Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ব্রততী সরকার: ৯০ এবং ২০০০ এর দশকের শিশুদের রবিবার (Robert Mad) মানেই ছিল ছোটা ভীম, সিন্চান, মাইটি রাজু কিংবা অন্য কোনো বিনোদনমূলক কার্টুন। আর এসবের মধ্যেই অন্যতম ছিল ‘ম্যাড’। ফেলে দেওয়া জিনিসপত্র থেকে কখনও সুন্দর কোনো সৌখিন কিছু আবার কখনও বড়ো ক্যানভাসে আঁকা হতো ছবি। সবকিছুতেই পারদর্শী ছিলেন ম্যাড’র বিখ্যাত রব। রব ওরফে রবার্টের কাজে মুগ্ধ ছিল অসংখ্য শিশু। পর্দার সেই পরিচিত মুখকে আর দেখা যায়না বহুবছর। কোথায় হারিয়ে গেলেন রব?
রবার্ট থেকে ‘রব’ হওয়ার গল্প (Robert Mad)
রবার্ট থেকে ম্যাড এর রব হবার গল্পটা মোটেও (Robert Mad) সহজ ছিল না। পড়াশোনা শেষে বোম্বে যাওয়ার পর তিনি জানতে পারেন একটি অনুষ্ঠানের জন্য শিল্পী খোঁজা হচ্ছে। ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে হবে জানার পরে তিনি প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। তবে শেষমেশ রাজি হয়ে অডিশনে যান। নিজের স্ক্রিপ্ট এবং ট্যালেন্টই তাকে নিয়ে আসে পোগোর জনপ্রিয় শো ‘ম্যাড’ এ।
বাবার ইচ্ছা ছিল ডাক্তার হবেন রবার্ট (Robert Mad)
শিক্ষিত পরিবারে বেড়ে ওঠা রবের শিল্পী (Robert Mad) হবার পথ এতটাও সহজ ছিল না। বাবা ইন্ডিয়ান এয়ারলাইনসের কর্মচারী ছিলেন। দাদা মার্কিন দূতাবাসে কাজ করতেন। পরিবারের সর্বোপরি রবার্টের বাবার খুব ইচ্ছা ছিল, ছেলে বড়ো হয়ে ডাক্তার হবে। বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা শেষ করে মেডিক্যাল এর প্রবেশিকা পরীক্ষাতেও সফল হন তিনি। কিন্তু গল্পের মোড় ঘুরলো যখন তাঁর এক বন্ধু তাঁকে আর্ট কলেজে ভর্তি হওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানায়। রবার্টের কথায় পরিস্থিতি এই সময় ‘থ্রি ইডিয়টস’ এর মতো হয়ে উঠেছিল। প্রথম চেষ্টাতে মেডিক্যাল এর প্রবেশিকা পরীক্ষাতে সফল হলেও তিনি বেছে নেন নিজের স্বপ্নকে। নিজেকে প্রমান করতে শুরু করেন কাজও।
কতটা জনপ্রিয়তা লাভ করেছিলেন রবার্ট
রবার্ট জানান , শুরুর দিকে নিজের বাড়িতে টেলিভিশন ছিল না তাঁর। মাঝে মধ্যে বন্ধুর বাড়িতে গিয়ে নিজের শো দেখতেন তিনি। একদিন চেন্নাইয়ের এক অনুষ্ঠানে অনেক বাচ্চাদের নিজের নাম ধরে ডাকতে দেখে তিনি বুঝতে পারেন, তিনি কিছুটা জনপ্রিয় হয়েছেন। তিনি আরও জানান মাঝে মাঝে ক্যাফেতে গিয়ে ভক্তদের অনুরোধে অনেকবার হাতের কাজ বানাতে হয়েছে তাঁকে।
আরও পড়ুন: India Archery Gold: এশিয়াডে তিরন্দাজিতে জোড়া সোনা ভারতের, অলিম্পিক্সের টিকিটও পাকা!
‘ম্যাড’ ছাড়ার পর কী করছেন তিনি?
ম্যাড ছাড়াই পর রবার্ট গোয়াতে চলে যান। স্ত্রী ও দুই সন্তাকে নিয়ে সেখানে নিড়িবিলিতে শান্তির জীবন কাটাচ্ছেন তিনি। তিনি আরও জানান এখন তিনি একজন স্বাধীন শিল্পী হিসাবে কাজ করছেন। সমাজ মাধ্যমে ডিজিট্যাল কন্টেন্ট বানানোর পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকল্পেও কাজ করেন তিনি। সন্তানদের প্রচলিত স্কুলের পরিবর্তে ‘আনস্কুলিং’ এর মাধ্যমে বড় করছেন রবার্ট। তাঁর বিশ্বাস শেখার মধ্যে কৌতূহল ও স্বাধীনতা থাকা ভীষণ ভাবে জরুরি। আর্থিকভাবেও এখন আগের চেয়ে ভালো আছেন তিনি। ইউটিউব এবং ইনস্টাগ্রামে এখন অ্যাকটিভ ভাবে কাজও করছেন বলে জানিয়েছেন রবার্ট।


