Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ইরান-আমেরিকা সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালীতে তেল পরিবহণ কার্যত ব্যাহত (Saudi Aramco)। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে ইতিমধ্যেই অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই নতুন করে চাপ তৈরি করেছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হাউথিদের হামলা। সৌদি আরবের পশ্চিম উপকূলে ধারাবাহিক হামলার জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ ‘পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন’।

এই পাইপলাইনটি হরমুজ প্রণালীর বিকল্প পথ হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হরমুজে সমস্যা দেখা দিলে সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল থেকে পশ্চিম উপকূলে তেল পৌঁছে দিয়ে সেখান থেকে লোহিত সাগর হয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানোর ক্ষেত্রে এই পাইপলাইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। হামলার পর নিরাপত্তার কারণে সেটিও বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে রিয়াধ।
আরামকোর সিদ্ধান্তে ভারতের উদ্বেগ (Saudi Aramco)
এই পরিস্থিতির মধ্যেই ভারতের জন্য আরও উদ্বেগের খবর সামনে এসেছে। সূত্রের খবর, সৌদি আরবের সরকারি তেল সংস্থা আরামকো লোহিত সাগর এবং হরমুজ প্রণালী—দুই পথেই ভারতে তেল সরবরাহ বন্ধ রেখেছে। ফলে ভারতের তেল আমদানির ক্ষেত্রে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অপরিশোধিত তেল আমদানিকারক দেশ। দেশের বিপুল জ্বালানি চাহিদা মেটাতে বিদেশ থেকে নিয়মিত অপরিশোধিত তেল আমদানি করতে হয়। ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন তৈরি হলে তার প্রভাব পড়তে পারে শোধনাগার, পরিবহণ এবং শেষ পর্যন্ত বাজারদরের উপরেও।
বাড়ছে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম (Saudi Aramco)
হরমুজ প্রণালীতে বিঘ্ন এবং সরবরাহের বিকল্প পথেও হামলার প্রভাব ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে দেখা যাচ্ছে। বুধবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০৬ ডলারে পৌঁছে যায়। সরবরাহ নিয়ে আশঙ্কা যত বাড়বে, তেলের বাজারে দামের উপর ততই চাপ তৈরি হতে পারে।
তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি সরবরাহ বন্ধের পর্যায়ে পৌঁছেছে কি না, তা নিয়ে কিছুটা জটিলতা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌদি আরব কিছু ‘স্পট কার্গো’ ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করেছে। ফলে সীমিত পরিমাণে তেল হরমুজ প্রণালী হয়ে ভারতীয় শোধনাগারে পৌঁছনোর সম্ভাবনা রয়েছে।

আরও পড়ুন: Suvendu Adhikari: অন্নপূর্ণা দিবসে একাধিক বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর
সংকট কতটা গভীর হবে?
এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, সৌদি আরবের সরবরাহে এই বাধা কতদিন স্থায়ী হয়। সাময়িক সমস্যা হলে ভারত বিকল্প উৎস থেকে আমদানি বাড়িয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে পারে। কিন্তু হরমুজ, লোহিত সাগর এবং সৌদি তেল পরিবহণ ব্যবস্থায় দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাজারের পাশাপাশি ভারতের জ্বালানি অর্থনীতিতেও তার প্রভাব পড়তে পারে। তাই নজর এখন যুদ্ধ পরিস্থিতি, সমুদ্রপথের নিরাপত্তা এবং সৌদি আরবের পরবর্তী তেল সরবরাহ নীতির দিকে।



