Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: নবীন শিল্পীদের পথচলার সঙ্গী, এই পরিচয়টুকুই আজ প্রাপ্য Social Media Literary Meeting (SMLM 2k25)-এর। কিন্তু এর মূল শেকড় খুঁজতে গেলে ফিরে যেতে হয় ২০১৯ সালে, যখন ডিজিটাল দুনিয়ার নতুন প্রজন্মকে সাংস্কৃতিক মঞ্চে তুলে ধরার এক স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলেন তরুণ উদ্যোক্তা সৌরভ বিশাই।

এক স্বপ্নের জন্ম (SMLM 2k25)
তখন সোশ্যাল মিডিয়া শুধু বিনোদনের জায়গা থাকেনি, হয়ে উঠছিল নতুন প্রতিভাদের পরিচয়ের ক্ষেত্র। অসংখ্য নবীন কবি, লেখক, আবৃত্তিকার, নৃত্যশিল্পী, সংগীতশিল্পী অনেকেই নিজের প্রতিভা দেখাচ্ছিলেন মুঠোফোনে বন্দি কয়েক সেকেন্ডের ভিডিওতে। কিন্তু প্রায় কেউই পাচ্ছিলেন না লাইভ মঞ্চে দাঁড়িয়ে নিজেদের প্রকাশ করার জায়গা। এই অভাব থেকেই সৌরভ বিশাই ভাবলেন, ডিজিটাল শিল্পীদের বাস্তব মঞ্চ দেব কেন না? এই ভাবনা থেকেই জন্ম নেয় Social Media Literary Meeting, যা আজ বাংলার অন্যতম বৃহৎ নবীন–উৎসব।

এক ঐতিহাসিক ঠিকানা (SMLM 2k25)
SMLM-এর প্রথম কয়েক বছরের প্রধান কেন্দ্র ছিল স্টার থিয়েটার, যার নাম পরে বদলে হয় “বিনোদিনী থিয়েটার”, বাংলার নাট্যসংস্কৃতির এক ঐতিহাসিক স্মৃতি রক্ষার্থে। এই থিয়েটারের অ্যাম্ফিথিয়েটার ছিল বহু নবীন শিল্পীর প্রথম বড় মঞ্চ। এখানেই দাঁড়িয়ে কেউ প্রথম আবৃত্তি করেছে, কেউ প্রথম নিজের লেখা কবিতা শুনিয়েছে, কেউ নেচেছে, কেউ নিজের লেখা বই প্রকাশের স্বপ্ন দেখেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বিনোদিনী থিয়েটারের রক্ষণাবেক্ষণের সমস্যার কারণে সেখানে অনুষ্ঠান করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছিল। তার ফলে সপ্তম বর্ষে এসে বাধ্য হয়েই SMLM কর্তৃপক্ষ স্থান পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়।
SMLM-এর বড় সাফল্য (SMLM 2k25)
আজকের তরুণরা শুধু সোশ্যাল মিডিয়ায় নয়, বাস্তবেও শিল্পকে ছুঁয়ে দেখছে। কেউ বই লিখছে ও নিজের বই নিজেই প্রকাশ করছে, কেউ শুরু করেছে ছোট প্রকাশনা, কেউ নাচের দল তৈরি করেছে, কেউ আবৃত্তির সংগঠন চালাচ্ছে, কেউ গান নিয়ে কাজ করছে প্রফেশনাল লেভেলে, এইসব প্রতিটি পদক্ষেপে পাশে ছিল SMLM, উৎসাহ, পরামর্শ, মঞ্চ ও পরিচিতির সুযোগ দিয়ে। সৌরভ বিশাই ও তার টিমের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় এই উৎসব আজ দাঁড়িয়ে গেছে নবীন শিল্পীদের নির্ভরতার জায়গা হয়ে।

সপ্তম বর্ষের মহাউৎসব (SMLM 2k25)
২৮ ডিসেম্বর ২০২৫, রবিবার
কলকাতা ইউনিভার্সিটি ইন্সটিটিউট সভাঘর (কলেজ স্কোয়ারের পাশে)
দুপুর ১টা – রাত ৮টা
এবার অনুষ্ঠান একদিনের হলেও আয়োজন থাকবে ঘনীভূত, সুনির্দিষ্ট ও মানসম্পন্ন।
যা যা থাকছে— (SMLM 2k25)
- একক নৃত্য পরিবেশনা
- সংগীত অনুষ্ঠান
- কবিতা পাঠ
- আবৃত্তি
- ফেসবুক পেজ ও সংগঠনগুলোর বিশেষ অংশগ্রহণ
- SMLM-এর মুখপত্র ‘মালঞ্চ পত্রিকা’-র প্রকাশ
যেহেতু সময় সীমাবদ্ধ, তাই প্রতিটি পরিবেশনার সময় হবে কঠোরভাবে নির্ধারিত,
কিন্তু শ্রেষ্ঠটুকু তুলে ধরার প্রতিশ্রুতি থাকবে আগের মতোই।

অংশগ্রহণের আবেদন ফর্ম প্রকাশিত (SMLM 2k25)
ফেসবুক পেজ / বাচিক দল / নৃত্য সংগঠন—
যারা প্রতি বছর SMLM-এ অংশগ্রহণের জন্য অপেক্ষায় থাকেন তাদের জন্য উন্মুক্ত হল অনলাইন আবেদন ফর্ম।
শেষ তারিখ: ৫ ডিসেম্বর ২০২৫
ফর্ম লিংক: https://forms.gle/HZn6p5CL2dqtQpFt7
আরও পড়ুন: Natungram: কীভাবে টিকে রইল নতুনগ্রামের কাঠপুতুল শিল্প?
“বছর শেষ জমবে শেষ”
২০১৯ সালে সৌরভ বিশাই যে ছোট্ট বীজটি পুঁতেছিলেন, তা আজ এক বিশাল বৃক্ষে পরিণত হয়েছে। সেই বৃক্ষের ছায়ায় আশ্রয় পেয়েছে হাজারো স্বপ্ন, অসংখ্য প্রথম-চেষ্টা, বহু নবীন শিল্পীর প্রথম মঞ্চে দাঁড়ানোর সাহস। SMLM প্রমাণ করেছে মঞ্চ বলতে শুধু আলো-ঝলমলে কাঠামো নয়, মঞ্চ বলতে মানুষের বিশ্বাস, পারস্পরিক হাতে হাত রেখে এগিয়ে যাওয়া, এবং একসঙ্গে সৃষ্টির আনন্দ ভাগ করে নেওয়া। আজকের প্রজন্ম কেবল স্মার্টফোনে সীমাবদ্ধ থাকছে না তারা বই লিখছে, প্রকাশনা করছে, নৃত্যদল গড়ছে, সংগীতচর্চায় নতুন মাত্রা যোগ করছে, আবৃত্তির নতুন ধারায় পথ দেখাচ্ছে। আর এই প্রতিটি জাগরণের পাশে নীরবে দাঁড়িয়ে থেকেছে SMLM উৎসাহ দিয়ে, সুযোগ দিয়ে, পরামর্শ দিয়ে, মঞ্চ দিয়ে। থিয়েটারের নাম পাল্টেছে, স্থান বদলেছে, সময় সীমিত হয়েছে—কিন্তু SMLM-এর মূল দর্শন কখনও বদলায়নি। কারণ এর ভিতর কাজ করে একটাই বিশ্বাস, “প্রতিটি প্রতিভা মূল্যবান, আর প্রতিটি স্বপ্ন মঞ্চ পাওয়ার যোগ্য।”



