Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: আজকাল প্রতিটা বাড়ির অন্দরে চোখ (Mobile Addiction) রাখলেই একটি অতিপরিচিত ছবি চোখে পড়ে। খেতে বসে বাচ্চাদের হাতে ফোন। অবসর সময়েও ফোনেই মগ্ন বেশিরভাগ বাচ্চারা। এই নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীও। এই সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে কেটিভি বাংলার পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছিল হুগলি জেলার বিখ্যাত এক স্কুল খামারপাড়া জাতীয় ক্রীড়া ও শক্তি সংঘ ব্যায়ামনগর স্পোর্টস প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক সমীর বরণ ভট্টাচার্য্যের সঙ্গে।
নষ্ট হচ্ছে সৃজনশীলতা! (Mobile Addiction)
তিনিও এই বিষয় নিয়ে (Mobile Addiction) খুবই উদ্বিগ্ন। তিনি জানান, “আসলে ব্যাপারটা হচ্ছে যে, মোবাইলটা কিছু কিছু বাচ্চার ক্ষেত্রে অ্যাডিকশনের পর্যায়ে চলে গেছে। মোবাইল ছাড়া বেশ কিছু বাচ্চা খেতে চায় না; মোবাইল দেখবে, তারপরে খাবে। বায়না করছে, তাকে ভোলানোর জন্য মোবাইলটা দিতে হচ্ছে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে যে, মোবাইল দেখে দেখে-আমার যেটা প্রধান শিক্ষক হিসেবে এবং সর্বোপরি একজন শিক্ষক হিসেবে মনে হয়েছে-এই মোবাইলটা ওদের মানসিকতার ক্ষেত্রে, বিকাশের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করছে। কারণ হচ্ছে, ওদের ক্রিয়েটিভিটি বা সৃজনশীলতাটা অনেকটাই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।”

পড়তে হবে বই (Mobile Addiction)
বই পড়ার প্রসঙ্গ টেনে এনে সমীর বাবুর (Mobile Addiction) মত, “বই পড়ে যে জিনিসটা শেখা যায়, বই পাঠটা এমন একটা জিনিস যা মোবাইল পূরণ করতে পারে না। মোবাইলে সে দেখে যাচ্ছে, শুনে যাচ্ছে; কিন্তু বই যখন পড়ছে, তার ভেতরে সে ঢুকতে পারছে। সেই অনুভূতিটা কিন্তু মোবাইলের ভেতরে প্রবেশ করলে বিকশিত হয় না। বই পড়ানো গেলে বাচ্চাদের বুদ্ধি-বৃত্তির বিকাশ ঘটতে পারে; উচ্চারণগত বৈশিষ্ট্য, বানান, একটা পাঠ সুন্দরভাবে পড়া-এই বিষয়গুলো থাকে, যা ওদের পক্ষে উপযোগী। মোবাইল কিন্তু বাচ্চাদের যথেষ্টই ক্ষতি করছে। অভিভাবকদের এর বিকল্প বা পরিপূরক কিছু চিন্তা করা উচিত-বাচ্চাদের ভোলাবার জন্য, প্রতিটি বিষয়ে মনোযোগী (attentive) করার জন্য।”
অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা (Mobile Addiction)
নিজের বিদ্যালয়েও এই বিষয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, “আমাদের গত ৩১শে আগস্ট, ২০২৬-এ ক্লাস ৪-এর অভিভাবকদের নিয়ে আমরা বসেছিলাম। অন্য কারণে বসেছিলাম, তবে প্রসঙ্গক্রমে এই মোবাইলের বিষয়টাও এসেছিল। আমি অভিভাবকদের অনুরোধ করেছিলাম যে, যতটা সম্ভব ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে যেন তারা মোবাইল না দেন। কারণ তাদের সঙ্গে কথা বলে যেটুকু বুঝতে পারলাম, এখনই ওদের হাত থেকে মোবাইলটা পুরোপুরি ছাড়িয়ে নেওয়া অনেকের ক্ষেত্রেই খুব কঠিন।
তাই আমি বলেছি সময়সীমাটা কমান। কারণ স্কুল থেকে গিয়েই অনেক বাচ্চা মোবাইল নিয়ে শুয়ে পড়ে, বায়না করে। আমার মনে হয়, এর ফলে ওদের বুদ্ধিবৃত্তির বিকাশের ক্ষেত্রে একটা অন্তরায় সৃষ্টি হচ্ছে। বিকল্প নিয়ে আমাদের চিন্তা করতে হবে।”

আরও পড়ুন: Teachers Day: মাংস-ভাত না পেয়ে তাণ্ডব! শিক্ষক দিবসেই ছাত্রদের মারে রক্তাক্ত প্রধান শিক্ষক
ট্রায়াঙ্গুলার রিলেশনশিপ
কথায় কথায় শিশুর বিকাশের সম্পর্কে খুব সুন্দর একটি উপমা তুলে ধরেন প্রধান শিক্ষক সমীর বরণ ভট্টাচার্য্য। তিনি আরও বলেন, “একটি শিশু বিকশিত হয় একটি ট্রায়াঙ্গুলার রিলেশনশিপের (ত্রিকোণীয় সম্পর্ক) ওপর। তার একদিকে থাকে তার সামাজিক ও চারপাশের পরিবেশ, একদিকে অভিভাবক ও শিক্ষক, এবং একদিকে আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট। এই তিনটি দেওয়ালের মধ্য দিয়েই শিশুরূপী চারাগাছটিকে আমাদের বড় করে তুলতে হয়। সুতরাং, এই ট্রায়াঙ্গুলার রিলেশনশিপের প্রতিটি দিক দিয়েই আমাদের চিন্তা করতে হবে যে, কত কম ওদের হাতে মোবাইল ব্যবহার করতে দেওয়া যায়। তবে এই মুহূর্তেই পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে বললে সেটা খুব কঠিন কাজ হবে, কারণ প্রচুর বাচ্চা এতে আসক্ত।”


