো বিশ্বখ্যাত ব্যক্তিত্ব। তাঁর তোলা তাজমহল-এর ছবি শুধু একটি স্থাপত্য নয়, বরং এক শিল্পকাব্যে পরিণত হয়েছে তাঁর লেন্সে।
অনুপ্রেরণার গল্প (Raghu Rai)
১৯৪২ সালে পাঞ্জাবের ঝাং-এ জন্মগ্রহণ করেন রঘু রাই। তাঁর বড় ভাই এস. পল-এর কাছেই তিনি ফটোগ্রাফির প্রথম পাঠ নেন। ১৯৬০-এর দশকে পেশাদার জীবন শুরু করে ১৯৬৫ সালে দিল্লির একটি ইংরেজি দৈনিকে যোগ দেন। সেখান থেকেই তাঁর যাত্রা শুরু, যা পরে তাঁকে খ্যাতির শিখরে পৌঁছে দেয়।

আরও পড়ুন: Noapara Blast: শেষ দফা ভোটের আগে উত্তেজনা, বোমা বিস্ফোরণে কাঁপল নোয়াপাড়া!
ছবির ভেতরে গল্প, গল্পের ভেতরে সময়
রঘু রাইয়ের কাজ শুধু সংবাদমাধ্যমেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি একাধিক ফটোবুক প্রকাশ করেছেন, যেখানে তাঁর তোলা ছবিগুলোর মাধ্যমে ফুটে উঠেছে সময়, সমাজ ও মানুষের নানা দিক। তাঁর কাজ গবেষণা, শিল্পচর্চা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক অমূল্য সম্পদ হয়ে থাকবে।



