Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: আর মাত্র কিছুদিন পরেই রাজ্যজুড়ে পালিত হতে চলেছে বিদ্যার দেবী সরস্বতীর আরাধনা (Saraswati Puja)। বর্তমান সময়ের উৎসবমুখর আবহের আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে এই পুজোর বহু শতাব্দী প্রাচীন ইতিহাস, যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে ভারতীয় সভ্যতা, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক বিবর্তনের ধারাবাহিকতা। সরস্বতী পুজোর ইতিহাস শুধু ধর্মীয় নয়, বরং তা ভারতীয় জ্ঞানচর্চার ইতিহাসেরই এক গুরুত্বপূর্ণ দলিল।
বৈদিক যুগে সরস্বতীর উদ্ভব (Saraswati Puja)
সরস্বতী দেবীর উল্লেখ পাওয়া যায় ঋগ্বেদের একাধিক সূক্তে। প্রাথমিকভাবে সরস্বতী ছিলেন এক প্রবাহমান নদীর দেবী, যাঁকে জীবনদাত্রী ও পবিত্রতার প্রতীক হিসেবে কল্পনা করা হত। কালক্রমে এই নদী-দেবীর রূপান্তর ঘটে জ্ঞান, বাক্শক্তি ও সৃজনশীলতার অধিষ্ঠাত্রী দেবী হিসেবে। বৈদিক যুগেই সরস্বতী ‘বাক্ দেবী’ রূপে প্রতিষ্ঠা পান, যা পরবর্তীকালে শিক্ষার সঙ্গে তাঁর অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত হওয়ার ভিত্তি তৈরি করে।
পুরাণে বিদ্যার দেবীর রূপান্তর (Saraswati Puja)
পুরাণযুগে এসে সরস্বতীর রূপ আরও সুস্পষ্ট হয়। ব্রহ্মার সহধর্মিণী হিসেবে তিনি সৃষ্টির জ্ঞানতাত্ত্বিক দিকের প্রতিনিধিত্ব করতে শুরু করেন। পুরাণে সরস্বতীর হাতে বীণা, পুস্তক, অক্ষমালা ও কমণ্ডলুর উল্লেখ পাওয়া যায় যা জ্ঞান, সঙ্গীত, তপস্যা ও সাধনার প্রতীক। এই সময় থেকেই সরস্বতী পুজো ধীরে ধীরে বিদ্যা ও সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত আচার হিসেবে গড়ে ওঠে।
শিক্ষাকেন্দ্র ও সরস্বতী পুজোর যোগসূত্র (Saraswati Puja)
প্রাচীন ভারতের টোল, গুরুগৃহ ও আশ্রমকেন্দ্রিক শিক্ষাব্যবস্থায় সরস্বতী পুজোর প্রচলন ছিল। বিদ্যারম্ভ ও শিক্ষালাভের আগে দেবীর আরাধনা করা হত। এই প্রথা মধ্যযুগ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। বিশেষ করে বাংলায় নবদ্বীপ, বিক্রমশীলা ও অন্যান্য শিক্ষাকেন্দ্রে সরস্বতী পুজো ছিল শিক্ষাঙ্গনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।
মধ্যযুগে বাংলায় সরস্বতী আরাধনার বিস্তার
মধ্যযুগে বাংলার সমাজে সরস্বতী পুজো বিশেষ গুরুত্ব লাভ করে বলে সূত্রের খবর। রাজপরিবার ও জমিদার বাড়িগুলিতে এই পুজো পারিবারিক ও সামাজিক উৎসবে পরিণত হয়। অনেক ক্ষেত্রে সরস্বতী পুজো ছিল বসন্তের সূচনালগ্নে জ্ঞান ও কলার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের উপলক্ষ্য। এই সময় থেকেই একচালা, সিংহাসনবদ্ধ সরস্বতী মূর্তির প্রচলন বাড়তে থাকে।
ঔপনিবেশিক যুগ ও আধুনিক শিক্ষার প্রভাব (Saraswati Puja)
ব্রিটিশ শাসনামলে পাশ্চাত্য শিক্ষাব্যবস্থার প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে সরস্বতী পুজোর চরিত্রে নতুন মাত্রা যোগ হয়। স্কুল, কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই পুজো সামাজিক উৎসবের রূপ নেয়। ছাত্রসমাজের মধ্যে দেবীর আরাধনা হয়ে ওঠে পরীক্ষার আগে আশীর্বাদ প্রার্থনার এক প্রতীকী মাধ্যম। এই সময় থেকেই সরস্বতী পুজো বাংলার শিক্ষাসংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে মিশে যায়।
আরও পড়ুন: Mumbai: মুম্বইয়ে ফের রিসর্ট রাজনীতি: বিএমসি জিততে প্রতিনিধিদের পাঁচতারা হোটেলে পাঠাল শিন্ডে শিবসেনা
বিংশ শতাব্দীতে সর্বজনীন রূপ
বিংশ শতাব্দীতে এসে সরস্বতী পুজো কেবল অভিজাত বা শিক্ষাকেন্দ্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়। পাড়ার ক্লাব, যুব সংগঠন ও সাধারণ পরিবারেও এই পুজোর প্রচলন বাড়ে। বিদ্যার দেবী তখন কেবল ছাত্রছাত্রীদের নয়, শিল্পী, সাহিত্যিক ও সৃজনশীল মানুষেরও আশ্রয়দাত্রী হয়ে ওঠেন।



