Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দিল্লির একেবারে দুয়ারে বড়সড় নাশকতার ছক ভেসে উঠল ( RDX Recovered)। জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে হরিয়ানার ফরিদাবাদ থেকে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, প্রায় ৩০০ কিলোগ্রাম আরডিএক্স ও অন্যান্য বিস্ফোরক পদার্থ, সঙ্গে দুটি একে-৪৭ রাইফেল এবং প্রচুর গুলি-বারুদ। ঘটনাটির সূত্র দক্ষিণ কাশ্মীরে লুকিয়ে ছিল যেখানে চিকিৎসক পরিচয়ে কাজ করছিলেন একাধিক সন্দেহভাজন জঙ্গি সহযোগী।
সূত্র ফাঁস করল ধৃত চিকিৎসক ( RDX Recovered)
কয়েকদিন আগেই জইশ-ই-মহম্মদ সংগঠনের পোস্টার লাগানোর অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় এক কাশ্মীরি চিকিৎসক, ডাঃ আদিল আহমেদ রাথেরকে। তিনি অনন্তনাগের সরকারি মেডিকেল কলেজে রেসিডেন্ট ডাক্তার ছিলেন। তদন্তকারীরা তাঁর শ্রীনগরের লকারে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করেন একটি একে-৪৭ রাইফেল ও গুলি। সেই ঘটনার সূত্র ধরেই উঠে আসে আরও এক চিকিৎসকের নাম। আদিলের ঘনিষ্ঠ এই ডাক্তারকে জেরা করার পর, পাওয়া যায় ফরিদাবাদের ফ্ল্যাটে রাখা অস্ত্রভাণ্ডারের খবর। জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের একটি বিশেষ দল সেখানে হানা দিয়েই উদ্ধার করে বিপুল পরিমাণ আরডিএক্স, গোলাবারুদ ও আগ্নেয়াস্ত্র।
মেডিকেল পেশার আড়ালে জঙ্গি যোগাযোগ ( RDX Recovered)
তদন্তকারীরা মনে করছেন, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, একটি সংগঠিত নেটওয়ার্ক দক্ষিণ কাশ্মীর থেকে হরিয়ানা পর্যন্ত ছড়িয়ে রয়েছে। মেডিকেল প্রতিষ্ঠানের ছত্রছায়ায় এই জাল গড়ে তোলা হয়েছিল যাতে সন্দেহের বাইরে থেকে গোপনে জঙ্গি সংগঠনগুলিকে সাহায্য করা যায়। পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, “এই চক্র শুধুমাত্র পোস্টার লাগানো বা ব্যক্তিগত আদর্শে অনুপ্রাণিত নয়। এটি জইশ-ই-মহম্মদের সক্রিয় শাখা, যারা চিকিৎসা পেশার আড়ালে অস্ত্র ও বিস্ফোরক পাচারের কাজ চালাচ্ছিল।”
দিল্লির নিরাপত্তায় উচ্চ সতর্কতা ( RDX Recovered)
ফরিদাবাদ থেকে এত বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার হওয়ার পরই দিল্লি ও সংলগ্ন এলাকায় উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পুলিশের অনুমান, রাজধানীতে কোনও বড় হামলার ছক কষা হচ্ছিল। বিস্ফোরকের পরিমাণ এবং ধৃতদের পেশাগত অবস্থান দেখে তদন্তকারীরা নিশ্চিত যে এটি পরিকল্পিত সন্ত্রাসী চক্রের কাজ।
পরবর্তী পদক্ষেপ ও তদন্তের দিক ( RDX Recovered)
এখনও পর্যন্ত তিনজন চিকিৎসককে গ্রেফতার করা হয়েছে। আরও কয়েকজন সন্দেহভাজনের নাম পুলিশের হাতে এসেছে— যাঁরা দক্ষিণ কাশ্মীর, দিল্লি এবং হরিয়ানায় ছড়িয়ে রয়েছেন। আগামী ৩-৪ ঘণ্টার মধ্যেই এই চক্র সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ পেতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, এই চিকিৎসকরা কতদিন ধরে সক্রিয় ছিলেন, তাদের অর্থের উৎস কোথা থেকে, এবং জইশ-ই-মহম্মদের কোন শাখার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ছিল।

আরও পড়ুন: Thailand: ট্রাম্প-সচেষ্ট থাইল্যান্ড-কাম্বোডিয়া শান্তিচুক্তি স্থগিত, ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে উত্তেজনা
এক নতুন ধরনের হুমকি
ভারতের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ার বা প্রশাসনিক পেশার মানুষদের মাধ্যমে জঙ্গি সংগঠন নিজেদের নেটওয়ার্ক বিস্তার করছে যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সমাজে প্রভাবশালী এবং নির্দোষ ভাবমূর্তির আড়ালে এরা সহজেই অস্ত্র পরিবহণ ও গোপন যোগাযোগ রক্ষা করতে পারছে।



