Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: হাতে আর মাত্র একদিন। অথচ আগুনে রঙের পলাশ তো দূর অস্ত গাছে গাছে কুঁড়িরও দেখা নেই (Saraswati Puja)। শাখায় শাখায় সবে কালচে আভা। খুঁজে পেতে হলে যেন দূরবীন লাগবে। হাড় কাঁপানো ঠান্ডা না থাকলেও আবহাওয়া বিজ্ঞানীদের মতে এখনও বঙ্গজুড়ে শীতই রাজত্ব করছে। উত্তর থেকে দক্ষিণ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ থেকে ১৫ ডিগ্রির মধ্যেই ঘোরাফেরা করছে এই মাঘে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে আবহাওয়া উষ্ণ না হলে কুঁড়ি ফাটিয়ে পলাশ আগুন ঝরাবে কী করে?

জঙ্গলমহল জুড়ে একই ছবি (Saraswati Puja)
সূত্রের খবর, আগুনে পলাশের আঁতুড়ঘর হিসেবে পরিচিত পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম থেকে লালমাটির বীরভূম সর্বত্র একই অবস্থা। কোথাও পলাশে ফুল নেই, কোথাও আবার কুঁড়িরও অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। একই ছবি উত্তরবঙ্গেও। ফলে কলকাতা ও শহরতলিতে পলাশ আসবে কোথা থেকে সেই প্রশ্ন ঘোরাফেরা করছে পুজো উদ্যোক্তা ও পুরোহিত মহলে।
বনদপ্তরের কড়া নির্দেশ (Saraswati Puja)
এই পরিস্থিতিতে বনদপ্তর আরও কড়া অবস্থান নিয়েছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, পুরুলিয়া বনবিভাগের পাশাপাশি বাঁকুড়া ও ঝাড়গ্রামের জঙ্গলমহলেও পলাশের ডাল ভাঙা তো দূরের কথা, কুঁড়ি তোলার ক্ষেত্রেও রয়েছে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা। পুলিশের নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। কারণ বসন্তকালে পলাশের উপর নির্ভর করেই জঙ্গলমহলে পর্যটন জমজমাট হয়ে ওঠে, বিশেষত পুরুলিয়ায়। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় কোনও রকম ছাড় দিতে রাজি নয় বনদপ্তর।

সরস্বতী পুজো এগিয়ে আসায় বিপত্তি (Saraswati Puja)
এ বছর ক্যালেন্ডারে সরস্বতী পুজো অনেকটাই এগিয়ে এসেছে। জানুয়ারির শেষেই বিদ্যার দেবীর আরাধনা যা অনেকের কাছেই অভূতপূর্ব। পুরুলিয়ার মানবাজারের মধুপুর এলাকার একটি ক্লাবের সম্পাদক ত্রিদিব সেনের কথায়, “সরস্বতী পুজোয় বাগদেবীর চরণে পলাশ ফুল না দিলে আরাধনা সম্পূর্ণ হয় না। কিন্তু এবার শীত এতটাই রয়ে গিয়েছে যে পলাশ ফুটছেই না। জানুয়ারির শেষে পুজো এমনটা শেষ কবে হয়েছে মনে পড়ে না।”
কেন পলাশ ছাড়া অসম্পূর্ণ (Saraswati Puja)
পুরোহিতদের মতে, দেবী সরস্বতীর সঙ্গে প্রজনন ও উর্বরতার গভীর যোগ রয়েছে। দেবী ঋতুমতীর প্রতীক। আগুনে রঙের লালচে-কমলা পলাশ সেই উর্বরতারই প্রতীক। তাই দেবীর পুষ্পপাত্রে আবির, কুমকুম, আমের মুকুল ও যবের শিষের সঙ্গে পলাশ ফুল থাকা বাধ্যতামূলক। পুরুলিয়া শহরের প্রভাকর উপাধিপ্রাপ্ত পুরোহিত আদিত্য ঘোষাল বলেন, “দেবী সরস্বতী পলাশপ্রিয়া। নিয়ম অনুযায়ী পলাশ না থাকলে আরাধনায় এক ধরনের অপূর্ণতা থেকেই যায়। কিন্তু এবার সত্যিই বোঝা মুশকিল, দেবীর চরণে পলাশ দেওয়া আদৌ সম্ভব হবে কিনা।”
ফুলবাজারেও হাহাকার (Saraswati Puja)
সারা বাংলা ফুল চাষি ও ফুল ব্যবসায়ী সমিতির সূত্রের খবর, অধিকাংশ বছরেই সরস্বতী পুজো ফেব্রুয়ারির প্রথম বা মাঝামাঝি সময়ে হয়। তখন পলাশ পুরো না ফুটলেও কুঁড়ি বাজারে আসে। “মল্লিকঘাট ফুল বাজারে এক একটি পলাশ কলি ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখেছি। বিভিন্ন ক্লাবের কর্মকর্তারা সেগুলো কিনে নিয়ে যান। কিন্তু এবার তো পলাশই নেই। বাজারেও নেই, জঙ্গলেও নেই।”
আরও পড়ুন: Zakir Khan: পেশা থেকে আপাতত বিরতি স্ট্যান্ড আপ কমেডিয়ান জাকির খানের: কিন্তু কেন?
প্লাস্টিকের পলাশ কি সমাধান?
কালীপুজোয় প্লাস্টিকের জবা ব্যবহারের চল থাকলেও পলাশের ক্ষেত্রে তেমন বিকল্প চোখে পড়ে না। সূত্রের খবর অনুযায়ী, বাজারে প্লাস্টিকের পলাশ প্রায় নেই বললেই চলে। তাছাড়া ধর্মীয় আচার মেনে অনেক পুরোহিতই কৃত্রিম ফুল ব্যবহারে অনিচ্ছুক।



