Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পশ্চিমবঙ্গে বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা (SIR) নিয়ে ক্রমেই তাপমাত্রা বাড়ছে রাজনৈতিক মহলে। একদিকে যেখানে বিরোধীরা এই উদ্যোগকে “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে দাবি করছে, অন্যদিকে শাসক শিবির বলছে- এটি কেবল প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, যাতে ভোটার তালিকা আরও স্বচ্ছ হয়। এই বিতর্কের মাঝেই নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, রাজ্যে SIR কার্যকর হলে সর্বসাধারণের সুবিধার্থে প্রতিটি জেলায় হেল্প ডেস্ক স্থাপন করা হবে।
হেল্প ডেস্ক (SIR)
সূত্রের দাবি, এই হেল্প ডেস্ক তৈরি হবে জেলা নির্বাচনী (SIR) আধিকারিক দফতর, ইআরও (Electoral Registration Office), এসডিও, এইআরও এবং বিডিও অফিস স্তরে। এর মূল লক্ষ্য হবে সাধারণ মানুষের সমস্যার দ্রুত সমাধান এবং ভোটার তালিকা সংক্রান্ত তথ্য যাচাই সহজ করা। কোনও নাগরিক যদি নাম সংশোধন, ঠিকানা পরিবর্তন বা ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে সমস্যায় পড়েন, তাহলে তারা সরাসরি এই হেল্প ডেস্কে যোগাযোগ করতে পারবেন।
যে কোনও মুহূর্তে রাজ্যে SIR শুরুর ঘোষণা (SIR)
এদিকে কমিশনের তরফে যে কোনও (SIR) মুহূর্তে রাজ্যে SIR শুরুর ঘোষণা আসতে পারে বলে জোর আলোচনা চলছে। কারণ, ইতিমধ্যেই “ম্যাপিং অ্যান্ড ম্যাচিং” প্রক্রিয়ার কাজ শেষ পর্যায়ে। ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে বর্তমান তালিকার তুলনামূলক বিশ্লেষণ চলছে, যাতে ভুয়ো নাম বা পুনরাবৃত্তি চিহ্নিত করা যায়। এই বিশ্লেষণেই উঠে এসেছে কিছু চমকপ্রদ তথ্য।
আশ্চর্যজনক অমিল
নির্বাচন দফতরের অভ্যন্তরীণ রিপোর্ট অনুযায়ী, কিছু জেলায় পুরোনো ও বর্তমান তালিকার মধ্যে আশ্চর্যজনক অমিল রয়েছে, আবার কিছু জেলায় মিলের হার তুলনামূলক বেশি। হাওড়ায় প্রায় ৩৮ শতাংশ নামের মিল পাওয়া গেছে, হুগলিতে ৫৬ শতাংশ, উত্তর ২৪ পরগনায় ৪১ শতাংশ এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৪৫ শতাংশ। কলকাতার দুই অংশের মধ্যে দক্ষিণ কলকাতায় মিলের হার ৩৫ শতাংশ, আর উত্তর কলকাতায় তা বেড়ে ৫৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
পশ্চিম মেদিনীপুরে ৬৪ শতাংশ, পূর্ব মেদিনীপুরে ৬৭ শতাংশ নামের মিল পাওয়া গেছে। উত্তরবঙ্গেও সমীক্ষায় কিছু আকর্ষণীয় তথ্য উঠে এসেছে -কোচবিহারে ৪৮ শতাংশ, আলিপুরদুয়ারে ৫৪ শতাংশ, কালিম্পংয়ে ৬৫ শতাংশ, আর মুর্শিদাবাদে ৫৬ শতাংশ নাম মিলে গেছে। বাঁকুড়ায় এই হার সবচেয়ে বেশি – প্রায় ৭৯ শতাংশ। অন্যদিকে পশ্চিম বর্ধমানে মিলের হার তুলনামূলকভাবে কম, মাত্র ৩১ শতাংশ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এত বিশদ তথ্য সংগ্রহ এবং মিলিয়ে দেখার প্রক্রিয়া ইঙ্গিত করছে যে নির্বাচন কমিশন এবার কোনওরকম গরমিল রাখতে রাজি নয়। আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সম্পূর্ণভাবে হালনাগাদ করা এবং ভুয়ো ভোটারদের শনাক্ত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।


