Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রাজ্যের সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলন, বামপন্থী সংগঠনগুলির ভূমিকা এবং প্রতিবাদের নামে ওঠা বিতর্কিত স্লোগান নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)। তিনি বলেন, গণতন্ত্রে প্রতিবাদ করার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের রয়েছে। ছাত্র, রাজনৈতিক দল কিংবা সাধারণ মানুষ সকলেই সংবিধানপ্রদত্ত এই অধিকার ভোগ করেন। কিন্তু সেই অধিকার কখনই দেশবিরোধী কার্যকলাপ, হিংসা কিংবা জনজীবন বিপর্যস্ত করার লাইসেন্স হতে পারে না।
‘প্রতিবাদের অধিকার সংবিধান দিয়েছে’ (Samik Bhattacharya)
শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্যের শুরুতেই ছিল গণতান্ত্রিক অধিকারের স্বীকৃতি। তিনি বলেন, বামপন্থী দলগুলি চাইলে ছাত্রদের পাশে দাঁড়াতেই পারে। সেটি তাদের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার। একইভাবে ছাত্রদেরও নিজেদের দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলন করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। তাঁর মতে, ভারতের সংবিধান প্রত্যেক নাগরিককে মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার দিয়েছে। তাই কোনো আন্দোলন বা প্রতিবাদকে শুধুমাত্র রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে অস্বীকার করা উচিত নয়।
‘আজাদির স্লোগান কেন?’—তীব্র প্রশ্ন শমীকের
তবে এখানেই নিজের মূল আপত্তির কথা তুলে ধরেন বিজেপি নেতা। তাঁর প্রশ্ন, স্বাধীন ভারতের মাটিতে আবার “আজাদী”র দাবি কেন উঠবে? তিনি বলেন, ভারত তো বহু আগেই স্বাধীন হয়েছে। তাহলে “আজাদী”র স্লোগানের অর্থ কী? তাঁর অভিযোগ, এই ধরনের স্লোগানের সঙ্গে অতীতে “কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদী”, “ভারত তেরে টুকড়ে হোঙ্গে”র মতো বিতর্কিত স্লোগানের মিল রয়েছে। শমীক ভট্টাচার্যের দাবি, এই ধরনের বক্তব্য শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিবাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং দেশের অখণ্ডতা ও জাতীয় সংহতি নিয়ে প্রশ্ন তোলার চেষ্টা।
৩৭০ ও ৩৫এ প্রসঙ্গ টেনে কটাক্ষ (Samik Bhattacharya)
বক্তব্যে তিনি কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারের বিষয়টিও উল্লেখ করেন। তাঁর প্রশ্ন, যারা “আজাদী”র স্লোগান তুলছেন, তারা কি আবার সংবিধানের ৩৭০ এবং ৩৫এ ধারা ফিরিয়ে আনতে চাইছেন? এই প্রসঙ্গ টেনে তিনি বোঝানোর চেষ্টা করেন যে, কিছু রাজনৈতিক শক্তি এখনও বিচ্ছিন্নতাবাদী মনোভাবকে প্রশ্রয় দিচ্ছে বলে তাঁর ধারণা।
সাংবাদিকদের উপর হামলার অভিযোগ (Samik Bhattacharya)
শুধু স্লোগান নয়, আন্দোলনের সময় ঘটে যাওয়া হিংসাত্মক ঘটনাগুলিরও তীব্র সমালোচনা করেন শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর অভিযোগ, আন্দোলনের নামে সাংবাদিকদের উপর হামলা হয়েছে, তাঁদের রক্তাক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি নিরীহ পথচারীদের উপর আক্রমণ, দোকানপাট ভাঙচুর এবং সাধারণ মানুষের সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই ধরনের ঘটনাকে আদৌ কি ছাত্র আন্দোলন বলা যায়?
‘এটা ছাত্র আন্দোলন নয়’—স্পষ্ট অবস্থান (Samik Bhattacharya)
শমীক ভট্টাচার্যের মতে, যেদিন এই ঘটনাগুলি ঘটেছে, সেদিনের ঘটনাকে ছাত্র আন্দোলন বলা ভুল হবে। তিনি দাবি করেন, প্রকৃত ছাত্র আন্দোলন কখনও সাধারণ মানুষের ক্ষতি করে না, সাংবাদিকদের উপর হামলা চালায় না কিংবা ভাঙচুরকে হাতিয়ার বানায় না। তাঁর মতে, এগুলি আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা।
আরও পড়ুন: Dharmatala Protest: ধর্মতলা কাণ্ডে পুলিশের বড় পদক্ষেপ, গ্রেফতার ১১ অভিযুক্ত
দেশবিরোধী স্লোগান নিয়ে কড়া সতর্কবার্তা
বক্তব্যের শেষাংশে শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট ভাষায় বলেন, আন্দোলন চলতেই পারে, প্রতিবাদও চলতে পারে। কিন্তু যদি কেউ “ভারত তেরি টুকড়ে হোঙ্গে” ধরনের দেশবিরোধী স্লোগান দেয়, তাহলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নেবে। তিনি ইঙ্গিত দেন, এই ধরনের স্লোগানকে মত প্রকাশের স্বাধীনতার আড়ালে বৈধতা দেওয়া যায় না এবং আইন অনুযায়ী পুলিশ ব্যবস্থা নিতেই পারে।



