Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সোমবারে ভারতীয় শেয়ার বাজারে বড় ধস নেমেছে (Stock Market Crash)। তার পিছনে রয়েছে মূলত ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিশ্ববাজারের নেতিবাচক প্রভাব এবং অর্থনৈতিক চাপ কাজ করেছে। সেনসেক্স ও নিফটি ৫০—উভয় বেঞ্চমার্ক সূচকই এক দশমিক তিন-সাত শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে এবং এর ফলে বিনিয়োগকারীদের আনুমানিক ৬ লক্ষ কোটি টাকার সম্পদ বিনষ্ট হয়েছে।
বাজার সূচক ও প্রধান প্রভাব (Stock Market Crash)
সকালের ট্রেডিং সেশনে বাজারের সবকটি প্রধান সূচকেই ব্যাপক দরপতন লক্ষ্য করা গেছে। সেনসেক্স ১,০১৫ পয়েন্ট বা ১.৩৭ শতাংশ কমে ৭২,৮৮০ পয়েন্টে নেমে এসেছে এবং নিবন্ধিত ৩০টি কোম্পানির সবকটির শেয়ারই লাল সংকেতে লেনদেন হচ্ছে। অন্যদিকে নিফটি ৫০ সূচক ৩১৭ পয়েন্ট বা ১.৩৭ শতাংশ কমে ২২,৮২৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে। তাছাড়া মিডক্যাপ ও স্মলক্যাপ সূচক উভয় ক্ষেত্রই ১ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে। খাতের দিক থেকে ব্যাঙ্কিং, রিয়েলটি, ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস, ক্যাপিটাল মার্কেট, ডিফেন্স এবং এফএমসিজি খাতে সবচেয়ে বেশি পতন দেখা গিয়েছে। কোম্পানির শেয়ারের ক্ষেত্রে বাজাজ ফিন্যান্স, কোটাক মাহিন্দ্রা ব্যাঙ্ক এবং এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের শেয়ার দর ২ শতাংশের বেশি কমেছে, পাশাপাশি বাজাজ ফিনসার্ভ, হিন্দুস্তান ইউনিলিভার, আইসিআইসিআই ব্যাঙ্ক এবং মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রার শেয়ার দর ১ শতাংশের বেশি পড়েছে।
তেলের দাম বৃদ্ধি (Stock Market Crash)
হরমুজ প্রণালী সংকট নিরসনে ইরানের সাথে আলোচনার প্রস্তাব মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাবে বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০৫ ডলার অতিক্রম করেছে। ইক্যুইনমিক্স রিসার্চের জি চোক্কালিঙ্গম জানান, তেলের উচ্চমূল্য ভারতে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে, যা ঘরোয়া বাজারে তীব্র নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
টাকার পতন (Stock Market Crash)
ক্রুড অয়েল ও সোনার বাজারে অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলার শক্তিশালী হয়েছে। এর ফলে ভারতীয় টাকা ১৪ পয়সা কমে ডলার প্রতি ৯৫.৮৯ টাকায় নেমে এসেছে। এলকেপি সিকিউরিটিজ-এর যতীন ত্রিবেদী মনে করেন, ডলারের এই উত্থান এবং টাকার অবমূল্যায়ন দালাল স্ট্রিটে নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করেছে।
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের পুঁজি প্রত্যাহার (Stock Market Crash)
আন্তর্জাতিক অনিশ্চয়তার কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় বাজার থেকে দ্রুত মূলধন গুটিয়ে নিচ্ছেন। জিওজিৎ ইনভেস্টমেন্টের বিশ্লেষক ভি কে বিজয়কুমার উল্লেখ করেছেন যে, গত ট্রেডিং সেশনে ফরেন পোর্টফোলিও ইনভেস্টররা একা ৩,৬৯১৪ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করে বের হয়ে গেছেন, যা পতনের গতিকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।
বিশ্বজুড়ে শেয়ার বাজারের দুর্বলতা (Stock Market Crash)
এশিয়ার অন্যান্য প্রধান বাজার যেমন দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি, জাপানের নিক্কেই এবং চীনের সাংহাই কম্পোজিট প্যানিক সেলিং ও পতনের মুখে পড়েছে। এর পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিটেও মন্দাভাব অব্যাহত থাকায় তার ঢেউ এসে পড়েছে ভারতের দালাল স্ট্রিটেও।
আরও পড়ুন: Asian Games Cricket: ফের কি আসছে সোনা? এশিয়ান গেমসের কোয়ার্টার ফাইনালে ভারতের সামনে আফগানিস্তান
বিনিয়োগকারীদের জন্য পরামর্শ (Stock Market Crash)
চলতি বাজার পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন আর্থিক বিশ্লেষকেরা (Stock Market Crash)। সার্বিক বাজার ধসের সময় তাড়াহুড়ো করে বা ভয়ে ভালো শেয়ার বিক্রি করে দিলে স্থায়ী লোকসানের মুখে পড়তে হতে পারে। এর বদলে পোর্টফোলিও পুনর্বিন্যাস করে তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল খাতের দিকে নজর দেওয়া যেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগকারীদের জন্য এ ধরনের দরপতন কম দামে ভালো শেয়ার বা ইউনিট সংগ্রহ করার একটি সুযোগ তৈরি করে, তাই নিয়মমাফিকভাবে এসআইপি চালিয়ে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।



