Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মহাষ্টমীর পুণ্যতিথিতে হাজরা পার্কের পুজো মণ্ডপে সন্ধ্যা আরতিতে অংশ নিলেন তৃণমূলের বর্ষীয়ান বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় (Sovandeb Chattopadhyay)। ধর্মীয় আবহে মগ্ন হয়ে দেবীর সামনে প্রার্থনা করেন তিনি। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শোভনদেব জানান, রাজ্যের সাধারণ মানুষ ভালো নেই। তাই মায়ের কাছে রাজ্যবাসীর শান্তি, মঙ্গল ও সুস্থতা কামনা করেছেন তিনি।
জোড়াফুলের স্বীকৃতির জন্যও প্রার্থনা (Sovandeb Chattopadhyay)
শুধু মানুষের মঙ্গল নয়, নিজের দলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও মায়ের কাছে প্রার্থনা করেছেন বলে জানান শোভনদেব। তাঁর কথায়, অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস এবং দলের পরিচিত জোড়াফুল প্রতীক যেন নির্বাচন কমিশনের স্বীকৃতি পায়, সেই প্রার্থনাও করেছেন তিনি। ফলে ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকেই উঠে আসে দলের প্রতীক ও রাজনৈতিক অস্তিত্বের প্রসঙ্গ।
‘সনাতনী’ দাবিকে ঘিরে বিজেপিকে কটাক্ষ (Sovandeb Chattopadhyay)
এরপরই বিজেপিকে নিশানা করেন তৃণমূলের এই বর্ষীয়ান নেতা। নিজেদের সনাতনী এবং হিন্দুত্বের ধ্বজাধারী হিসেবে তুলে ধরা বিজেপি নেতাদের তীব্র আক্রমণ করে শোভনদেবের দাবি, রাজ্য বিজেপির যে নেতারা নিজেদের সনাতনী বলে দাবি করেন, তাঁরা প্রকৃত অর্থে সনাতনী বা হিন্দু নন। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের আবহ তৈরি হয়েছে।
পুজো কমিটি দখল ও বুকস্টল ভাঙা নিয়ে ক্ষোভ
পুজো কমিটি দখলের অভিযোগ এবং বামেদের বুকস্টল বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেওয়ার ঘটনাতেও সরব হন শোভনদেব। তাঁর অভিযোগ, পুজোর মতো সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উৎসবকে রাজনৈতিক দখলদারির হাতিয়ার করা উচিত নয়। একইসঙ্গে বিরোধী মতের সাংস্কৃতিক পরিসরে হস্তক্ষেপের ঘটনাকেও তিনি তীব্র ভাষায় নিন্দা করেন।
চোরবাগান কাণ্ড নিয়েও প্রশ্ন (Sovandeb Chattopadhyay)
মহাষ্টমীর আনন্দের মধ্যেও চোরবাগানের মর্মান্তিক পদপিষ্টের ঘটনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। ওই ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যুর প্রসঙ্গ তুলে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শোভনদেব। তাঁর বক্তব্য, এত বড় মর্মান্তিক ঘটনার পর মানুষের নিরাপত্তা ও দায়বদ্ধতাই হওয়া উচিত প্রধান বিষয়।
আরও পড়ুন: Tiger Shroff: ‘মুম্বইয়ে দাদাগিরি চলবে না’, টাইগার শ্রফের সঙ্গে দেখা করে কড়া বার্তা শিন্দের
‘খুশি’ মন্তব্য নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে তীব্র আক্রমণ
চোরবাগান দুর্ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্য নিয়েও সরাসরি প্রশ্ন তোলেন শোভনদেব। তাঁর অভিযোগ, মৃতদের পরিবার মুখ্যমন্ত্রীর উপর আস্থা রেখেছে—এই কারণে মুখ্যমন্ত্রী ‘খুশি’ হয়েছেন বলে যে মন্তব্য করেছেন, তা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। ১৯ জন মানুষের প্রাণহানির মতো মর্মান্তিক ঘটনার পর কীভাবে এমন মন্তব্য করা সম্ভব, সেই প্রশ্নই তুলেছেন তিনি। মহাষ্টমীর সন্ধ্যায় হাজরা পার্কের আরতি তাই ধর্মীয় আবহের পাশাপাশি তীব্র রাজনৈতিক বার্তারও মঞ্চ হয়ে উঠল।



