Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভূমিকম্প পৃথিবীর অন্যতম প্রাকৃতিক ও অপ্রত্যাশিত বিপর্যয় (Earthquake)। কখন, কোথায়, কী মাত্রায় তা আঘাত হানবে এ প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট উত্তর এখনও বিজ্ঞানের কাছে অধরা। পৃথিবীর গভীরে টেকটোনিক প্লেটের সঞ্চালন, শিলার ঘর্ষণ, চাপ ও তাপমাত্রার জটিল সম্পর্ক একটি ভূমিকম্পের জন্ম দেয়। কিন্তু সব ভূমিকম্প কি একইরকম? কেন কিছু কম্পন অপ্রত্যাশিতভাবে ধ্বংস ডেকে আনে, আবার কিছু কম্পন অতি সামান্য অনুভূত হয়? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই সুইজারল্যান্ডের বিজ্ঞানীরা একটি সাহসী ও নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিয়েছেন আল্পস পর্বতমালার গভীরে কৃত্রিম ভূমিকম্প সৃষ্টি করে তাদের আচরণ যাচাই করা।

ভূমিকম্পের তাৎক্ষণিক কারণের অনুসন্ধান (Earthquake)
প্রকৃতির স্বাভাবিক ভূমিকম্প সাধারণত ঘটে ফল্ট লাইনে থাকা শিলাগুলির হঠাৎ পিছলে যাওয়ার ফলে। গভীর ভূগর্ভে বছরের পর বছর জমে থাকা চাপ যখন একটি সীমা অতিক্রম করে, তখন শিলার ঘর্ষণ ভেঙে গিয়ে হঠাৎ বিশাল শক্তি মুক্তি ঘটে। এই শক্তির বিস্ফোরণই ভূকম্পন সৃষ্টি করে। কিন্তু এখানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এই প্রক্রিয়াটি পৃথিবীর এমন গভীরে ঘটে যে বিজ্ঞানীরা তা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করতে পারেন না। ভূমিকম্প ঘটে হঠাৎ; আর আমরা তার আচরণ কেবল ঘটনার পরে অধ্যয়ন করি। ফলে ভূমিকম্পের জন্মমুহূর্তের গতিশীলতা, সংকেত ও প্রাথমিক ঝুঁকির কারণগুলি অন্ধকারেই থেকে যায়। এ কারণেই ETH জুরিখের অধ্যাপক ডোমেনিকো গিয়ার্ডিনির নেতৃত্বে FEAR (Fault Activation and Earthquake Rupture) প্রকল্প বিজ্ঞানসভায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।
কৃত্রিম ভূমিকম্প তৈরির সাহসী প্রক্রিয়া (Earthquake)
FEAR প্রকল্পের গবেষকরা আল্পসের গভীরে রেলওয়ে প্রকল্পের জন্য নির্মিত একটি সুড়ঙ্গকে পরীক্ষাগার হিসেবে ব্যবহার করছেন। আল্পসের শিলা দীর্ঘ টেকটোনিক ইতিহাসে চ্যুতিযুক্ত হওয়ায় এটি ভূমিকম্প পরীক্ষার জন্য আদর্শ পরিবেশ সরবরাহ করে।
জল প্রবেশ করিয়ে কম্পন সৃষ্টি (Earthquake)
বিজ্ঞানীরা ফল্ট লাইনের শিলার ফাঁকে উচ্চচাপে জল পাম্প করেন। জল প্রবেশ করলে, শিলার উপর চাপ বৃদ্ধি পায়, ঘর্ষণ কমে, শিলা হঠাৎ পিছলে গিয়ে ক্ষুদ্র কম্পন তৈরি হয়। এটি তেল ও গ্যাস শিল্পের wastewater injection-এর অনুরূপ, যেখানে অনিচ্ছাকৃত ছোট ভূমিকম্পের ঘটনা প্রায়ই দেখা গেছে। এই প্রক্রিয়ার লক্ষ্য নয় বড় কম্পন সৃষ্টি করা; বরং ভূমিকম্পের তাত্ক্ষণিক সঞ্চালন কীভাবে কাজ করে তা বোঝা।
লক্ষ লক্ষ মাইক্রো–ভূমিকম্প ও তার পাঠ
গবেষণা দল এখন পর্যন্ত লক্ষ লক্ষ ক্ষুদ্র ভূমিকম্প সফলভাবে তৈরি করেছে যাদের অধিকাংশই শূন্য কিংবা ঋণাত্মক মাত্রার। যদিও মানুষের পক্ষে এদের অনুভব করা অসম্ভব, সেন্সর নেটওয়ার্ক প্রতিটি কম্পনের ক্ষুদ্রতম নড়াচড়া ধরে রাখতে সক্ষম। এভাবে ভূগর্ভের ফল্টগুলির মাইক্রো–আচরণ বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারছেন, কোন পর্যায়ে শিলা পিছলাতে শুরু করে, ঘর্ষণ হ্রাসের সময় চাপ কীভাবে পরিবর্তিত হয়, ভূকম্পনের জন্মমুহূর্ত কত দ্রুত বিকশিত হয়। অদূর ভবিষ্যতে তাঁরা মাত্রা আরও বাড়িয়ে ১ মাত্রার কৃত্রিম ভূমিকম্প সৃষ্টি করার পরিকল্পনা করছেন।
গবেষণার নতুন দিশা (Earthquake)
পরীক্ষার পরবর্তী ধাপে গরম জল ফল্টে প্রবেশ করিয়ে দেখা হবে তাপমাত্রা পরিবর্তনে ভূমিকম্পের আচরণ কীভাবে বদলায়।
উষ্ণতা শিলার স্থিতিস্থাপকতা, ঘর্ষণ এবং চাপের উপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে। ফলে তাপমাত্রা ভূমিকম্পের বিবর্তনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভেরিয়েবল হতে পারে। এই পর্যবেক্ষণগুলো ভবিষ্যতে ভূমিকম্পের পূর্বাভাস উন্নত করতে অসাধারণ ভূমিকা রাখবে।
আরও পড়ুন: MEPSC: প্রি-স্কুল ট্রেনিং-এ ভারতীয় শিক্ষাব্যবস্থার সংযোজন, মৌ স্বাক্ষরিত হল MEPSC ও BRC-র মধ্যে
এই গবেষণার সম্ভাব্য সুফল
FEAR প্রকল্প কেবল আল্পস অঞ্চলের নয়, সমগ্র পৃথিবীর ভূমিকম্প অধ্যয়নে বিপ্লব আনতে পারে।
এই গবেষণার সম্ভাব্য সুফলগুলির মধ্যে রয়েছে,
বিপজ্জনক ফল্টগুলি চিহ্নিত করা
কোন ফল্ট কতটা শক্তি জমাতে সক্ষম এবং কোনটি বেশি বিপজ্জনক এসব তথ্য আগেই জানা গেলে নির্মাণনীতি আরও নিরাপদ হবে।
ভূমিকম্পের পূর্ব সংকেত চিহ্নিতকরণ
মাইক্রো–কম্পনের আচরণ দেখে বৃহত্তর ভূমিকম্পের পূর্বাভাস আরও নির্ভুল হতে পারে।
বিজ্ঞানীদের নতুন পর্যবেক্ষণ সুযোগ
প্রাকৃতিক ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে আমরা কেবল ঘটনার পর বিশ্লেষণ করতে পারি, কিন্তু এখানে আমরা ভূকম্পনের জন্মের মুহূর্ত থেকে পুরো বিবর্তন পর্যবেক্ষণ করতে পারছি।
ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় অগ্রগতি
উচ্চঝুঁকিপূর্ণ শহরগুলি আগে থেকেই জানবে কোন ধরনের কম্পনে কী পরিমাণ ক্ষতি হতে পারে।



