Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পূর্ব ধোপাগাছি এলাকার পুকুর থেকে তরুণীর বস্তাবন্দি গলাকাটা দেহ উদ্ধারের ঘটনায় যে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছিল (Baruipur), তা মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই উদঘাটন করে বারুইপুর থানার পুলিশ। এই ঘটনায় উঠে এসেছে প্রেম, প্রতারণা, ক্ষোভ এবং এক ভয়াবহ অপরাধের চিত্র, যা সমাজকে আবারও নাড়িয়ে দিয়েছে।

ঘটনাস্থলে আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য (Baruipur)
গতকাল পূর্ব ধোপাগাছির একটি পুকুর থেকে উদ্ধার হয় এক তরুণীর বস্তাবন্দি দেহ। গলা কাটা অবস্থায় দেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই আতঙ্ক ছড়ায় গোটা এলাকায়। স্থানীয় মানুষজনের মধ্যে তৈরি হয় ভীতি ও ক্ষোভ। কে এই তরুণী, কেন তাকে এভাবে হত্যা করা হল এই প্রশ্ন ঘিরেই শুরু হয় তীব্র চাঞ্চল্য।
দ্রুত তদন্তে পুলিশের তৎপরতা (Baruipur)
ঘটনার গুরুত্ব বুঝে সঙ্গে সঙ্গেই তদন্তে নামে বারুইপুর থানার পুলিশ। এলাকায় থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা শুরু হয়। সেই ফুটেজে একটি সাদা গাড়ির সন্দেহজনক গতিবিধি নজরে আসে। এই সূত্রই তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দেয় এবং পুলিশ দ্রুত অপরাধীদের নাগাল পেতে সক্ষম হয়।
প্রেমের সম্পর্ক থেকে চরম পরিণতি (Baruipur)
তদন্তে উঠে আসে, রায়দিঘির বাসিন্দা রেকসোনা খাতুনের সঙ্গে বিবাহিত মেহেরাজ হোসেনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এই সম্পর্কই ধীরে ধীরে জটিলতার দিকে গড়ায়। ঘটনার দিন রাতে পদ্মপুকুর এলাকার একটি ভাড়া বাড়িতে বিয়ের দাবিকে কেন্দ্র করে দু’জনের মধ্যে তীব্র বচসা শুরু হয়। অভিযোগ, সেই উত্তেজনার মুহূর্তেই মেহেরাজ ব্লেড দিয়ে রেকসোনার গলা কেটে খুন করে।

দেহ লোপাটের পরিকল্পনা (Baruipur)
খুনের পর ঘটনাকে আড়াল করতে এগিয়ে আসে মেহেরাজের দাদা মেহেবুব হোসেন। দু’জনে মিলে দেহটি একটি বস্তায় ভরে গাড়িতে করে নিয়ে যায়। পরে ধোপাগাছির খালে সেই দেহ ফেলে দেয়, যাতে প্রমাণ নষ্ট করা যায়। কিন্তু এই পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি।
প্রযুক্তির জালে ধরা অপরাধী (Baruipur)
সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে পুলিশ প্রথমে বকখালি থেকে মেহেবুব হোসেনকে গ্রেফতার করে। এরপর তাকে দিয়ে কৌশলে ফোন করিয়ে কলকাতার বড়বাজার এলাকা থেকে মূল অভিযুক্ত মেহেরাজ হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। এই ঘটনায় আবারও প্রমাণিত হল, আধুনিক প্রযুক্তি তদন্তে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

আরও পড়ুন: US Flight: একদিনেই বাতিল হাজারের বেশি উড়ান: ভ্রমণ মরসুমে আমেরিকায় চরম যাত্রী দুর্ভোগ
আইনি প্রক্রিয়া ও পরবর্তী পদক্ষেপ
ধৃত দুই অভিযুক্তকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে। এই খুনের পেছনে আরও কোনও ব্যক্তি জড়িত কি না, বা অন্য কোনও উদ্দেশ্য ছিল কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আজ তাদের আদালতে পেশ করা হবে এবং পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানানো হতে পারে।



