Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রিয়েল-মানি গেমিং অ্যাপের রমরমা বাড়ছে দেশে (Online Gaming)। ঝকঝকে বিজ্ঞাপন, ঝুলন্ত সাইন-আপ বোনাস এবং “জিতুন লাখ টাকা” এমন বার্তাগুলো সাধারণ ব্যবহারকারীদের আরও আকৃষ্ট করে। অনেকেই ভাবেন, এই অ্যাপগুলি ব্যবহার করে অল্প পরিশ্রমেই আয় বাড়ানো যায়। কিন্তু সূত্রের খবর, বাস্তবে এই লোভনীয় দুনিয়ার আবরণের আড়ালে রয়েছে ক্ষতি, আসক্তি এবং আর্থিক ধ্বংসের এক গভীর অন্ধকার। এই ভয়াবহ বাস্তবতার চিত্র তুলে ধরেছেন সেবি-স্বীকৃত বিনিয়োগ উপদেষ্টা ও ‘সাহজ মানি’র প্রতিষ্ঠাতা অভিষেক কুমার। তিনি তাঁর লিংকডইন পোস্টে একের পর এক অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করে সতর্ক করেছেন সাধারণ মানুষকে।
‘সহজ টাকা’র লোভে ফাঁদ (Online Gaming)
সূত্রের খবর, অভিষেক কুমার জানান, এক ব্যবহারকারী মনে করেছিলেন রামি অ্যাপ ইনস্টল করলেই “সহজ টাকা” রোজগার সম্ভব। শুরুতে ছোটখাট জয়, কখনও ৫,০০০ টাকা কখনও ১০,০০০ টাকা এই ক্ষুদ্র সাফল্যগুলিই ছিল আসল ফাঁদ। কয়েকদিনের মধ্যেই তিনি বুঝতে পারেন, তিনি এমন এক দুষ্টচক্রের মধ্যে আটকে পড়েছেন, যেখান থেকে বের হওয়া অত্যন্ত কঠিন। অনেক ব্যবহারকারীর গল্প একই রকম, কেউ এক বছরে হারিয়েছেন ২ লাখ টাকা, এক স্কুলশিক্ষক ক্ষতি পোষাতে নিজের জমি বিক্রি করতে বাধ্য হন, একজন তরুণ, যার মাসিক আয় মাত্র ৫০,০০০ টাকা, ধার করে ধার করে টাকা ঢেলে গেছেন, শুধুমাত্র হারানো অর্থ উদ্ধার করার আশায়।
গেমিং কোম্পানির ভিতরের গোপন চালবাজি (Online Gaming)
অভিষেক কুমারের বক্তব্য অনুযায়ী, গেমিং কোম্পানিগুলোর ভেতরের কর্মীরা জানিয়েছেন কীভাবে এই অ্যাপগুলো ব্যবহারকারীদের ফাঁদে ফেলতে কাজ করে। যারা বেশি টাকা খরচ করে, তাদের বলা হয় “হোয়েলস”। এই হোয়েলদের প্রতিদিন ফোন করে আরও টাকা জমা দিতে উৎসাহ দেওয়ার জন্য বিশেষ টিম থাকে। অ্যাপের ডিজাইন করা হয় এমনভাবে, যাতে ব্যবহারকারীর মস্তিষ্কের ডোপামিন রিসেপ্টর ক্রমাগত উত্তেজিত থাকে।
অ্যাপের কৌশলগুলো (Online Gaming)
প্রথমে ইচ্ছাকৃতভাবে সহজ জয় দেখানো, পরে ধীরে ধীরে গেম কঠিন করা, বট ব্যবহার, যাতে প্রকৃত খেলোয়াড়ের জেতার সম্ভাবনা কমে যায়, ‘নিয়ার-মিস’ মুহূর্ত, যাতে মনে হয় “আর একটু হলেই জিততাম” লোভনীয় বোনাস ও ক্যাশব্যাক, এ সবই ব্যবহারকারীকে খেলার মধ্যে আটকে রাখার সুপরিকল্পিত কৌশল।
‘সাইড ইনকাম’ একটি বিপজ্জনক মিথ
অনেকেই ভাবেন, আর একটি কিংবা দু’টি রাউন্ড খেললেই সব ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যাবে। কিন্তু মানবমস্তিষ্ক ক্ষতিকে সহজে মেনে নিতে পারে না। অভিষেক কুমার জানান, “আপনার মস্তিষ্ক ক্ষতিকে সাময়িক ধাক্কা হিসেবে দেখে। এটাই আসল ফাঁদ।” তিনি তথ্য দেন, ৪৫ কোটি ভারতীয় মিলে ইতিমধ্যেই ২০,০০০ কোটি টাকারও বেশি হারিয়েছেন এই গেমিং অ্যাপের কারণে যে টাকা তারা কখনও জিততে পারতেন না।
ডে-ট্রেডিংয়ের সঙ্গে তুলনা (Online Gaming)
অভিষেক কুমারের মতে, রিয়েল-মানি গেমিংয়ের সঙ্গে উচ্চ ঝুঁকির ডে-ট্রেডিংয়ের মিল রয়েছে। স্টক মার্কেট অন্তত দীর্ঘমেয়াদে সম্পদ তৈরি করতে পারে। গেমিং অ্যাপ কোনো মূল্য তৈরি করে না। তিনি উল্লেখ করেন “গত বছর ৯১% F&O ট্রেডার ক্ষতি করেছেন। গেমিংও একই, শুধু এখানে শূন্য ভিত্তি।
আরও পড়ুন: SIR: কলকাতায় ফর্ম বিলিতে ধীরগতি, সতর্ক করল কমিশন!
ব্যান করাই সমাধান নয়
কিছু অ্যাপে সরকারের নিষেধাজ্ঞা জারি হলেও, সূত্রের খবর, অনেকেই গ্রে-মার্কেট অ্যাপ বা ভিপিএন ব্যবহার করে আবার খেলা শুরু করছেন। অভিষেক কুমারের মতে, শুধুমাত্র আইনগত নিষেধাজ্ঞা যথেষ্ট নয় ব্যবহারকারীর মানসিক সহায়তা, আর্থিক পরিকল্পনা, পরিবার ও সমাজের সহযোগিতা এসব জরুরি



