Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বাগেশ্বর বাবার বাঙালিদের ‘পাখণ্ডী’ বলা এবং আমিষ খাবার থেকে বিরত থাকার পরামর্শকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক (Avik Sarkar)। এই মন্তব্য প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন লেখক অভীক সরকার। তাঁর বক্তব্য, মানুষের ব্যক্তিগত খাদ্যাভ্যাস নিয়ে এভাবে মন্তব্য করা কোনওভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।
‘আমিষ খেলেই পাখণ্ডী’ (Avik Sarkar)
অভীক সরকারের মতে, আমিষ খাবার খেলে মানুষ পাখণ্ডী হয়ে যায় এমন ধারণা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত মতামত হতে পারে, কিন্তু সেটিকে সর্বজনীন সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা যায় না। তিনি এই বক্তব্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ দ্বিমত পোষণ করেন। তাঁর যুক্তি, প্রত্যেক মানুষের খাদ্যাভ্যাস তার নিজস্ব পছন্দ, সংস্কৃতি ও পারিবারিক পরম্পরার সঙ্গে যুক্ত। তাই সেই অভ্যাসকে কেন্দ্র করে কোনও সম্প্রদায় বা জাতিকে অপমান করা উচিত নয়।
দুর্গাপূজার সঙ্গে আমিষের সম্পর্ক কোথায়? (Avik Sarkar)
অভীক সরকার বিশেষভাবে তুলে ধরেছেন বাঙালির দুর্গাপূজার ঐতিহ্য। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বাঙালির দুর্গাপূজার বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানের সঙ্গে আমিষ ভোগ ও বলিদানের ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই সেই ভোগ প্রসাদ হিসেবেই গ্রহণ করা হয়। ফলে বাঙালির ধর্মীয় সংস্কৃতিকে না জেনে শুধুমাত্র খাদ্যাভ্যাসের ভিত্তিতে বিচার করা যথাযথ নয়।
শাস্ত্র ও পূজার রীতির প্রসঙ্গ (Avik Sarkar)
অভীক সরকার হিন্দুশাস্ত্রের বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, বিভিন্ন দেবতার পূজায় বিভিন্ন ধরনের নিবেদন বা উপাচারের উল্লেখ রয়েছে। মহাশক্তির আরাধনায় বলিদানের প্রথাও বিভিন্ন শাস্ত্র ও পুরাণে আলোচিত হয়েছে।

আরও পড়ুন: Dr. Aditya Mukhopadhyay: বহুরূপী কি সত্যিই চোর-ডাকাত! কী বললেন সাহিত্যিক ড: আদিত্য মুখোপাধ্যায়
‘ঠিক না জেনেই হয়তো বলেছেন’—কড়া বার্তা
অভীক সরকারের বক্তব্যের মূল সুর হল—বাঙালির ধর্মীয় সংস্কৃতি ও দুর্গাপূজার রীতিনীতি সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান না থাকলে এমন মন্তব্য করা বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। তাঁর মতে, মতের পার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু অন্যের খাদ্যাভ্যাস বা সংস্কৃতিকে অপমান না করেই ধর্মীয় আলোচনা হওয়া উচিত।



