Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: কর্মক্ষেত্রে অতিরিক্ত চাপ, দীর্ঘ কাজের সময় ও বার্নআউট এই বিষয়গুলো নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্ক ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। এরই মাঝে ভারতে ‘রাইট টু ডিসকানেক্ট’ নিয়ে আলোচনা নতুন করে সামনে এসেছে(Right to Disconnect)। লোকসভায় সুপ্রিয়া সুলে একটি বেসরকারি বিল আনলেও, বাস্তবে সেটি আইন হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে এর মাধ্যমে কর্মীদের মানসিক চাপ ও কাজ–জীবনের ভারসাম্য নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আনা হয়েছে।
কর্পোরেট লাইফ নাকি স্বাস্থ্যকর লাইফ? (Right to Disconnect)
এদিকে বহু সিইও কর্মীদের আরও দীর্ঘ সময় কাজ করতে উৎসাহিত করছেন, অথচ মজুরি প্রায় অপরিবর্তিত। চাকরির বাজারও কঠিন হয়ে উঠেছে। ফলে অনেক কর্মী এখন কর্পোরেট সিঁড়ি বেয়ে ওপরে ওঠার বদলে স্বাস্থ্যকর কাজ–জীবনের ভারসাম্যকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
কেরালা এগিয়ে (Right to Disconnect)
এই প্রেক্ষাপটে কেরালা নজির গড়তে পারে। ২০২৫ সালে রাজ্য বিধানসভায় ‘রাইট টু ডিসকানেক্ট বিল’ উত্থাপন করেছেন কেরালা কংগ্রেস (এম)-এর বিধায়ক ড. এন জয়রাজ। বিলটি বেসরকারি কর্মীদের অফিস সময়ের বাইরে ফোন, ই-মেল, মেসেজ বা ভিডিও কলে সাড়া না দেওয়ার অধিকার দেয়। এই অধিকার প্রয়োগের জন্য কাউকে বরখাস্ত, পদাবনতি বা সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। বিলটি জাতিসংঘের মানবাধিকার ঘোষণার অনুচ্ছেদ ২৪ ও ভারতের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২১-এর আদর্শ থেকে অনুপ্রাণিত। অনেকের মতে, ২০২৬ সালেই কেরালা ভারতের প্রথম রাজ্য হিসেবে এমন আইন পাস করতে পারে।
বিশ্বের চিত্র (Right to Disconnect)
ফিলিপিন্সে ইতিমধ্যেই শ্রম দপ্তর কর্মীদের অফিসের বাইরে কাজ না করার অধিকার স্বীকার করেছে। ২০২৫ সালের শেষে সেখানে নতুন বিলও উত্থাপিত হয়েছে। তবে ব্যবসায়ী মহলের একাংশ আশঙ্কা করছে, এতে বিনিয়োগ কমতে পারে। আয়ারল্যান্ডে ‘কোড অব প্র্যাকটিস’ চালু আছে, আর যুক্তরাজ্যও নতুন শ্রম সংস্কারের অংশ হিসেবে এমন আইন বিবেচনা করছে।
কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা? (Right to Disconnect)
বিশেষজ্ঞদের মতে, আইন গুরুত্বপূর্ণ হলেও একমাত্র সমাধান নয়। কর্মক্ষেত্রের সংস্কৃতি, ব্যবস্থাপকদের দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রতিষ্ঠানের সদিচ্ছাই শেষ পর্যন্ত কর্মীদের সুস্থতা নিশ্চিত করতে পারে।



