Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দক্ষিণেশ্বরের কালীমন্দির, গঙ্গার (Ramakrishna Dev) আরতি আর ভক্তদের ভিড়-এই ছবিটাই আজ শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবকে ঘিরে আমাদের পরিচিত দৃশ্য। তিনি বাঙালির কাছে কেবল একজন সাধক নন, যুগাবতার, কল্পতরু, পরম আশ্রয়। কিন্তু এই মহিমান্বিত আধ্যাত্মিকতার আড়ালে চাপা পড়ে গেছে তাঁর জীবনের এক গভীর বেদনাময় অধ্যায়।
ঠাকুরের গলায় ক্ষত (Ramakrishna Dev)
১৮৮৫ সালের দিকে ঠাকুরের গলায় সামান্য (Ramakrishna Dev) ক্ষত দেখা দিয়েছিল। প্রথমে সেটিকে সাধারণ অসুখ বলে মনে করা হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তা ভয়ংকর রূপ নেয়। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় সেটি ছিল গলার ক্যানসার। যাঁর কথায় মানুষ শান্তি পেত, যাঁর উচ্চারণকে ভক্তরা অমৃত বলে মানত, সেই গলাটিই ধীরে ধীরে হয়ে উঠেছিল তাঁর মৃত্যুর প্রধান কারণ। সামান্য জল বা খাদ্য গ্রহণ করাও হয়ে উঠেছিল অসহনীয় যন্ত্রণার বিষয়। তবুও তাঁর মুখে ছিল আশ্চর্য শান্ত হাসি।

প্রাণকেন্দ্র দক্ষিণেশ্বর (Ramakrishna Dev)
দক্ষিণেশ্বর ছিল তাঁর (Ramakrishna Dev) প্রাণকেন্দ্র। মা ভবতারিণীর সান্নিধ্য ছাড়া এক মুহূর্তও থাকতে পারতেন না তিনি। অথচ চিকিৎসার তাগিদে তাঁকে বাধ্য করা হয় মন্দির ছেড়ে শ্যামপুকুর, তারপর কাশীপুরে যেতে। এই বিচ্ছেদ তাঁর কাছে শারীরিক কষ্টের থেকেও ভয়ংকর ছিল। সারদাদেবী উপলব্ধি করেছিলেন, দক্ষিণেশ্বর ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঠাকুরের জীবনের আনন্দ অধ্যায়ের ইতি ঘটেছে। এই সময়েই সমাজের একাংশের নির্মমতা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তথাকথিত শিক্ষিত সমাজের কেউ কেউ বিদ্রূপ করেছিল-যিনি ঈশ্বর, তিনি নিজের রোগ সারাতে পারছেন না কেন? এমনকি তাঁর অসুস্থতাকে উন্মাদনা বা অসংযমের ফল বলেও ব্যাখ্যা করা হয়েছিল। বাঙালি সমাজ তাঁর দর্শন ও ভাবনার গভীরতা নিয়ে যত আলোচনা করেছে, তাঁর শারীরিক যন্ত্রণার প্রতি ততটাই উদাসীন থেকেছে।
আরও পড়ুন: Haridwar: হরিদ্বারে ‘অ-হিন্দুদের প্রবেশ নিষিদ্ধ’, পুরোনো নিয়ম নাকি নতুন নিয়েই বিতর্ক?
চিকিৎসার সময় অর্থকষ্ট
কাশীপুরে চিকিৎসার সময় অর্থকষ্ট ছিল চরমে। শিষ্যদের ভিক্ষা করে চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতে হয়েছে। উপযুক্ত পথ্য বা ওষুধ অনেক সময়ই জুটত না। এই সময় মা সারদা নিঃশব্দে সমস্ত দায়িত্ব বহন করেছিলেন-রান্না, সেবা, ক্ষত পরিষ্কার, সবই তাঁর হাতেই। অথচ সেই কলকাতার বিত্তশালী সমাজ প্রায় নির্বিকার ছিল।

মহাসমাধিতে বিলীন শ্রীরামকৃষ্ণ
১৮৮৬ সালের ১৬ আগস্ট, নিঃশব্দে মহাসমাধিতে বিলীন হন শ্রীরামকৃষ্ণ। কোনও রাষ্ট্রীয় শোক নয়, কোনও জনসমুদ্র নয়-কয়েকজন তরুণ শিষ্যই তাঁর শেষযাত্রার সঙ্গী ছিলেন। ব্রিটিশ নথিতে তিনি প্রায় একজন সাধারণ পুরোহিত হিসেবেই চিহ্নিত হতে বসেছিলেন। মৃত্যুর পরও অবহেলা থামেনি। মন্দির কর্তৃপক্ষ ও সমাজের একাংশের আচরণ ছিল বিমাতৃসুলভ। সারদাদেবীকে দীর্ঘদিন চরম দারিদ্র্যের মধ্যে কাটাতে হয়েছে।


